Daily Sunshine

বগুড়া শেরপুরে বিএডিসি’র কালভার্টে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ 

Share

মিন্টু ইসলাম (শেরপুর বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুরে বিএডিসি‘র নির্মানাধীন কালভার্ট এর নির্মান কাজ শেষ না হওয়ায় কৃষকের শতাধিক একর আবাদী জমিতে আমনধান রোপন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জানাযায়,শেরপুর উপজেলার বরেন্দ্র অঞ্চলের ৬নং বিশালপুর ইউনিয়নের বিরাকৈর থেকে গোয়ালবিশ্বা শিমলা সাতবাড়ীয়া প্রায় ৭ কিলোমিটার খালের খনন কাজ শুরু হয় ২০১৯সালে।

 

বগুড়া জেলা বিএডিসি এর সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে ওই খাল খনন পুনঃ সংস্কার কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশ এগ্রিকালচার ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন এর আওতায় কৃষকদের সেচ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষে উক্ত খাল খনন কাজে প্রতি কিলোমিটারে সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।

 

এছাড়াও খালের বিভিন্ন স্থানে শুস্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখা এবং পাওয়ার টিলার পারাপারের জন্য তিনটি কালভার্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ওই সকল কাজে আরো ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ের জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়। কালভার্ট নির্মান কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জনৈক রতন মিয়া ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি  জানান, বিএডিসি সেচ প্রকল্পের আওতায় শেরপুরের বিশালপুরে শিমলা গ্রামের মাঝে চলমলিয়া মুচারগাড়ীর দক্ষিণে একটি কালভার্ট নির্মান কাজ চলমান আছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে খালের ওপরে ওই কার্লভার্ট এর নির্মান কাজ যথা সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে খালের অপরপ্রান্তে জমে থাকা পানি বিকল্প পথে বের করে দেয়ার পর জমিতে ফসল রোপন করা যাবে।

 

সেক্ষেত্রে ফসলী জমি পতিত থাকার কোন সম্ভবনা নাই। গ্রামবাসীরা জানায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিম্ন মানের রড,সিমেন্ট, খোয়া,বালি-পাথর এলাকার জনৈক সাহাদতের বাড়িতে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত অজ্ঞাত কারণে কালভার্ট এর নির্মান কাজ বন্ধ থাকায় ওই সকল সিমেন্ট গুলো বস্তায় জমাট বেঁধে গেছে। আর পুরাতন বিল্ডিং কেনা রড গুলো অনেক আগে থেকেই মরিচা ধরেছে ।

 

এদিকে কার্লভাটের পাটাতন ঢালাই কাজে বিএডিসির অফিস পক্ষের কোন তদারকি না থাকায় প্রতি স্কয়ার ফিট ঢালাইয়ে মেসানো হয়েছে পাথরের পরিবর্তে নিম্ন মানের ইটের খোয়া। আর ঢালাই কাজে ১২ইঞ্চি উচ্চতার পরিবর্তে দেয়া হয়েছে মাত্র ৮ইঞ্চি। বগুড়া জেলা বিএডিসি সেচ প্রকল্পের খাল খনন কাজের দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ার মাসদু-উল-করিম রানা জানান, বিরাকৈর থেকে শিমলা খাল খননে কোন অনিয়ম হয়নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খালের গভীরতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এদিকে শেরপুর-ধুনট উপজেলার দায়িত্বে থাকা বিএডিসি‘র ইঞ্জিনিয়ার মো.আসমাউল আলম জানান, শেরপুরে খালের ওপরে নির্মিত কালভার্টের সাইটে যাওয়া সম্ভব হয়নি রাস্তায় কাঁদা থাকার কারণে।

 

সেখানে জমে থাকা পানি বিকল্প পথ বের করে দেয়া হয়েছে। ওই এলাকার কৃষক সফির উদ্দিন, মঞ্জু মিয়া, সফিকুল আলম, লাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বিএডিসি‘র সেচ প্রকল্পের খাল খনন আর কার্লভার্ট নির্মান কাজে ব্যাপক অনিয়ম হওয়ায় আমাদের আবাদী জমি গুলো আজকে পতিত থাকার উপক্রম হয়েছে। সরকারি টাকায় খাল খননেও মানা হয়নি সঠিক নীতিমালা।

আগস্ট ১১
১৫:২৭ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]