Daily Sunshine

গ্রামের ভাঙা সেতুতে দুর্ভোগ

Share

আতিকুল ইসলাম আজম, গোমস্তাপুর: প্রায় ৬ মাস ধরে ভেঙ্গে পড়ে আছে একটি সেতু। সংস্কার না হওযায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে আছে এলাকাবাসি। সেতুটিতে লোকজন চলাফেরা জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য বাঁশের পাটাতন তৈরি করে দিয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারছেন না। যানবাহণগুলো কয়েক কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যস্থলে যাচ্ছে। অথচ সেতুটি নির্মাণে সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষের কোন নজর নেই।

গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের পাশাপাশি দুটি গ্রাম আনারপুর-মেহেরপুর। দুই গ্রামের সংযোগস্থল রাস্তার মধ্যে রয়েছে সেতুটি। এ সেতু দিয়ে গ্রামের লোকজন ছাড়া বিভিন্ন স্থানের লোকজন চলাফেরা করে। বিশেষ করে কৃষি পরিবহণ চলাচল করে বেশি।

এছাড়া মেহেরপুর গ্রামে ভূমি কার্যালয় থাকায় বিভিন্ন এলাকার লোকজন এ সংযোগ রাস্তাটির উপর দিয়ে চলাচল করে থাকে। কিন্তু সংযোগ রাস্তার উপর নির্মিত সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নারী, শিশু ও বয়স্কজনদের চলাফেরায় প্রচুর সমস্যা হচ্ছে। ওই গ্রাম দুটিসহ পাশ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের লোকজন বেশ কয়েক কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাচ্ছেন। কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য নিয়ে খুব বেকায়দায় রয়েছে।

ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জব্বার বলেন, সেতুটি ভাঙ্গা ৬ মাস অতিবাহিত হয়েছ। এখনও সেতুটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি কর্তৃপক্ষ। চলতি বোরো ধান উঠানে উঠানোর সময় কৃষকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ধান বহনকারী গাড়ীগুলো কয়েক কিলোমিটার ঘুরে আসার কারণে অতিরিক্ত গাড়ির ভাড়া দিতে হয়েছে।

আনারপুর গ্রামের কভিদ আলী বলেন, সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ায় এলাকার ৪-৫ টি ওয়ার্ডের প্রায় ৫ হাজার লোকের চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছে। কৃষকরা জমিতে কৃষি উপকরণ নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভারী যানবাহন নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ভাঙ্গা সেতুটির উপর মানুষ চলচলের জন্য বাঁশের পাটাতন তৈরি করে দিয়েছে। নতুন করে সেতুটি তৈরির দাবি জানান।
ওই এলাকার ইউপি সদস্য মোকসেদুল ইসলাম বলেন, সেতু ভাঙ্গার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত আবেদনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গত ৩-৪ দিন পূর্বে সংযোগ সড়কটি নির্মাণের জন্য রাস্তাটি পরিদর্শন করেছেন। সড়কটি দ্রুত নির্মাণ কাজ হবে বলে তাকে জানিয়েছেন। সড়কটি নির্মাণ হলে সেতুটি অচিরেই নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, সেতুটি নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সুলতানুল ইমাম বলেন, তার কার্যালয়ের একটি দল সড়কটি পরিদর্শন করে প্রকল্প প্রস্তুত করেছে। বরাদ্দ পেলেই রাস্তা ও সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

সানশাইন/১১ জুলাই/রনি

জুলাই ১১
২০:৫৩ ২০২১

আরও খবর