Daily Sunshine

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর উন্নয়ন অব্যাহত পরিদর্শনে মুগ্ধ নির্বাহী কর্মকর্তা

Share

নুরুজ্জামান,বাঘা : সরাদেশব্যাপী সরকারের নানা উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখার পাশা-পাশি নিজ নির্বাচনী এলাকায় নিজেস্ব অর্থায়ন এবং সরকারি প্রচেষ্টায় অভুতপুর্ব উন্নয়ন করে যাচ্ছেন বর্তমান সরকারের সুযোগ্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শাহরিয়ার আলম। তিনি নিজ অর্থায়নে বাঘায় দু’টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌর সভার জমি ক্রয়-সহ মা ও শিশুদের জন্য ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মান করে ইতোমধ্যে এলাকার সর্বস্তুরের মানুষের মাঝে আলোচনায় উঠে এসছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় সম্পন্য হওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করছেন উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা। মঙ্গলবার (13-জুলাই)এমনই একটি প্রকল্প “গ্রামের মধ্যে পাকা রাস্তা’’ এবং নতুন করে নির্মান হওয়া গুচ্ছগ্রাম পরিদর্শন ও দুস্থদের হাতে খাবার তুলেদেন তিনি।

এ সময় তাঁকে ফুল দিয়ে সিক্ত করেন গুচ্ছ গ্রামবাসী।তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফোজদার, কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান, ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান ও বাঘা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান। স্থানীয় লোকজন জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত দুই বছরে বাঘায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন, দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চল-সহ গ্রামঞ্চলের প্রত্যান্ত এলাকায় পাকা রাস্তা , দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি করণ-সহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মান, ফায়ার স্টেশান স্থাপন, মুক্তিযোদ্ধা ভবন নির্মান, ৩১ শয্যার হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় রুপান্তিরত করা, ভূমি অফিস , পশু হাসপাতাল ও মৎস্য-সহ সকল দপ্তরে শত ভাগ সেবা প্রদান,আশ্রায়ন প্রকল্প নির্মান, গ্রামীণ অবকাঠাম উন্নয়নের জন্য বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং মাতৃত্বকালীন ভাতার সংখ্যা বাড়ানো, নিজ অর্থায়নে জমিকিনে আ’লীগ সহ সহযোগী প্রায় সকল সংগঠনের জন্য অফিস নির্মান এবং কৃষি খ্যাতে ঋণ সহায়তা দেয়ার কারনে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। আর এসব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে কেবল মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ আলহাজ শাহরিয়ার আলমের একান্ত প্রচেষ্টায় ।

নিম্নে কিছু দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রকল্পের নাম ও বর্ননা তুলো ধরা হলো :- উপেজেলা প্রকৌশলী থেকে দুই বছরে অবকাঠামো উন্নয়ন :- উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) থেকে বর্তমান সরকারের দুই বছরে উন্নয়ন হয়েছে প্রায় 150 কোটি টাকা। এ সকল উন্নয়ন মূলক কাজের মধ্যে রয়েছে- রাস্তা ঘাট নির্মান ও ভরাট, ব্রীজ-কালভাট স্থাপন, স্যানিটেশন স্থাপন,স্কুল ঘর নির্মান এবং সংস্কার সহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মান। স্থানীয় লোকজন মনে করছেন, বাঘা-চারঘাটের সংসদ সদস্য শাহারিয়ার আলমের সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে এসব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে । প্রকল্প অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৫ শ প্রকল্প বাস্তবায়ন :- উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিস সূত্রে যানা গেছে, গত দুই বছরের ব্যাপক পরিমান টেস্ট রিলিফ (টিয়ার) এবং কাজের বিনিময়ে খ্যাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির মাধ্যমে-রাস্তা নির্মাণ, গর্ত ভরাট, প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, এমনকি সৌর বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। উন্নয়ন কাজের মধ্যে আরো রয়েছে সরকারী ৩৯৫টি প্রকল্পের অনুকুলে ৮৩৭ মে.টন ট্রেস্ট রিলিফ টিয়ার এবং ৫৪টি প্রকল্পের জন্য ৫১২ মে.টন কাবিখা ও ১০৪ টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নগদ ১৬ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা-সহ দু’টি সেতু নির্মাণের জন্য ৬৬ লক্ষ টাকা । এ সকল বরাদ্দের অনেকটা বাস্তবায়ন করেছে আড়ানী ও বাঘা পৌর সভাসহ উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা। বাঁকি বিশেষ বরাদ্দ থেকে এলাকার উন্নয়ন করেছেন সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়াও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প এবং বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (ক্লাব-সমিতির) ও ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। বৈদ্যতিক উপকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে শতভাগ বিদ্যুতায়ন :- বাঘায় স্থানীয় সাংসদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের একান্ত প্রচেষ্টায় একটি নতুন বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র চালু করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে ৬০ টি গ্রামে ৭০ কিলোমিটার বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে।

এই বিদ্যুতায়নের আওতায় আলোর মুখ দেখেছে দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলের লোকজন সহ সমতল এলাকার ১৫ হাজার ৬ শ পরিবার। এ জন্য সরকারের ব্যায় হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতায় বাঘা সাব-জোনাল অফিস এর মাধ্যমে অত্র উপজেলার মনিগ্রাম এলাকায় একটি নতুন ১০ এমভিএ বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এ জন্য ব্যায় হয়েছে 12 কোটি টাকা। এই উপকেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর ৪ টি ফিলটারের মাধ্যমে বাঘা উপজেলার সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়েছে, অন্যদিকে কমেছে লোড সেডিং। শিক্ষা ক্ষেত্রে এসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন :- বাঘায় শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় শিক্ষা ক্ষেত্রে এসেছে এক বৈপবিক পরিবর্তন।

