Daily Sunshine

তথ্য সেবা পেতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ

Share

নুরুজ্জামান,বাঘা : অবাধ তথ্য প্রবাহ জনগনের ক্ষমতায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে নাগরিকদের তথ্য ও প্রযুক্তির বিকল্প নাই। আধুনিক তথ্য ও সেবা এখন স্থানীয় নাগরিকের হাতের নাগালে। বিশেষ করে অনলাইনে চাকরির আবেদন, জন্ম নিবন্ধন, নাগরিক সনদ,প্রত্যায়ন পত্র ইত্যাদি সেবা পেতে এখন মানুষ ছুটছেন পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদে। তবে যারা এ কাজের সাথে সম্পৃক্ত তাদের সরকারি ভাবে কোন ভাতা না দেওয়ায় উপকার ভোগীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মাঝে তথ্যসেবা পৌঁছে দিয়ে জনগণের মতায়ন নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। এ লক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০১০ সালে ইউনিয়ন এবং পৌরসভা সমূহে পর্যায়ক্রমে ‘তথ্য সেবা কেন্দ্র (ইউআইএসসি)’ স্থাপনের উদ্যোগ নেন। যাতে করে গ্রামের সাধারণ মানুষ তাদের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং মেয়র মহাদ্বয়ের কার্যালয়ে গিয়ে কাঙ্খিত সেবা পান। কিন্তু বাস্তব অর্থে সেটি হচ্ছেনা বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তারা বলছেন, সরকার কম খরচে এসব তথ্য কেন্দ্রে গিয়ে আমাদের সেবা নেয়ার কথা ঘোষনা করলেও যারা দায়িত্বে রয়েছেন তারা ইচ্ছে মতো অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন(ইউআইএসসি) হচ্ছে এমন একটি অত্যাধুনিক তথ্য টেলিসেন্টার-যার উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা নিশ্চিত করা। এটির উদ্দেশ্য অবাধ তথ্য প্রবাহ জনগনের মতায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। বিশেষ করে অনগ্রসর জনগনের মাঝে তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনায়ন করা সম্ভব।

এর সুবিধা সমুহের মধ্যে রয়েছে-খুব কম সময় ও কম খরচে দেশে-বিদেশে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ, ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের শত-সহস্ত্র ওয়েব-সাইটে ব্রাউজ করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের আদান-প্রদান করার সুবিধা, অফলাইন তথ্যভান্ডারে ভিভিও, অডিও, এনিমেশন ,টেক্সট ফরম্যাটে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন ও মানবাধিকার, কর্মসংস্থান, বাজার, বিভিন্ন সরকারী ফরম প্রভৃতি বিষয়ক তথ্য ও সেবা নেওয়া, আরো থাকবে ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে নাগরিক সনদপত্র গ্রহন, জন্ম নিবন্ধন, প্রত্যায়ন পত্র, ওয়ারিশন সনদ, ট্রেড লাইসেন্স সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সেবা, যেমন -স্বল্প মূল্যে কম্পোজ, প্রিন্টিং, ফটোকপি, ফটোতোলা, স্ক্যানিং প্রভৃতি ।

বাঘার বাজুবাঘা ইউনিয়নের শামিম আহাম্মেদ জানান, সরকার ঘোষিত নিয়ম রয়েছে কোন শিশু জন্ম গ্রহনের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করলে সেটি ফ্রি পাওয়া যাবে। এবং তার পরে গেলে পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত নিতে পারবে। কিন্ত এখানে সরকারি সময় সীমার মধ্যে গেলে নেয়া হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং নির্ধারিত সময়ের পরে গেলে নেওয়া হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এমনি ভাবে যে কেউ তথ্য সেবা কেন্দ্রে গিয়ে কোন সেবা নিতে গেলেই নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। এ চিত্র শুধু বাজুবাঘার নয়, এর ভয়াবহতা বাঘার অন্যান্য ৬ ইউনিয়ন এবং ২ পৌর সভায় আরো বেশি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাজুবাঘা ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রের অপারেটর আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা যে কম্পিউটার, পিন্টার, কাগজ, কালি, ক্যামেরা ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকি এগুলো সবই আমাদের নিজের টাকায় কেনা। সরকারি ভাবে আমাদের কোন সম্মানী ভাতা কিংবা ঈদে বনাস দেয়া হয়না। তার মতে, সেবা নিতে আসা মানুষ গুলো বাইরে যতটা অপবাদ রটায় বাস্তব অর্থে আমরা সে ভাবে টাকা নেয়না। বরং বাইরের কম্পিউটারের দোকানে গেলে আমাদের চেয়ে তারা আরো বেশি টাকা নেয়। তবে আমাদের কাছে লোকজনের ভিড় থাকায় হয়তো সময় একটু বেশি লাগে। অনুরুপ কথা বলেন, উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়ন এর কম্পিউটার অপারেটরগণ।

বাঘার আড়ানী পৌর সভার সফল মেয়র মুক্তার আলী বলেন, ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে খুব দ্রুত পৌরসভার প্যাকেজ প্রোগ্রামের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন, ওয়রিশান সার্টিফিকেট, প্রত্যায়ন পত্র, নাগরিকত্ব সনদ দেয়া হয়। আমার ঘোষনা রয়েছে, কোন শিশু জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে তার পিতা-মাতা পরিষদে এসে জন্ম নিবেন্ধন নিলে তাকে দেয়া হবে বিশেষ উপহার। তবে পৌরসভায় নাগরিকদের শতভাগ সেবা নিশ্চিত করার পরেও সেবা নিতে আসে মাত্র ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ মানুষ।

এ পসঙ্গে মনিগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, জন্ম নিবন্ধন বিষয়ে তথ্য সেবা কেন্দ্রে অতিরিক্ত অর্থ না নেয়ার জন্য আমার কড়া নির্দেশনা রয়েছে।কারণ এটি সরকারের জাতীয় নীতিমালা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জন্ম নিবন্ধন হলো একটা মানুষের প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। রাষ্ট্র এই ভাবে স্বীকার করছে যে, হ্যাঁ, তুমি শিশু রূপে এ রাষ্ট্রের একজন ভবিষ্যৎ নাগরিক হয়ে এসেছো। তোমাকে এ রাষ্ট্রের স্বীকৃত ও নাগরিকের মর্যাদা সহ সকল সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে।

সার্বিক বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর একটি অত্যাধুনিক তথ্য ও জ্ঞানকেন্দ্র (টেলিসেন্টার) যার উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা নিশ্চিত করা। এসব কেন্দ্র থেকে গ্রামীণ জনপদের মানুষ খুব সহজেই তাদের বাড়ীর কাছে পরিচিত পরিবেশে জীবন ও জীবিকা ভিত্তিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় সেবা পায়।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোন তথ্য সেবা কেন্দ্রে বেশি অর্থ নেয়া হচ্ছে এ রকম কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। তার পরেও এ বিষয়ে আমি স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পৌর সভার মেয়র মহাদ্বয়দের সাথে কথা বলবো।

জুন ২৯
১১:৫৫ ২০২১

আরও খবর