Daily Sunshine

বাগমারায় হটাৎ সর্বহারার পোষ্টার বিলি, আতংকে এলাকাবাসী

Share

প্রতিবেদক, বাগমারা : দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছর পর আবারো শ্রেনীশত্রু খতম ও বাহিনীর সদস্যদের ঐক্যবদ্ধের আহবান জানিয়ে রাজশাহীর বাগমারায় মাথাচাড়া দিতে যাচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন চরম পন্থী সর্বহারার পূর্ব বাংলা কমিনিষ্ট পার্টি (এমএল) লাল পতাকার সদস্যরা। পোষ্টার সাটানোর মাধ্যমে আবারো তারা বাগমারায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের এমন কর্মকান্ডে এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোপের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকায় সর্বহারারা এমন কর্মকান্ডের সৃষ্টি করলেও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের তেমন কোন তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে না। ভয়ে মুখ খুলছেনা এলাকার লোকজন। রক্তাক্ত জনপদ বাগমারাকে শান্তির বাগমারা থেকে আবারো অশান্তির বাগমারায় পরিনত করতে চাচ্ছে চরমপন্থী দলের সদস্যরা।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় আতংক সৃষ্টির লক্ষে এমন ধরনের কর্মকান্ড করতে পারে বলে এলাকার অনেকেই মনে করছেন। মাথা চাড়া দেয়ার আগেই তাদেরকে শক্ত হাতে নির্মুল করতে এলাকার লোকজন আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তবে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ।

জানা যায়, গত ১৫ আগষ্ট রাতের কোন এক সময়ে উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়নের একতারা বাজারের বিভিন্ন দোকানের দেয়ালে পোষ্টার গুলো নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী দলের সদস্যরা সাটাই। সকালে লোকজন বাজারে আসলে তারা চরমপন্থীর সাটানো পোষ্টার গুলো দেখতে পায়। দেয়াল ছাড়াও তারা দড়ির সাথে পোষ্টার গুলো ঝুলিয়ে দেয় বিভিন্ন এলাকায়।

সকালে পোষ্টার গুলো দেখার পর থেকেই এলাকার মধ্যে আবারো মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমন কর্মকান্ডের কারনে এলাকার লোকজন মুখ খুলতে চাচ্ছে না বলে জানা গেছে। গত ২০০৪ সালে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় তৎকালীন চার দলীয় জোট বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় মন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ভাতিজা পাখি ও গাঁমাকে দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরম পন্থী দলের সদস্যদের হাতে নির্মম ভাবে খুন হন।

সে সময় মন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু তার ভাতিজাদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে চার দলীয় জোটের শীর্ষ সাংসদ ও মন্ত্রীদের হাত করে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চরমপন্থীন দমনের নামে রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোর জেলায় শাইখ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভায়ের মত শীর্ষ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুযাহিদিন বাংলাদেশ ( জেএমবি’র) সদস্যদের লেলিয়ে দেয়।

চরমপন্থী দমনের নামে তারা তাদের বাহিনীর লোকজন দিয়ে এলাকার নিরহ সাধারন মানুষের উপর দমনপিড়ন শুরু করেন। তাদের দমন পিড়নের হাত থেকে রক্ষা পেতে সেই সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী দলের সদস্যরা তাদের ভোল্ট পরিবর্তন করে জঙ্গি সংগঠন বাংলা ভাইয়ের দলে ভিড়ে যায়। জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েই তারা এলাকায় চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড শুরু করেন।

তারা সর্বহারা নিধনের নামে বিরোধী দলীয় আ’লীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতন, হত্যা ও গুম শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি আ’লীগের সভাপতি মকবুল হোসেন মৃধার উপর হামলা চালিয়ে মারাক্ত জখম করে। ওই হামলায় অংশ গ্রহনকারী জঙ্গি সংগঠনের তিন নেতা জনতার গনধোলাইয়ে নিহত হন। দেশ ব্যাপী আন্দোলন শুরু করেন বিরোধী দল আ’লীগসহ বাম দলগুলো । তাদের চাপের মুখে তৎকালীন চার দলীয় জোট জামায়াত-বিএনপি সরকার জঙ্গি সংগঠন জেএমবিকে নিষিদ্ধ করেন। এছাড়াও সেই সময়ে জঙ্গি দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।

পোষ্টার ছাটানোর পর থেকেই এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উৎকন্ঠা লক্ষ করা গেছে। যে কোন সময় আবারো এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন এলাকার সচেতন।

এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তৎপর রয়েছে। তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সানশাইন/আগস্ট ১৯/ইউ

 

 

আগস্ট ১৯
১৮:৩৯ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]

সর্বশেষ