Daily Sunshine

সীমান্তবর্তী বাঘা করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে, ভয়ে টেস্ট করাছেন না অনেকে

Share

নুরুজ্জামান,বাঘা : মহামারী করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কায় শত-শত মানুষের প্রান গেলেও স্বাস্থ্য বিধি মানতে উদাসীন সাধারণ মানুষ। ভারতীয় সীমান্তবর্তী বাঘা উপজেলায় ঘরে-ঘরে সর্দি-কাসি ঢুকে গেলেও ভয়ে করোনা ট্রেস্ট করাতে আসছে না সাধারণ মানুষ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এলাকা হওয়ার সুবাদে এ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পালস অক্সিমিটার এবং অক্সিজেন-থেকে শুরু করে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সহ সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থাকলেও এর তোয়াক্কা করছে না অনেকে। এতে করে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা-সহ সমাজের অভিঙ্গ মহল ।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট মিলছে ভারতে। যাকে বলা হচ্ছে ডেল্টা প্লাস সংস্করণ। সম্প্রতি এটি ভারতের সীমান্তবর্তী চাপাই নবাবগঞ্জ, নওগা এবং খুলায় ধরা পড়েছে। এ থেকে বাঘা ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় অনেকের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ফলে করোনার উপসর্গ জ্বর, সর্দি, কাশি এবং গলা ব্যাথা নিয়ে কিছু মানুষ বাড়িতে চিকিৎসা নিলেও তারা বিষয়টি গোপন রাখছেন বলে এলাকাবাসী ও সুধীজনদের মুখ থেকে এসব খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এক পরিসংখ্যান জানা গেছে, এই মুহুর্তে সারাদেশে করোনার যে পরিস্থিতি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রুপ নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তবর্তী রাজশাহী অঞ্চলে। এর মধ্যে চাপাইনবাবগঞ্জ, গোদাগাড়ি, নওগা, নাটোর এবং চারঘাট-বাঘায় এর ভয়াবহতা লক্ষ করা গেছে সবচেয়ে বেশি। রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে একদিনে গত (২৯ জুন) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে সর্বচ্চ ২৫ জন। এদিক থেকে জেলার বাঘায় গত ৭ দিনে ৩৯৫ জনের করোনা পরীক্ষা করা হলে পজেটিভ ধরা পড়েছে ১০৫ জনের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব সূত্রে জানা গছে, গত বছরের ৬ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত বাঘায় করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে দেড় হাজার মানুষের । এর মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯০ জন। এদের মধ্যে অনেকেই মারা গেছে। আবার কেউ-কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজের সুধীজন। যারা মানছেনা স্বাস্থ্য বিধি। আবার অনেকেই উপসর্গ বোঝার পরেও নমুনা পরীক্ষা করছে না বলে অভিযোগ করছেন অনেকে। ফলে উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছেন খোদ চিকিৎসকরা-সহ সমাজের অভিঙ্গ মহল। তাঁদের মতে করোনা পরীক্ষার জন্য জনসচেতনতা খুবই প্রয়োজন।

চিকিৎসকদের মতে, একজন মানুষের শারিরীক অবস্থা বুঝে নিজ উদ্যোগে করোনা পরীক্ষা করা উচিত। কিন্তু বাস্তবে সেটি হচ্ছেনা। ফলে মহামারি করোনায় প্রতিদিন রাজশাহী অঞ্চল সহ দেশব্যাপী আক্রান্ত হচ্ছে হাজার-হাজার মানুষ। এর মধ্যে বেশি ভয়াবহত লক্ষ করা গেছে আমারদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে। ডাক্তারদের মতে, এটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম। যার কালো থাবায় আজ টালমাটাল সারা পৃথিবী। মহামারি এই করোনার কাছে ধনী-গরীব, ছোট-বড় সবাই যেন অপরাধী। সবাইকে আক্রমন করছে এই রোগ। যার ছোবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না দুগ্ধ শিশু থেকে শুরু করে আবাল-বৃদ্ধ বনিতা।

এদিকে জনগনকে সচেতন করতে মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না আসার জন্য প্রতিনিয়ত মাইকিং করছেন উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে লকডাউন। তবে বাঘা ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় অনেকের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এর ফলে করোনার উপসর্গ জ্বর,সর্দি,কাশি এবং গলা ব্যাথা নিয়ে অনেকে বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিলেও তারা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে করোনা পরিক্ষা করতে আগ্রহী হচ্ছেনা।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: রাশেদ আহমেদ বলেন, তুলনা মূলক ভাবে এখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি জনসাধারণকে এ বিষয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলকে মাস্ক পরিধান করা সহ প্রয়োজন ছাড়া কোনভাবেই ঘরের বাইরে না আসার নির্দেশ দিচ্ছেন।

ডা: রাশেদ আরো বলেন, রাজশাহীর সীমান্তবর্তী উপজেলা (চারঘাট-বাঘা) এখান থেকে নির্বাচিত সাংসদ সদস্য বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইতোমধ্যে নিজেস্ব অর্থায়নে ডাক্তারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্র সহ রুগীদের জন্য ৩০ টি পালস অক্সিমিটার দিয়েছেন। এই যন্ত্রটির কাজ হলো-রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ও হৃদস্পন্দনের গতি নির্ণয় করা। এ ছাড়াও জরুরী রুগীদের জন্য তিনি ১০ টি বড়-বড় অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগতম জানিয়েছেন চিকিৎসক সহ এলাকাবাসী। তার মতে, করোনা রুগীদের চিকিৎসার জন্য পঞ্চাশ শয্যা বিশিষ্ট বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সব রকম ব্যবস্থা আছে। এখন শুধু প্রয়োজন এটি পরীক্ষা-নিরিক্ষার জন্য জনসচেতনা।

জুন ৩০
১০:১০ ২০২১

আরও খবর