Daily Sunshine

চেয়ারম্যানের দুর্ণীতির প্রতিবাদ করায় বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্রকে মারপিট

Share

স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা : রাজশাহীর বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আযমের বিরুদ্ধে একজন নারীর নামীয় ভিজিডির কার্ড অপর আরেকজনকে দেয়ার আভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যানের ছোট ভাই, দুই ছেলে এবং দুই ভাতিজা “মাসুদ রানা ’’ নামে এক বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়া ছাত্রকে বেধড়ক মারপিট করে আহত করেছে।

গত (৭-জুলাই) রাতে উপজেলার চকরাজাপুর এলাকায় এ ঘটনা সংঘটিত হয়। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ঐ ছাত্রকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা সহ-চেয়ারম্যান আজিজুল আযমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানান। ফলে চিকিৎসারত অবস্থায় ঘটনার পরদিন ঐ ছাত্র বাঘা থানায় এসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, চকরাজাপুর ইউপির ৮ নং ওয়ার্ডের রেখা খাতুন এর নামে চলতি ২০২১/২২ অর্থ বছরে অনলাইনে আবেদনের ভিত্তিতে একটি ভিজিডি কার্ড হয়। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান আজিজুল আযম ঐ কাডটি তাঁর এক আত্নীয়কে দিয়েছেন। এর ফলে প্রাপ্ত অনুদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রেখা খাতুন। তিনি সম্প্রতি এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু অদ্যাবধি এর কোন প্রতিকার পাননি।

নিরুপায় হয়ে রেখা খাতুন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সহ অনেকের কাছে বিষয়টি অবগত করেন। এর ফলোশ্রুতিতে গত ৮ তারিখ সকালে ঐ এলাকার বিশ্ব বিদ্যালয় পড়া ছাত্র মাসুদ রানা(২৩) উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে এসে উক্ত কার্ডের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। এরপর বিকেলে বাড়ি গিয়ে তিনি এলাকার গন্যমান্য অনেককের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা সহ ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

এর জের ধরে চেয়ারম্যান ছোট ভাই ফরিদ আহাম্মেদ টিটু (৪৫) তাঁর ছেলে নাফিজ (২১) ও রাফিদ(২৩) এবং ভাতিজা প্রমিথ (২০) ও শাকিল(২০) মিলে রাত ৮ টার দিকে মাসুদ রানাকে একা পেয়ে বেধড়ক মারপিট করে আহত করে। ঘটনার এক পর্যায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসারত অবস্থায় মাসুদ রানা বাঘা থানায় একটি লিখিত অভিযোদ দায়ের করে।

এ বিষয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, আমি অভিযোগ পেয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পংকজ দাসের কাছে একজনের নামীয় ভিজিডি কার্ড আরেকজন কেন ভোগ করবে এমনটি প্রশ্ন করে ছিলাম। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, অভিযোগকারি রেখা খাতুন মাতৃত্বকালিন কার্ডের সুবিধা নেন। এ কারনে চেয়ারম্যান পরবর্তী কার্ডটি আনোয়ারা নামে আরেক জন নারীকে দিয়েছেন।

তবে চেয়ারম্যান আজিজুল আযম দাবি করেছেন, তার অঞ্চলের কিছু লোকজন বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মরিয়া হয়ে লেগেছে। এ কারনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় লোকজন উৎকানি দিয়ে বিশ্ব বিদ্যালয় পড়া ঐ ছাত্রকে দিয়ে থানায় অভিযোগ করিয়েছেন।

বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আজিজুল আযমের সাথে আমার কথা হয়েছে। তিনি বিষয়টি আপোশ-মিমাংসা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একদিন সময় নিয়েছেন। যদি সেটি না হয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জুলাই ১১
১৮:৪২ ২০২১

আরও খবর