Daily Sunshine

ব্যস্ত জীবনে স্বস্তি মিলছে অনলাইন কেনাকাটায়

Share

স্টাফ রিপোর্টার : প্রযুক্তির বিকাশ ও সময়ের পালাবদলে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাপনের ধরন। প্রযুক্তির কল্যাণে স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে চলে আসায় এর প্রভাব পড়ছে কেনাকাটা থেকে শুরু করে মানুষের যাবতীয় সকল কাজকর্মে। অনলাইন কেনাকাটা সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক হওয়ার ফলে সারা বিশ্বের মানুষ কেনাকাটার জন্য অনলাইনের ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে উঠছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, শখের ইলেকট্রিক গ্যাজেট থেকে শুরু করে কোরবানির পশু পর্যন্ত সকল কেনাকাটাই এখন হচ্ছে অনলাইনে।

মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো। ই-কমার্সের প্রসার মানুষের জীবনকে আরও সহজ করে তুলছে। ব্যস্ত জীবনে মাসের বাজার কিংবা প্রয়োজনীয় পণ্যের খোঁজে বের হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইন কেনাকাটা পদ্ধতি সুবিধাজনক হওয়ায় মানুষ ঘরে, অফিসে অথবা পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে বসে মোবাইলে কয়েক ট্যাপে অনলাইনে অর্ডার করতে পারছেন যেকোন পণ্য। ক্রেতাদের সুবিধার্থে বিক্রেতারা ওয়েবসাইটে তাদের পণ্যের বিস্তারিত বিবরণী ও ছবি/ভিডিও প্রদান করে থাকেন, যা দেখে কোন দ্বিধা ছাড়াই সহজে ক্রেতারা পণ্য অর্ডার করতে পারেন। আবার, অনলাইন অর্ডারে পণ্য হাতে পেতে যেমন ক্রেতাকে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়না, মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রেও ক্রেতাকে কোনরূপ ঝামেলা পোহাতে হয় না। বেশিরভাগ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মেই ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে, ঘরের দোরগোড়ায় পণ্য এলে মানিব্যাগ খোঁজার প্রয়োজনও হয়না।

একটা সময় ছুটির দিন ছাড়া কেনাকাটা করতে ঘর থেকে বের হতে মানুষকে, বিশেষ করে যারা চাকরিজীবী, তাদের বেশ বেগ পেতে হতো। ই-কমার্সের কল্যাণে এখন সপ্তাহের সাত দিন, যেকোন সময় যেকোন ধরনের পণ্য অর্ডার করা সম্ভব ঘর থেকে বের না হয়েই। বিভিন্ন বড় বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে চ্যাটবট সুবিধা থাকায় ক্রেতারা তাদের সকল জিজ্ঞাসার উত্তর তাৎক্ষণিকভাবে পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে, অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সময় সাশ্রয় হচ্ছে।

ই-কমার্স খাত শুধু ক্রেতাদেরই নয়, বিক্রেতাদের ব্যবসার ধরনেও এনেছে পরিবর্তন। অনলাইনে ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হওয়ায় দোকান ভাড়া নেয়ার ও কর্মচারি রাখার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাচ্ছে, যাতে বিক্রেতারা লাভবান হচ্ছেন। মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যকে প্রাধান্য দিয়ে বিক্রেতারা ব্যবসাকে মূলত ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের আওতাভুক্ত করছেন। পণ্য উৎপাদন, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে ক্রেতার হাতে পণ্য পৌঁছে দেয়ার পুরো প্রক্রিয়া এখন ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর এআই প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রেতাদের জন্য কেনাকাটাকে সুবিধাজনক করে তুলেছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ক্রেতারা লক্ষাধিক পণ্যের মধ্যে তাদের পছন্দসই পণ্য সহজেই খুঁজে পাচ্ছেন ই-কমার্স সাইটে। আবার, বিক্রেতারাও এআই ও ডেটা অ্যানালিটিক্সের সাহায্যে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার কাছে সহজেই পৌঁছাতে পারছেন।
ক্রেতাদের কেনাকাটায় আরও উন্নত অভিজ্ঞতা প্রদানে প্রায়শই বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন ছাড় ও ভাউচার সুবিধা প্রদান করে থাকেন। ফলে, অনেক পণ্যই নিয়মিত বাজারদর থেকে অনেক কম মূল্যে কেনার সুযোগ পাওয়া যায়। এজন্য ক্রেতারা অনলাইনে কেনাকাটা করতে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

অনলাইন কেনাকাটা স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক হওয়ার জন্য বড় বড় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দারাও এখন হরহামেশাই অনলাইনে পণ্য অর্ডার করছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজ সারা দেশের ক্রেতাদের কেনাকাটার সুবিদার্থে দেশের ৬৪ জেলায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী ক্রেতারা যাতে এক জায়গা থেকে সহজে কিনতে পারেন এজন্য দারাজ নিয়ে এসেছে ডি-মার্ট। ডি-মার্ট থেকে ক্রেতারা বিভিন্ন ছাড় ও অফারে মুদিপণ্য, বেবি কেয়ার, বিউটি কেয়ার প্রোডাক্ট সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন।

অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে বর্তমানে স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্যবসায়ীদের এ ব্যাপারে তাই বিশেষ নজর দেয়া এবং সর্বোচ্চ ক্রেতা সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে অর্ডার এবং ডেলিভারি প্রক্রিয়া আরও সহজ করে তোলায় মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।

 

 

সানশাইন/২৭ সেপ্টেম্বর/রনি

সেপ্টেম্বর ২৭
২০:৩২ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]