Daily Sunshine

নারীর মর্যাদা রক্ষায় ‘কেউ কথা রাখেনি’

Share

নুরুজ্জামান,বাঘা : দেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা ক্রমান্নয়ে বেড়ে চলেছে। নারী নির্যাতন বিরোধী এত প্রচার প্রচারণা আর এনজিওদের এত কার্যক্রম তারপরও থেমে নেই নারী নির্যাতন। পারিবারিক নির্যাতন থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষক দ্বারা ছাত্রী এবং বকাটেদের দ্বারাও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে মাত্রাতিরিক্ত। যার দৃষ্টান্ত প্রতিদিন খবরের কাগজে আমরা কম-বেশি পেয়ে থাকি। তবে বর্তমান প্রেক্ষপটে বকাটে যুবক ও স্বামী কর্তৃক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেশি ঘটছে বলে দাবি করছেন এলাকার অভিজ্ঞ মহল। অথচ এমন কোন সরকার নেই যারা ক্ষমতায় আসার পুর্বে নারীর মর্যদা রক্ষার বিষয়ে ওয়াদা না করেছেন।

নারীর মর্যদা রক্ষার বিষয়ে আলোকপাত করতে গেলে যে তথ্য পাওয়া যায় তার ইতিহাস অনেক বড়। জানা যায়, আজ থেকে প্রায় দু’শ বছর পুর্বে শুরু হয়েছিল নারীর মর্যাদা রক্ষার লড়াই। রাজা রাম মোহন রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি নজরুল, বেগম রোকেয়া, শামসুন নাহার, মাহমুদ থেকে শুরু করে বিগত সময়ের প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বাংলার নয়ন মনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা পর্যন্ত সে লড়াই অব্যাহত রেখেছেন। তবু মাঝে মধ্যে নারী নির্যাতন ও নারী আত্নহননের খবর আমাদের চমকিত ও স্তম্ভিত করে। ফলে লজ্জায় আমাদের শীরপিড়া কম্পিত হয়। তাই প্রায়সঃ মনে হয় বিখ্যাত কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই কবিতার একটি চরন ‘কেউ কথা রাখেনি’। যদি কথাই রাখতো তাহলে আজও নারীর সম্ভ্রম ও মর্যাদা রক্ষার জন্য সাধারণ মানুষকে রাস্তায় মিছিল করতে হতো না !

নারীর মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, পৃথিবীর উন্নত এবং অনুন্নত দেশ সমূহে নারী পন্য সামগ্রীর ন্যায় বিকি-কিনি হয়। এ ক্ষেত্রে কখনো বা ইতিহাসের নায়িকারাও নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে। যার সুস্পষ্ট প্রমাণ ইংল্যান্ডের রাজকুমারী। জানা যায়, তিনি তার প্রেমিককে খুঁজতে বেরিয়ে মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে নিজেকে আত্নহতি দেন। এখানেই শেষ নয়, পৃথিবীর আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে গোত্রে গোত্রে নারী-পুরুষে। তখন থেকেই বিজয়ী আর পরাজিতের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে একটি বৈষম্য। নারী সেই বৈষম্যের বড় শিকার। আমাদের দেশে লক্ষ বছরের পরাধীনতা আমাদের মাঝে সৃষ্টি করেছে দাস মনোবৃত্তি। সেই দাস চেতনারই বিকাশ ঘটেছে আমাদের নারী সমাজে। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের শুরু থেকেই আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের পদচারনা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বিচার, প্রার্থী বিচার না পাওয়া, হতাশা, যন্ত্রনা, আত্নহনন, বেকারত্ব, সমাজকে গিলে ফেলেছে। ফলে এ সমাজের নিরীহ জনগোষ্ঠী নারী কোন ক্রমেই তার নিরাপত্তা পাচ্ছে না। যার দৃষ্টান্ত প্রতিদিন খবরের কাগজে আমরা কম-বেশি লক্ষ করে থাকি। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে আমাদের দেশে বখাটে যুবক ও স্বামী কর্তৃক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেশি ঘটে বলে দাবি করছেন এলাকার অভিজ্ঞ মহল।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ি এ বছর কেবল জুনে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩২৯ জন। এদের মধ্যে দু’একজন খুন হয়েছে, অবশিষ্টরা এই সমাজের এক শ্রেণীর মানুষদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে মরে বেঁচেছেন।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, চলতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে মাত্রা ত্রান্তিক হারে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। নিরুপায় হয়ে সরকারি দলের নেতা-কর্মী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজি এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা গত কয়েক মাস পূর্বে রাস্তায় নারী-শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে মানব বন্ধন সহ ঝাড়ু মিছিল করেছেন। আর এসব অন্যায় রুখতে বর্তমান সরকার জাতীয় সংসদে নারী ধর্ষন প্রমানিত হলে সবচ্চ শাস্তির বিধান করেছেন মৃত্যুদন্ড।বিগত কয়েক বছরের আলোচিত কিছু ঘটনা স্মরণ করলে দেখা যায়, বকাটেদের অত্যাচারের শিকার হয়ে আত্নহনোনের পথ বেছে নিয়েছে পিংকী-রুমার মতো, সিমি, রুমী, তিষা, পূর্নিমা, মহিমা, ফাহিমা-সহ আরো অনেকেই। ইতোমধ্যে এদের নির্যতনকারী হিসেবে দু্’একজন শাস্তি পেলেও অন্যরা স্বাক্ষী প্রমানের অভাবে মুক্ত বাতাসে গা ভাসিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।

সার্বিক বিষয়ে এলাকার সুধীজন ও অভিজ্ঞ মহলরা বলেন, আমাদের দেশের আইনের শাসনে দুর্বলতা, রাজনৈতিক অবক্ষয় এই সকল ঘটনার জন্য প্রধান দায়ী। তাদের মতে, যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তখন তাদের এক শ্রেনীর অসাধু কর্মীরাই এই ধরণের ঘটনা বেশী করে ঘটাতে সক্ষম হয়। এ জন্য সরকারকে দলীয় বিবেচনা এবং তাদের কর্মীদের কথা চিন্তা না করে, জরুলী বিচার ব্যবস্থা এবং বর্তমান সরকার যে নতুন আইন প্রনয়ন করেছেন সেটি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন তাঁরা ।

জুলাই ৩০
১০:০৩ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]