Daily Sunshine

বগুড়া শেরপুরে করোনার কারণে শতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধের উপক্রম 

Share

মিন্টু ইসলাম (শেরপুর বগুড়া) প্রতিনিধিঃ করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রভাবে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় শতাধিক কিন্ডারগার্ডেন স্কুল বন্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রায় দেড়বছর যাবত বেতনভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে এর সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী। শেরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

 

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে উপজেলার গ্রামেগঞ্জে মিলিয়ে প্রায় দেড়শতাধিক কিন্ডারগার্ডেন স্কুল গড়ে উঠেছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এসব কিন্ডারগার্ডেন স্কুল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের পারভবানীপুর বাজারে ২০১৮ সালে গড়ে উঠেছিল সততা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। কিন্তু করোনার প্রভাবে শিক্ষা কার্যক্রম না থাকায় সেটি এখন ব্যবসা-কারখানায় পরিণত হয়েছে। বিদ্যালয়টির পরিচালক এনামুল হক জানান, কয়েকজন মিলে আমরা অনেক স্বপ্ন নিয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ছাত্রছাত্রী হারিয়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে তা ভাড়া দিয়েছি।

 

উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের দুটি কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের মধ্যে একটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে আরেকটিতে ঝুলছে নামে মাত্র সাইনবোর্ড। মির্জাপুর বাজার এলাকার আইডিয়াল কিন্ডারগার্ডেন স্কুল চত্বর আগাছা জঙ্গলে পরিপুর্ণ হয়ে গেছে। একই অবস্থা উপজেলার অন্যান্য এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতন গজিয়ে ওঠা কিন্ডারগার্ডেনগুলোরও।

 

শেরপুর শহরের বাগানবাড়ি এলাকার এক কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের পরিচালক রফিক মো. ফিরোজ জানান, সরকারি স্কুলগুলো বন্ধ থাকলেও শিক্ষকেরা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। অনলাইনে না হলেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষাকার্যক্রম চালু রেখেছেন। কিন্তু বেসরকারী কিন্ডারগার্ডেনগুলো পুরোপুরি শিক্ষার্থীদের বেতনভাতা নির্ভর। তাই স্কুল বন্ধ থাকায় কার্যক্রম চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শেরপুর উপজেলা কিন্ডারগার্ডেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান জানান, আমাদের এসোসিয়েশনের সদস্য ৪৫টি কিন্ডারগার্ডেন স্কুল। এর মধ্যে অধিকাংশই করোনার কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষক কর্মচারীরা বেতন ভাতা না পেয়ে ব্যবসাসহ অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন।

 

তাছাড়া কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীরা এ পর্যন্ত কোন সরকারি অনুদানও পাননি। শেরপুর উপজেলা কিন্ডারগার্ডেন এসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম লিপু জানান, অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই মুল কিন্ডারগার্ডেন স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

 

বেকার হয়ে পড়ছে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্রুত চালু না হলে এই সংকট আরো ঘনীভুত হবে। শেরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনা পারভীন জানান, সরকারি স্কুলগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও অধিকাংশ কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের সাথেই আমাদের যোগাযোগ নেই। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও আমরা পাচ্ছি না। তাছাড়া এবছর বিনামুল্যের পাঠ্যবইও নেয়নি অনেকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হওয়ায় কিন্ডারগার্ডেনগুলোর অধিকাংশই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

 

শেরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ নাজমুল হক জানান, গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো কিন্ডারগার্ডেনগুলো বন্ধ। কিন্তু এই মহামারির সময়ে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে অধিকাংশ স্কুলই বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এদের অধিকাংশেরই সরকারি নিবন্ধন নেই। তাই ননএমপিও হলেও সরকারি অনুদান তারা পাচ্ছে না।

আগস্ট ২৯
১৭:০০ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]