Daily Sunshine

বগুড়া শেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে ভাঙন আতংকে আশ্রয়ী মানুষ

Share

মিন্টু ইসলাম (শেরপুর বগুড়া)প্রতিনিধি:  মুজিববর্ষ উপলক্ষে বগুড়ার শেরপুরে খানপুর ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বিশেষ উপহারের ২২টি ঘরের ৫টি একাংশ ভেঙ্গে পড়েছে। বাকিগুলোও হুমকীর মুখে। বরাদ্দের থেকে কম ইট, বালু, সিমেন্ট ব্যবহার করার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতাকেই দায়ি করছেন এলাকাবাসী।

শেরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ-২ এর আওতায় উপজেলায় ১৬৩টি ভূমিহীন পরিবারকে ০২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে একটি সেমি পাকা গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। যার প্রতিটি গৃহ নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এই প্রকল্পের অধীনে শেরপুর উপজেলায় প্রায় তিন কোটি টাকার এই কাজের দেখভাল করছেন স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় খানপুর ইউনিয়নে বুড়িগাড়িদহ নামক একটি খালের পাশে ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২২টি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধান মন্ত্রীর প্রথম দফায় উদ্বোধনের পরেও অধিকাংশ ঘরগুলোতে এখনও সব পরিবার বসবাস করা শুরু করে নাই। কারণ হিসেবে জানা যায় ঘর গুলোতে এখনও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয় নাই।

 

এছাড়াও ৫টি ঘর ধ্বসে পড়ার কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়ছে।এ বিষয়ে কর্মরত নির্মান শ্রমিকদের কাছ থেকে জানা যায়, এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ তত্বাবধান করেছেন স্থানীয় ইউএনও। বাড়ি করার সময় মাটি সমান করার সময় সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে এস্কেভেটর দিয়ে পাশ থেকেই মটি উত্তোলন করা হয়। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধ্বসে প্রায় ৬ ফুট গভীর খাদের সৃষ্টি হয়। সাথে সাথে পাঁচটি ঘরের প্রতিটির অর্ধেক বিলিন হয়ে যায়। বাকি ঘর গুলোও যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়বে বলে আশংকা করছেন বাসিন্দারা। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সুবিধা ভোগী বাসিন্দা জানান, প্রশাসনের পাশাপাশি বাসিন্দারাও ব্যক্তিগত শ্রম ও অর্থ দিয়ে ঘরগুলোকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন।

 

কিন্তু সম্ভব হয় নাই। মাত্র দুই দিনের ভারি বর্ষণে ধ্বসে পড়েছে। ভেঙ্গে পড়া ঘরগুলো মেরামত করার জন্য বাশেঁর খুটি পুতে বালির বস্তা দিয়ে ব্লক করে মাটি ভরাট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রকৌশলী রেজাউর রহমান বলেন, বাঁশের প্যালাসেটিং এ মাটি সর্বোচ্চ একবছরের বেশি ধরে রাখা সম্ভব না। এ ক্ষেত্রে প্রিকাস্ট পাইলিংয়ের কোন বিকল্প নাই। ফলে ভেঙ্গেপড়া ঘর গুলো মেরামত ও প্রকল্প রক্ষার প্রশাসনিক উদ্যোগ দায়সারা বলে মনে করছেন।

 

খানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, তিনি অসুস্থতার কারণে এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারেন নাই। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারছেন না।এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরপুর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো: ময়নুল ইসলাম বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, পিডাব্লউডি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন। তাদের পরমর্শ অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্থ ঘরগুলি মেরামত ও পুণঃনির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।

জুলাই ০১
২০:৪৫ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]