Daily Sunshine

লকডাউনে জন জীবন বিপন্ন, কর্মস্থলে ছুটছে মানুষ ভোগান্তি পথে পথে

Share

নুরুজ্জামান,বাঘা : সরকার ঈদের পূর্বে লকডাউন দিলেও ঈদকে সামনে রেখে মাত্র এক সপ্তাহের জন্য এটি শিথীল করেন। ফলে নাড়ির টানে শহরে থাকা কর্মজীবি মানুষ গুলো গ্রামে ফিরেন । এই স্বল্প সময়ে কিছু মানুষ তাদের কর্মস্থলে ফিরলেও অধিকাংশ জনই নানা ভোগান্তির মধ্য দিয়ে এখন ছুটছে তাদের গন্তব্যস্থলে। আমরা ইতোমধ্যে লাল বর্ডার দেয়া লাশবাহী গাড়িতে রাজশাহী থেকে ঢাকায় যাত্রী বহন করার খবর পত্রিকায় পড়েছি। যদিও সেই গাড়িতে কোন লাশ ছিলনা !

সমাজের অভিজ্ঞ মহলরা বলছেন, মহামারি করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রতিদিনই ভাঙছে সংক্রমণের রেকর্ড, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এরই মধ্যে চতুর্থবারের মতো ভিন্ন বাস্তবতায় ঈদ উদযাপনের সাক্ষী হয়েছে গোটা দেশ। বিগত দেড় বছর ধরে করোনা মহামারির প্রভাবে ক্রমাগত বিপর্যন্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন। ঈদের সময় নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষ গুলো তাদের কর্মস্থলে ফিরতে এখন প্রতিনিয়ত পোহাচ্ছেন ভোগান্তি।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সুমন হাসান। তার কর্মস্থল ঢাকার সাভাড়ে। ঈদের একদিন পূর্বে বাবা-মার সাথে ঈদ করতে বাড়ি এসে ছিলেন। অনেকদিন পর বাড়িতে আসার কারনে ঈদির তৃতীয় দিন তিনি রওনা হন সাভাড়ের উদ্দেশ্যে। এ জন্য তাঁকে প্রথমে ইঞ্জিন চালিত ভ্যান যোগে বাঘা থেকে পাশ্ববর্তী উপজেলা লালপুর যেতে হয়। সেখান থেকে ভুটভুডি যোগে ঈশ্বরদী। অত:পর ইমা গাড়িতে বনপাড়া। সর্বশেষ একটি ভাড়া মোটর সাইকেল দুই হাজার টাকা কন্টাকে তাকে পৌঁছে দেয় সাভাড়। এতে করে তার মোট খরচ হয় সাড়ে তিন হাজার টাকা। অথচ বাস চালু থাকলে তার লাগতো মাত্র তিনশত টাকা।

তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন,টাকা কোন সমস্যা নয়, কিন্তু রাস্তায় যে দুর্ভোগের শিকার হয়েছি সেটি সারা জীবন মনে থাকবে। শুধু সুমন নয়, তার মতো অনেক চাকুরিজীবিকে এখন এ ভাবেই ছোট-খাট যান বহনে তাদের কর্মস্থলে ফিরছে। তাদের অভিযোগ, সরকার লকডাউন চলাকালিন সময় যদি সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতো তাহলে কাউকেই ভোগান্তির শিকার হওয়া লাগতো না।

এদিকে ঈদ পরবর্তী লকডাউন শুরু হওয়ায় মানুষ যে শুধু ভোগান্তি পোহাচ্ছে এখানেই শেষ নয়, লাগামহীন সংক্রমণ এবং অগণিত মৃত্যুর পাশাপাশি মহামারির করোনার প্রভাবে অর্থনৈতিক সংকটও দিন-দিন প্রকট হয়ে উঠেছে। করোনার মতো অদৃশ্য ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার পাশাপাশি এই সংকটকালে দেশবাসীর জীবন ও জীবিকার সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সরকারের কাছে।

সমাজের সুধীজনরা বলছেন, দীর্ঘসময় মহামারির প্রভাবে সবচেয়ে ভুক্তভোগী হয়েছেন দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভশীল প্রায় কোটি-কোটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর জন্য বরাবরই লকডাউন হয়ে উঠেছে বিভীষিকাময়। আয়ের উৎস টুকু হারিয়ে পথে বসেছে অনেক পরিবার।

লোকজন মনে করছেন, চলমান লকডাউন আরো দীর্ঘায়িত হলে হুমকির মুখে পড়বে দেশের প্রায় ৫০ লক্ষ পোশাক শ্রমিকের কর্মসংস্থান। গত বছরের শেষের দিকে মহামারি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলেও করোনার চলমান দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশের অর্থনীতি পুনরায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। ক্রমবর্ধমান লকডাউনের প্রভাবে ব্যবসায়-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা-সহ উৎপাদন শিল্পে চরম স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিশেষত পরিবহন খাত, বিপণিবিতান, হোটেল, রেস্তোরার সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সারা বিশ্বের কাছে এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম করোনা। এটি ভয়ঙ্কর এক অদৃশ্যশক্তি। এর ভয়াল থাবায় গ্রাস হচ্ছে সারাবিশ্ব। যার কালো থাবায় অকালে প্রান হারাচ্ছে দুগ্ধ শিশু থেকে শুরু করে আবাল বৃদ্ধ বনিতা। এদিক থেকে সরকারের যতোটুকু করনীয় সেটি করা হচ্ছে। আমরা উপজেলা পর্যায়ে ইতোমধ্যে হতদরিদ্রদের জন্য একাধিক ডিলারের মাধ্যমে স্বল্প মুল্যে চাল-আটা দেয়ার কার্যক্রম চালু করেছি।তাঁর মতে, এই মহামারী করোনা থেকে বাঁচতে হলে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা এবং টিকা নেয়ার কোন বিকল্প নেই।

জুলাই ২৭
০৯:২৭ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]