সর্বশেষ সংবাদ :

বাঘায় আ’লীগের সম্মেলনে সংঘর্ষে পৃথক দুটি মামলায় আসামী ৭৮২, গ্রেফতার ১

স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা : রাজশাহীর বাঘা উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনে সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুটি মামলায় ৮২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৭০০ জনকে আসামী করা হয়েছে। সোমবার রাতে এই মামলা দুটি দায়ের করা হয়। এর একটি মামলার বাদী পুলিশ , অপরটির বাদী হয়েছেন উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল। এই মামলায় শাওন হোসেন নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শাওন হোসেন উপজেলার জোতকাদিরপুর গ্রামের খোস মোহাম্মদ খসুর ছেলে। তিনি বিতর্কিত নেতা আক্কাস আলীর শীর্ষ ক্যাডার বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সরেজমিন সোমবার সভা মঞ্চের কাছ থেকে দেখা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাঘা পৌর সভার সাবেক মেয়র আক্কাস আলীর সমর্থকরা আ’লীগের সম্মেলনের মঞ্চের সামনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে আক্কাস ভাই আক্কাস ভাই বলে স্লোগান দিতে থাকেন। তখন তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির সমর্থকরা। এতে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এই ঘটনায় দুই পক্ষে ৩০ জন আহত হন। পরে রাতে নবনির্বাচিত উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিলবোর্ড এবং গেট ভাংচুর এর অভিযোগ এনে আক্কাস আলীকে প্রধান আসামী করে ৩৭ জনের নাম-সহ অজ্ঞাত নামা আরো ২০০ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।

অপর দিকে বাঘা থানা পুলিশ সভা মঞ্চের সামনে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে অনাধিকার ভাবে লাটি সোটা নিয়ে সভা মঞ্চে হামলা ও পুলিশ সহ একই দলের কর্মী-সমর্থক এবং পুলিশকে মারপিট ও চেয়ার ভাংচুরের অভিযোগে বাদি হয়ে ৪৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এ মামলাতেও প্রধান আসামী রয়েছেন ১৯৯৬ সালে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে কালো পতাকা দেখিয়ে দল থেকে বহিস্কার হওয়া এবং একাধিক মামলার আসামী ও বিতর্কিত নেতা আক্কাস আলী।

আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, সাবেক সাংসদ সদস্য বেগম আখতার জাহান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজশাহী জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার, রাজশাহী জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা (সাবেক এমপি), সহ সভাপতি আমানুল হাসান দুদু , যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দীন লাভলু ও রাজশাহী মহানগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ।

উল্লেখ্য, সোমবার (২১ মার্চ) বেলা ১১টায় উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে দু’পরে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশসহ ৩০ নেতাকর্মী আহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য এগিয়ে গেলে পুলিশের পিকআপ ভাংচুর করা হয়। এ সময় পুলিশ ১৫/২০ রাউন্ড টিয়ারসেল ছোঁড়ে। পরক্ষনে পরিস্থিতি শান্ত হলে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে সভাপতি হন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আশরাফুল ইসলাম বাবুল ।

এ বিষয়ে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল বলেন, এবারের সম্মেলনে আক্কাস আলী সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। তিনি পরাজয় নিশ্চিত বুঝে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে অনাধিকার ভাবে শান্তিপূর্ণ সম্মেলনে প্রবেশ করে আ’লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে অনেক নেতাকর্মীকে মারপিট করে আহত করেন। তারা চেয়ে ছিলো যে কোন ভাবে সম্মেলন পন্ড করতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি পারেননি। ঘটনার এক পর্যায় তার লোকজন নিয়ে সভাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাঘা পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্কাস আলী বলেন, সম্মেলন আমার নেতাকর্মীদের নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে মঞ্চের সামনে এগিয়ে যায়। তখন আমাকে কোন সম্মান না করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর লোকজন বাধা দেয়। এতে করে সংঘর্ষ বাধে। এ বিষয়ে আমিও আইনী ব্যবস্থা নিব।

বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন স্থলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশের একটি পিকআপ গাড়ী ভাংচুর সহ পাঁচজন পুলিশকে মারপিট করে আহত করেছে আক্কাস বাহিনীর লোকজন। পরক্ষনে আমরা তার পক্ষের এক যুবলীগ নেতা শাওনকে আটক করি এবং মঙ্গলবার সকালে আদালতের প্রেরণ করি। অন্য আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


প্রকাশিত: মার্চ ২২, ২০২২ | সময়: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine