Daily Sunshine

আনন্দ উল্লাসে ক্লাসে শিক্ষার্থীরা

Share

শাহ্জাদা মিলন

৫৪৪ দিন শেষে আবারো স্কুল ড্রেস পড়ে স্বশরীরে শিক্ষার্থীরা স্কুলে কলেজে । করোনার বিভীষিকাময় সময়ে কিছুটা হলেও প্রাণের সঞ্চার সৃষ্টি হলো আজ থেকে। দেশে করোনার প্রকোপ কমার পর থেকেই স্কুল কলেজ খোলার দাবিতে প্রতীকি ক্লাস, রাজপথে মানববন্ধন হয়েছে বিভিন্ন স্থানে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে সুদূর প্রসারি প্লানিংয়ের কারন ও ১৬ বছরের নীচে টিকা দেয়ার সুযোগ না থাকায় দেয় বছর পর আজ রবিবার থেকে খুলে গেলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

এদিকে বিভিন্ন স্কুলগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাশে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা পড়াশুনায় মনোযোগী ছিলেন।

রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল কলোনী উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এসেছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে। বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় পাঠদান করাচ্ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক মজিবুর রহমান। ছাত্রছাত্রীদের দেখা গেছে নির্দিষ্ট দুরুত্ব মেনে ক্লাশে মনোযোগী হতে। এসএসসি ২০২২ সালের শিক্ষার্থীদের ব্যবসায় উদ্যোগ পড়াচ্ছিলেন তিনি।

শিক্ষক মজিবুর রহমান জানান, কতোদিন পর আমার সন্তানদের নিয়ে ক্লাশে আমি। আজ আমার ঈদের দিন। একজন শিক্ষকের কাছে আজকের চেয়ে খুশি অন্য কোন দিন হতে পারেনা। আজকের ক্লাশ করানোর মধ্যে দিয়ে আবারো কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ক্লাশে পাঠ্যদানের মাধ্যমে আমাদের নতুন জীবন তৈরি হলো বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

সহকারী প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বললেন একটু ভিন্ন ভাবে, তিনি জানান, যে অবস্থা তৈরি হয়েছিলো তাতে বেঁচে থাকতে পারবো কিনা সেটা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। তবে আল্লাহ পাকের অশেষ দয়ায় আমরা সুস্থ আছি। নিয়মিত এ্যাসাইনমেন্ট করিয়েছি শিক্ষার্থীদের। সামনে এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করছি যাতে আবারো ভালো ফলাফল করে বিদ্যালয়ের সুনাম অর্জন করাতে পারে।

শিরোইল কলোনী উ”চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন প্রামানিক বলেন, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব দেড় বছর ধরে করোনা মহামারিতে আক্রান্ত। এখন প্রায় ৮% এ নেমে এসছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রচেষ্টায় আজ থেকে স্কুল কলেজ খুলে দেয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সাথে ঔতোপ্রোতভাবে জড়িত। ফুল বাগানে ফুল ফুটলে যেমন সুন্দর লাগে, শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসলে ঠিক তেমন লাগে আমাদের। করোনার ভয়াভহতা কাটিয়ে আবারো শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্য পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হবে এই আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক আরো জানান, প্রতিটি শিক্ষক মুখিয়ে আছে ক্লাশ নেয়ার জন্য। আজ সকলেই উপস্থিত হয়েছেন বিদ্যালয়ে। ছাত্রছাত্রীরা এসছেন স্বতস্ফুর্ত ভাবে। কোন শিক্ষার্থী যদি মাস্ক আনতে ভুলে যায় সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জায়গায় মাস্ক রাখা হয়েছে সেখান থেকে সংগ্রহ করতে পারবে তারা।

আজ বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে আসেন রাজশাহীর ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন। তিনি বলেন, আমি নিজেও এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। আজ বিদ্যালয় খুলেছে, খুশির খবর। তবে আপনারা অবশ্যই মাস্ক পড়বেন, বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস করবেন। সামাজিক দুরত্ব অবশ্যই বজায় রাখবেন।

সানশাইন / শামি

 

সেপ্টেম্বর ১২
১৩:৩৮ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]