Daily Sunshine

অভাবী সংসারে ছেলের আয়েশি জীবন,উৎস বিকাশ হ্যাক!

Share

নুরুজ্জামান,বাঘা : আমরা সাইবার জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে দশ কোটি ডলার চুরির ঘটনা অনেকেই শুনেছি।এটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিলো। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সতর্ক হলেও বর্তমানে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত ও হয়রানীর শিকার হচ্ছে বিকাশ এবং ইমো হ্যাকারদের মাধ্যমে। গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ-এর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নেয়ার সাথে জড়িতদের সংখ্যা এখন দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার বাস্তব চিত্র লক্ষ করা গেছে সীমান্তবর্তী রাজশাহীর বাঘা উপজেলায়।এখানে অভাবী ঘরের সন্তানরা ব্যবহার করছেন দামি-দামি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন।যাদের টাকার উৎস বিকাশ হ্যাক বলে মন্তব্য করছেন অনেকে।

এখানকার সূধীজনরা বলছেন, বর্তমানে এ উপজেলার অনেক মানুষ রয়েছে যাদের বাড়ির ভিটে ছাড়া 10 কাটা জমি নেই, পিতা ডে-লেবার কিংবা ভ্যান চালক অথচ তাদের সন্তানরা ঘুরে বেড়ায় দামি-দামি মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেট কারে।সেই সাধে ব্যবহার করেন অনেক দামি-দামি স্মাট ফোন। এদের নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন সমাজের অভিজ্ঞ মহল। তাঁরা বলছেন,এসব যুবকদের নেপথ্যে রয়েছেন কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা।যাদের অনেকেই ইতোমধ্যে পাকা ঘর নির্মান সহ বাড়িতে এসি যংযোগ চালু করেছেন। এসব যুবকদের টাকার উৎস্য বিকাশ-ইমো হ্যাক, অথবা মাদক ব্যবসা।

স্থানীয় লোকজন জানান, রাজশাহীর বাঘায় ইমো-বিকাশ হ্যাকারদের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছে মানুষ। একদল সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট ফেসবুকের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়তই প্রতারিত করছেন সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে ফেসবুকে লাইভ ভিডিও সুবিধা চালু হবার পর এই প্রতারনায় এসেছে নতুন মাত্রা। এখন সরাসরি লাইভ ভিডিওতে বিকাশ নেয়ার মাধ্যমে শুরু হচ্ছে ইমো প্রতারণা। এ ছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপ ফোন সেক্সের আহবান জানানো হচ্ছে, কিন্তু শর্ত হলো একটাই আগে বিকাশ, তবেই মিলবে ইমোর নম্বর, নতুবা নয়। আর এসব অফারে প্রতিনিয়ত বিকাশ করে প্রতারিত হচ্ছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, সম্প্রতি তারা কয়েকজন হ্যাকারকে আটক করেছেন । এরা এটিএম কার্ড জালিয়াতি এবং মোবাইল ফোন ক্লোন করে টাকা সরিয়ে নেয়ার মতো ঘটনার সাথে জড়িত। এই চক্রটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মোবাইল ফোন ভিত্তিক অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ-এর কিছু অ্যাকাউন্ট থেকেও বিশেষ কায়দায় লাখ লাখ টাকা সরিয়ে নিয়েছে।

অপর দিকে র্যব(Rab)কর্মকর্তারা জানান, তাদের হাতে গ্রেফতারকৃতরা দির্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে প্রবাসীদের ইমো এ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করেছে।

তবে বিকাশের সার্ভার হ্যাক করে অর্থ জালিয়াতির কোন সুযোগ নেই বলে দাবি করেন প্রতিষ্ঠান কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম। তিনি এক গনমাধ্যম কর্মীর প্রশ্নের উত্তরে জানান, তাদের কোন অ্যাকাউন্ট থেকে বা ভিন্ন-ভিন্ন সিম ব্যবহার করে জালিয়াতির চেষ্টা করা হলে তখন স্বয়ংক্রিয় ভাবেই সেই অ্যাকাউন্ট বা সিম বন্ধ হয়ে যায়।

তাহলে কিছুদিন পরপরই বিকাশের মতো এতো বড় একটি মোবাইল ফোন ভিত্তিক অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নেয়ার অভিযোগ আসছে কেন ? জবাবে শামসুদ্দিন হায়দার বলেন, এজেন্টদের কাছে থাকা কিছু ব্যক্তি কৌশলে পিন নম্বর জেনে বা ফোন পরিবর্তন করে দিয়ে জালিয়াতি করে। এটি প্রতিরোধে এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে । তাঁর মতে, গ্রাহকরা সচেতন হলে এ ধরনের জালিয়াতি বন্ধ হবে ।

বাঘা থানা সুত্রে জানা গেছে, গত ৬ মাসে এ উপজেলায় আশংকা জনক হারে বেড়েছে ইমো-হ্যাকারদের প্রতারনা। ইতোমধ্যে অনেক গুলো মামলা দেয়া সহ প্রায় 15 জন বিকাশ হ্যাকারকে আটক করে হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার গড়গড়ি ,পাকুড়িয়া ও মীরগঞ্জ এলাকায় এর প্রবনতা অন্য যে কোন এলাকার চেয়ে অনেক বেশি । সম্প্রতি বাঘা থানা পুলিশ এসব প্রতারণা চক্রের সাথে সম্পৃক্তদের তালিকা সংগ্রহ শুরু করেছেন বলেও উল্লেখ করেন ।

জুলাই ২৩
১৭:৫৬ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]