Daily Sunshine

বাঘায় বানভাসিদের মাঝে যাচ্ছে ত্রাণ

Share

স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা : রাজশাহীর বাঘার পদ্মার চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত চকরাজাপুর ইউনিয়নে বানভাসিদের মাঝে পর্যায় ক্রমে দেয়া হচ্ছে সরকারী সহায়তা।সর্বশেষ মঙ্গলবার(৩১ আগষ্ট) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪,৫,৬,৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড-এ মোট ২ হাজার ৫০০ পরিবারের মাঝে ১২.৫ মে: টন চাল, ২.৫ টন আলু, ২.৫ টন লবন সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে লক্ষ করা গেছে, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে বাঘার চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে করে চরাঞ্চলের ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলিন হওয়া-সহ প্রায় ১৪ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করেছে। এ অবস্থায় তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সরকারের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয় সহ স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা প্রশাসন এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শাহরিয়ার আলম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সরকারি এবং ব্যাক্তি উদ্যোগে ছয় দফা ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে বানভাসিদের মাঝে ।সর্বশেষ মঙ্গলবার ফের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন বাঘা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামিম আহাম্মেদ।এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আনছার ভিডিপি কর্মকর্তা মিলন কুমার দাস ও চকরাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল আযম সহ উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারি বৃন্দ।

চরাঞ্চলের চকরাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল আযম জানান, গত প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে করে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে তাঁর ইউনিয়নের প্রায় ১৪ হাজার মানুষ-সহ গড়গড়ি ইউনিয়নের তিন শত পরিবার। এ ছাড়াও পানির মধ্যে অবস্থান করছে ৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ।পদ্মার ক্রমাগত ভাঙ্গনে প্রায় ৯ শ’বিঘা ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। তবে এই মুহুর্তে ভাঙ্গন নেই। এখন শুধু থৈ-থৈ পানি। অনেকেই ঘরের মধ্যে চৌকির পরিবর্তে বাঁসের ঘুটি দিয়ে মাঁচান তৈরী করে সেখানে বসবাস করছেন। আবার কেউ-কেউ সাপের ভয়ে নিরঘুম রাত কাটাচ্ছে। আবার অনেকেই ইতোমধ্যে ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে উচু জায়গায় গিয়ে বাড়ি করেছেন।এমতাবস্থায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট।

তবে চকরাজাপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি বাবলু দেওয়ান যানান, গত দুই-তিনদিন ধরে পানি আগের চেয়ে কিছুটা কমের দিয়ে।যদি পুনরায় পানি না বাড়ে তাহলে চরের মানুষের দু:খ লাঘব হবে।আর যদি পানি বৃদ্ধি পায়, তাহলে পর্যায় ক্রমে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রাখতে হবে।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতান বলেন, গত মাসের ১৭ তারখি রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে চরাঞ্চলের নদী ড্রেজিং এবং কয়েকটি ট্রি বাধ বাবদ ৩ শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এ বছর পানি কমার পরে এই কাজ শুরু হবে। এতে করে আসা করা যায়, সামনের বছরের চরাঞ্চলের মানুষদের এমনি ভাবে আর বন্যার কোবলে পড়তে হবেনা।

সেপ্টেম্বর ০১
১০:২৬ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]