তিনি বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পুরণে উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন-নতুন ভাবন ও প্রাচীর নির্মান প্রকল্প বাস্তবায়ন সহ পৌঁছে দিয়েছেন একটি করে কম্পিউটার-সহ আইসিটি ল্যাব। ঘোষনা দিয়েছেন, কেউ যদি অর্থ অভাবে পড়ালেখা করাতে ব্যর্থ হন, তাহলে সেই শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নেবেন তিনি। একই সাথে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি হিসাবে ব্যয় করছেন জাতীয় সাংসদ থেকে প্রাপ্ত সম্মানী ভাতার সমুদ্বয় অর্থ। কৃষি ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ঘটেছে নিরব বিপ্লব :- রাজশাহীর বাঘায় কৃষি ও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নানা মুখি সেবা প্রদানের কারনে এলাকার মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন।

এই দুই খাতে বর্তমান সরকারের পর্যাপ্ত ভর্তুকু আর নানা মুখি পদক্ষেপ-সহ কমিউনিটি ক্লিনিক এবং হাসপাতালে ডাক্তারদের শতভাগ উপস্থিতি এনে দিয়েছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এ উপজেলায় প্রায় 25 হাজার হেক্টর কৃষি আবাদি জমি রয়েছে । আর কৃষি পেশার সঙ্গে জড়িত প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ। এখানকার প্রধান অর্থকারী ফসলের মধ্যে অন্যতম আম, খেজুরের গুড়, ধান,পাট, আখ, পেঁয়াজ এবং আলু সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি। পদ্মার চরাঞ্চল এ উপজেলার মধ্যে পড়ায় সেখানেও নানা ধরনের কৃষি পণ্য উৎপাদিত হয়। অন্যদিকে দুই লক্ষাধিক মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে এখানে উপজেলা সদরে রয়েছে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র , একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ২০ টি কমিউনিটি কিনিক ও ৮ টি পরিবার পরিকল্পনা উপকেন্দ্র।

দুটি পৌর সভার কারণে বদলে গেছে প্রামীন জনপদ :- রাজশাহীর বাঘায় বর্তমান সরকার আমলে দু’টি পৌর সভার মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল নাজুক। পিছিয়ে পড়েছিল বাঘা । এ দিক থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় এবং বিদেশী দাতা সংস্থার মাধ্যমে এ উপজেলায় বর্তমান সকারের দুই বছরের দু’টি পৌর সভা আড়ানী ও বাঘার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় পাকা রাস্তা ও লাইট-সহ ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এর ফলে বদলে গেছে গ্রামীন জনপদ, বেড়েছে মানুষের জীবন যাত্রার মান।

আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সরকারের অনুদান শত কোটি টাকা :- রাজশাহীর বাঘায় বর্তমান সরকার আমলে মানুষের জীবনমান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে উপজেলা সমাজসেবা ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার অনুদান (ভাতা) প্রদান খাতে ব্যায় হয়েছে প্রায় ১১০ কোটি টাকা। এর ফলে বেড়েছে মানুষের গতি ও জীবন যাত্রার মান। এসব ভাতার মধ্যে রয়েছে-প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি, হিজড়া ও বেদে জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন কর্মসুচি কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষা ও বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা-সহ দুস্থ মহিলাদের ভাতা প্রদান, বয়স্ক ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, ক্যানসার রুগিদের জন্য এককালিন চিকিৎসা ভাতা, বীর মুক্তিযোদ্ধদের জন্য সম্মানী ভাতা,সমাজকল্যান পরিষদের মাধ্যমে এক কালিন আর্থিক শিক্ষা ও চিকিৎসা অনুদান, নিবন্ধনকৃত এতিমখানার জন্য ক্যপিটেশন গ্যান্ট, মাতৃত্বকালিন ভাতা এছাড়াও রয়েছে ভিজিডি ও ভিজিএফ-সহ কর্মজীবি ল্যাট্রিন মাদার সহায়তা প্রদান।

সব মিলে স্থানীয় লোকজন মনে করছেন, বর্তমান সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ আলহাজ শাহরিয়ার আলমের একান্ত প্রচেষ্টায় বিগত সরকার আমলের চেয়ে এসব অনুদান বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। আর এসব উন্নয়ন কাজ দেখে প্রশাংশা করেছেন উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা।

তিনি এ উপজেলায় যোগদানের পর ইতোমধ্যে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান সরকার যে গ্রামকে শহরে রুপান্তরিত করতে চান তার ছোঁয়া লোগেছে জেলার ঐতিহ্যবাহী বাঘা উপজেলায়। তাঁর মতে, দেশীয় ৫০ টাকার নোটে ছাপানো বাঘার ৫ শ’ বছরের পুরাতন ঐতিহাসিক শাহী মসজিন, হযরত শাহদৌল্লার মাজার, জাদুঘর এবং ৫২ একর জমির উপর খননকৃত সু-বিশার দিঘীর স্বচ্ছ পানি, চারি ধারে লাগানো নারিকেল গাছ যে কোরো নজর কাড়বে এতে কোন সন্দেহ নাই।

জুলাই ১৫
২২:২০ ২০২১

আরও খবর