Daily Sunshine

বগুড়া শেরপুরে সাঁকোর মুখ বন্ধ থাকায়  পানিবন্দি মানুষ 

Share
মিন্টু ইসলাম (শেরপুর বগুড়া)প্রতিনিধিঃ একটি সাঁকোর মুখ বন্ধ থাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে পাঁচশো পরিবার। গ্রামবাসীর বাড়ির উঠান, চলাচলের রাস্তাসহ সব জায়গাতেই পানি উঠেছে। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে এমন জলাবদ্ধতার মাঝেই গ্রামবাসী দৈনন্দিন কাজকর্ম করছেন।  এমন পরিস্থিতি ওই ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের দক্ষিণ ও নওদা পাড়ায়।
গ্রামবাসী জানান, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক বছর ধরে বর্ষাকালে এই সমস্যায় ভুগতে হয় তাদের। বিষয়টির সমাধানের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার বলা হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলতলা ও আন্দিকুমড়া গ্রামের কোন মাস্টার ড্রেন নেই। ফুলতলা গ্রামের বর্জ্যপানি বাড়িঘরের পাশ দিয়ে ছোট নালা দিয়ে আন্দিকুমড়া গ্রাম হয়ে বের হয়ে যেত। ওই স্থানে একটি সাঁকো আছে। কিন্তু অনেকদিন ধরে সাঁকোর মুখ বন্ধ রয়েছে। এতে ফুলতলা গ্রাম ও নওদাপাড়ার বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের বাড়িঘর নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশনের এ পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গ্রাম দুটি পানিতে তলিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছে অনন্ত তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্য একটি ড্রেন নির্মাণ করলে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় সেই কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলতলা গ্রামের পানি নিষ্কাশনের সাঁকোর মুখ বন্ধ করে দিয়ে দুই পাশে শাহাবুদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন বাড়িঘর করে বসবাস করার কারণে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এতে পুরো গ্রামটি পানিতে থৈথৈ করছে। কোথাও গোঁড়ালি পর্যন্ত আবার কোথাও হাঁটু পানি। ফলে গ্রামে চলাফেরায় দেখা দিয়েছে সমস্যা। গ্রামের প্রায় সবার রান্নাঘর শৌচাগার ও বাড়ির উঠানে পানি। পানি জমে থাকায় চুলা ডুবে গেছে। চুলা জ্বালানোর ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। গ্রামবাসীর গোসলখানায়ও পানি উঠেছে। বাধ্য হয়ে বাইরের উঠানের এক পাশে অস্থায়ী গোসলের জায়গা করা হয়েছে।
ফুলতলা গ্রামের প্রবীন বাসিন্দা গেন্দু প্রামানিক বলেন, আমাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই, পানির ভিতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ঘাঁ হয়ে গেছে। চার দিকে পানি আর পানি। মনে হচ্ছে ৮০ দশকের বন্যায় পানিবন্দি হয়ে আছি। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গৃহবন্দী অবস্থা আমাদের। উঠানের ভিতরে পানি দরজা ছুঁই ছুঁই করছে। পানির মধ্য দিয়েই এঘর-ওঘর এবং টয়লেটে যাতায়াত করছি।
তিনি আরও বলেন, পুরাতন বাশেঁর খুটি আর উপরে নতুন টিন দিয়ে আবার মুরগির ঘর তৈরি করেছি। সেই মুরগির ঘরও তলিয়ে গেছে। একই গ্রামের সুলতান মাহমুদ বলেন, এই এলাকায় কোন উন্নয়ন কাজ না হওয়ায় প্রতিবছর এই বর্ষা মৌসুমে জুড়ে কষ্ট করতে হয়। মামুন, বাদশা, মোজাম্মেলসহ কয়েক জন গ্রামবাসী জানান, ফুলতলা দক্ষিণপাড়া ও নওদাপাড়ার প্রধান সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা। বছরের পর বছর বর্ষাকালে আমাদের এই সমস্যায় ভুগতে হয়। এসব সমস্যার বিষয়ে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোন প্রতিকার পাইনি।
সাঁকোর মুখ বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণকারী শাহাবুদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমিটি আমার ব্যক্তিগত,জায়গাও খুব কম। সাঁকোর জন্য জমি ছাড়লে ঘরই করতে পারবো না। তাছাড়া এখানে তিন দিক থেকে পানি গড়ায়। সাঁকোর পথ বন্ধ না থাকলে আমার বাড়িও ভেঙ্গে যাবে। এ জন্য নিরুপায় হয়েই সাঁকোর মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
পানি নিষ্কাশন সমস্যার কথা স্বীকার করে ওই এলাকার ইউপি সদস্য সাইদার রহমান সাকিব বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে আন্দিকুমড়া সাঁকো দিয়ে পানি নিষ্কাশন হচ্ছিল। সেই সাঁকোর মুখে বাড়ি হয়ে পানি গড়ার জায়গা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ জন্যই ফুলতলা এলাকাটি পানিতে তলিয়ে যায়। ইউপি সদস্য আরও বলেন, বৃষ্টির পানি দীর্ঘদিন জমে থাকায় আবর্জনা পানিতে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এখন একটা মাস্টার ড্রেন নির্মাণ হলে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব হতে পারে। ড্রেন নির্মাণের বিষয়ে কথা বলার জন্য শাহবন্দেগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। শেরপুর নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষন কমিটির সভাপতি মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু বলেন ফুলতলা দক্ষিণপাড়া ও নওদাপাড়ার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। এই সমস্যা সমাধানে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ময়নুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। এখন জানলাম। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
জুলাই ০৪
২০:০৩ ২০২১

আরও খবর