Daily Sunshine

বাঘায় নিজ হাতে কোরবানির মাংস বিতরণ করলেন ইউএনও পাপিয়া সুলতানা

Share

নুরুজ্জামান,বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় এ বছর নিজ হাতে কোরবানির মাংস বিতরণ করে আলোচিত হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানা। যা এর আগে কখনো হয়নি। ঈদের দিন উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে তিনি সমাজের হতদরিদ্র, আশ্রয়ন কেন্দ্র এবং উপজেলায় কর্মরত সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে এ মাংস বিতরণ করেন। তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাধ জানান সমাজের অভিজ্ঞ মহল।

আলেমদের মতে, ইসলাম ধমের ইতিহাস যতটা প্রাচীন, কোরবানির ইতিহাস ততটাই প্রাচীন। মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ ও দ্বিতীয় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা। আল্লাহ তালার আনুগত্য লাভ ও সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম কোরবানি। এ পন্থায় ত্যাগ, তিতিক্ষার মাধ্যমে মানুষের সর্বাধিক প্রিয়বস্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে হয়। পশু কোরবানির ফলে অন্তর হবে পরিশুদ্ধ। আর এটাই হলো কোরবানির মূল প্রেরণা।

এদিকে কোরবানির গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে ইসলামী ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার অধ্য ও আলেম ওলামাগন বলেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিকের ওপর শুধুমাত্র একটি কোরবানি ওয়াজিব হয়। আবার অনেক সম্পদের মালিক হলেও একটি কোরবানি ওয়াজিব হবে। এ ক্ষেত্রে কেউ যদি একাধিক পশু কোরবানি করতে চান, তাহলে তিনি একাধিক সওয়াবের অধিকারী হবেন। অপর দিকে কোনো নারী হিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক কিংবা বিত্তবান হলে তার উপরও কোরবানি ওয়াজিব হবে।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানা বলেন, ঈদ মানে আনান্দ। আর এ আনান্দ সবার সাথে ভাগা-ভাগি করা উচিত। সেই লে আমি ঈদের পাঁচদিন পূর্বে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নে অবস্থিত আশ্রয়ন বাসীদের মাঝে ঈদ উপলে চাল,ডাল, আটা, চিনি, সয়াবিন ও লাচ্চা-সেমাই সহ নিজ হাতে বৃক্ষ রোপন করেছি। আমার ইচ্ছে পবিত্র ঈদুল আযহার দিন কেউ যেন ঈদের আনান্দ থেকে বঞ্চিত না হয়। আর এ কথা চিন্তা করে ঈদের দিন নামাজ শেষে একটি পশু(গরু) কোরবানি করে সমস্ত মাংস উপজেলা প্রশাসনের সাধারণ কর্মচারী, পাঁচটি আশ্রয়ন কেন্দ্র এবং সমাজের হতদরিত্রদের মাঝে বিতরণ করেছি। এ সময় অনেক নারী আবেগ আপ্লুত হয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন।

এ সময় নির্বাহী অফিসারের সাথে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লা সুলতান, উপজেলা প্রকৌশলী শ্রী-রতন কুমার ফোজদার, মনিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, বাউসা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান সহ আরো অনেকে।

কোনবানির মাংস পাওয়া জরিনা বেগম বলেন, আমি বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসের একজন সাধারণ কর্মচারি। এখানে অনেকদিন চাকরি করছি। এর আগে কোন নির্বাহী কর্মকর্তা এ ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। তার মতে,আমাদের সমাজে অনেক ধনী মানুষ আছে। যদি সবাই এমনি ভাবে ঈদের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে সমাজের অ-স্বচ্ছল মানুষ গুলোর দুঃখ লাঘব হবে এবং কোরবানির দিন একটি পরিবারও মাংস না পাওয়া হবে না।

জুলাই ২৪
১৫:৫৬ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]