Daily Sunshine

ফিড মিলের দুর্গন্ধে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ; দূর্ভোগে এলাকাবাসী

Share

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘিতে মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরির ফলে দুষিত বাতাসের দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে গোল্ডেন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এন্ড ফিড মিলের বিরুদ্ধে। উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নে সান্দিড়া গ্রামের সাইলো রোড কুলিপাড়া বাজার এলাকায় অবস্থিত এই মিলটি। এই ফিড মিলের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেন। তিনি নওগাঁ জেলার শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এলাকাবাসী দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে একাধিক বার ওই মিলের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেনকে জানালেও এখনো কোন প্রতিকার পাননি তাঁরা। ফলে প্রতিনিয়ত এই পঁচা দুর্গন্ধের মধ্যে দিয়ে জীবন যাপন করছেন পথচারীসহ এলাকাবাসী।

জানা যায়, গোল্ডেন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এন্ড ফিড মিলে মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরির জন্য বিভিন্ন উপকরণ ডিআরবি ব্যান্ড, ময়দা আটা, ভুট্টা, আতব ব্যান্ড, শুটকি মাছ, খৈল, ঝিনুক ব্যবহার করে। সেই মিল থেকে গরম হাওয়া বের করার জন্য গ্যাস ফ্যান লাগানো রয়েছে। এতে করে বাহিরে বাতাসের সাথে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দুষিত হওয়ায় এলাকায় বসবাস করা অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধের কারনে শ্বাস- প্রাশ্বাস, এলার্জি, এ্যাজমা, মাথাঘোরা, বমিসহ বিভিন্ন রোগের আশঙ্কায় ভুগছে জনসাধারণ। শুধু তাই নয় জ্বালানি হিসাবে ওই মিলের সামনে বিভিন্ন জাতের বনজ গাছ বা গাছের ডালের স্তুপ (বোঝা) দেওয়া আছে। সেসব গাছের কাঠ পুড়ালে কালো ধোয়া চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আশেপাশের ফসলি জমিসহ পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিলটির ২০০ মিটারের মধ্যে রয়েছে ৮-৯ পরিবার ও সাইলোর স্টাফদের কোয়ার্টার। আরও রয়েছে কুলিপাড়া বাজার ৫টি খাবারের হোটেল, একটি হাই স্কুল, একটি বাচ্চাদের কিন্ডার গার্ডেন স্কুল ও একটি মাদ্রাসা। শুধু তাই নয় কাজীপুর, তাঁরাপুর, কাশীপুরসহ মাঝে মাঝে মালশন গ্রামের লোকজন এই ফিড মিলের পাশ দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্বেও দূর্গন্ধ থেকে রেহায় পাচ্ছেন না জনসাধারণ। এলাকাবাসী এ বিষয়ে মিল স্বত্বাধিকারীকে অভিযোগ করে জানালেও তিনি কোন গুরুত্ব দেননা। বরং তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়াই অবাধে ফিড মিলের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলে পথচারীসহ এলাকাবাসী নিরুপায় হয়ে ওই ফিডমিলের দূষিত দূর্গন্ধের মধ্যে দিয়েই প্রতিনিয়ত জীবন যাপন করছেন।

দিত্বীয় শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাত ইয়াসমিনের মা বলেন, এই দূর্গন্ধের জন্য একদিন আমার মেয়ে অনেকবার বমি করে অসুস্থ হয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিল। তারপর যতক্ষণ ওই এলাকায় থাকি নাক-মুখে কাপড় দিয়ে থাকতে হয়। আমাদের বড়দের যদি সমস্যা হয় দূর্গন্ধের মধ্যে দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস নিতে। তাহলে ভাবুন কতটা অসুবিধা হয় বাচ্চাদের।

স্থানীয় এক দোকানী সেলিম রেজা বলেন, বাজার থেকে ফিড মিলের দুরত্ব ২০০ মিটার। আর বাতাসের মাধ্যমে পঁচা দূর্গন্ধ সমস্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে ওই দূর্গন্ধের জন্য বাজারে থাকা কঠিক ও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। লোকজন সারাদিন কাজ শেষে বাজারে আড্ডা দিতে চা বা কিছু খাবার খেতে আসলে দূর্গন্ধের জন্য বেশিক্ষণ থাকতে পরেনা। তাছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সকলের খুব কষ্ট হয়। তাই বাজার ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যায় লোকজন। ওই ফিড মিলের কারনে এমন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় সকলের। স্থায়ী একটা সমাধান হলে জনসাধারণের খুব সুবিধা হবে বলে মনে করি।

গোল্ডেন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এন্ড ফিড মিলের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পরে তার ছেলে রাসেলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, গাড়িতে মালামাল উঠানো নামানোর সময় শুটকি মাছের জন্য একটু গন্ধ বেড় হয়। তবে বাজার বা রাস্তার দিকে গ্যাস ফ্যান দেওয়া হয়নি। আমি ওখানে ৫ বছর ধরে ছিলাম এত দুর্গন্ধ কোথায়? পরিবেশ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, ট্রেড লাইসেন্স এসব ছাড়পত্র বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে তিনি বলেন, মিল চালানোর শুরু থেকে সকল প্রকার ছাড়পত্র নেওয়া আছে।

এ বিষয়ে বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ বলেন, এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে একটা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর গোল্ডেন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এন্ড ফিড মিলের ছাড়পত্র নেওয়া আছে নাকি তা আমার জানা নেই।

আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্রাবণী রায় বলেন, এ বিষয়ে জানা ছিলো না, আপনার মাধ্যমে জানলাম। কেউ কোন অভিযোগ ও দাখিল করেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

সেপ্টেম্বর ২২
১২:৪৭ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]