সর্বশেষ সংবাদ :

বাঘায় আ’লীগের সম্মেলনে সংঘর্ষের জের ধরে আবারও দু’জনকে মারপিট

স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় আ’লীগের সম্মেলন স্থলে সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে আবারও দু’পক্ষের দু’জনকে মারপিট করে আহত করা হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথকভাবে উপজেলার নারায়নপুর বাজার এবং কিশোরপুর গ্রামে এই মারপিটের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনকে রামেক হাসপাতাল ও আরেকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির পক্ষে বাঘা উপজেলা আ’লীলীগের সম্মেলনে লোকবল আনার জন্য ভুটভুটি গাড়ি ভাড়া দেওয়ার কারনে অপর সভাপতি প্রার্থী ও রাজশাহী জেলা আ’লীগের সদস্য বিতর্কিত আক্কাস আলীর লোকজন বুধবার সকাল ১১ টার দিকে কিশোরপুর এলাকায় তাকে মারপিট করে আহত করেন। আহত রতন আলী কিশোরপুর গ্রামের একরাম আলীর ছেলে। তাকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে ভর্তি করা করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আক্কাছ আলীর ছোট ভাই আকুল হোসেন উপজেলার নারায়নপুর বাজারে জেবু নামের এক ব্যক্তির সারের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির সমর্থকরা মাস্ক পরে তাকে মারপিট করে আহত করে বলে দাবি করেন আহত আকুল হোসেন। এ ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে ও পরে রামেক হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

উল্লেখ্য, সোমবার (২১ মার্চ) বেলা ১১ টায় উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন চলা অবস্থায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাঘা পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্কাস আলীর সমর্থকরা ঐ সভা মঞ্চের সামনে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে আক্কাস ভাই, আক্কাস ভাই বলে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির সমর্থকরা। এতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে আক্কাস আলী নিজে সহ তার বাহিনীর লোকজন সভা মঞ্চের চেয়ার ভাংচুর সহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায়। পরে মন্ত্রী পক্ষের লোকজন তাদের ধাওয়া করলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনে সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে উভয় পক্ষের কর্মী- সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় লোকজন বলছেন, আক্কাস আলী একজন প্রকৃত সন্ত্রাসী। ১৯৯৬ সালে আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কালো পতাকা দেখালে নেত্রী তাকে দল থেকে বহিস্কার করেন। পরে ২০০০ সালে তিনি ক্ষমা চাওয়ার মধ্য দিয়ে ফের দলে ফিরেন।

বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, সাবেক পৌর মেয়র আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে বিগত সময়ে বহুল আলোচিত বিবস্ত্র মামলা সহ একাধিক নারী নির্যাতন, সরকারী কাজে বাধা প্রদান, আদালতের নাজিরকে মারপিট, ধর্ষন, বলৎকার, জমি দখল, দুর্ণীতি, হোটেল ভাংচুর সহ ২১ টি মামলা ও ২৬ টি জিডি রয়েছে। সর্বশেষ ২১ মার্চ আ’লীগের সম্মেলন স্থলে তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে যে তান্ডব চালিয়েছেন তাতে সকল নেতা ও স্থানীয় লোকজন তার প্রতি ক্ষুব্ধ। এ ঘটনায় রাতে থানায় মামলা দায়েরের পর থেকে তিনি আতœগোপনে রয়েছে। পরবর্তী পৃথক দু’টি সংঘাতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ দেননি বলে তিনি জানান।


প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২২ | সময়: ৫:৫৩ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine