Daily Sunshine

অতিরিক্ত ব্যয় চিহ্নিত পিছুটান ঠিকাদারদের

Share

সানশাইন ডেস্:আখাউড়া-সিলেট, জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী এবং ময়মনসিংহ-জামালপুর রেলপথ (মিশ্র গেজ ডাবল লাইন) নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন এক রকম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই তিন প্রকল্প নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয় চিহ্নিত হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প থেকে ৪ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয় কমানোর অনুশাসন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর অপর প্রকল্পের বিষয়ে প্রাইজ অ্যাডজাস্টমেন্ট ২৭-এর পরিবর্তে ১০ শতাংশ করাসহ আরও কয়েকটি খাতে ব্যয় কমাতে বলা হয়েছে। কিন্তু এসব প্রস্তাব মানতে নারাজ ঠিকাদাররা। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই ধরনের লাইন নির্মাণে একেক প্রকল্পে ব্যয়ের ব্যবধান অস্বাভাবিক। এর মধ্যে আখাউড়া-সিলেট প্রকল্পে লাইন নির্মাণে প্রতি কিলোমিটার ৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং আখাউড়া-লাকসাম প্রকল্পে ১৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দুটি প্রকল্প একই এলাকায় এবং একই মানসম্পন্ন। এ ছাড়া জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটার লাইন নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১ কোটি টাকা। অথচ একই ধরনের (মিশ্র গেজ ডাবল লাইন) প্রকল্প-কুলাউড়া-শাহবাজপুর লাইন নির্মাণে প্রতি কিলোমিটার ব্যয় হচ্ছে ১০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। যেটির কাজ শেষের দিকে। শুধু তাই নয়, একই ধরনের আরেক প্রকল্প ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লাইন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি কিলোমিটারে ১৬ কোটি টাকা। কম মূল্যে রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পগুলো প্রতিযোগিতামূলক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে হয়েছে। কিন্তু যে প্রকল্পগুলো উন্মুক্ত দরপত্রবিহীন সম্পন্ন হয়েছে-সে প্রকল্পগুলোর ব্যয় বহুগুণ বেশি। কয়েকটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শর্ত অনুযায়ী দরপত্রবিহীন কাজ পেয়েছে।

এ বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, তিনটি প্রকল্প বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী আমরা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের জবাব সন্তোষজনক নয়। মূলত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী কম মূল্যে কাজ করতে চাচ্ছে না। আমরা নিশ্চয় বিকল্প ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, এআরডি নিশ্চয় দেখবে এসব প্রকল্পের অর্থ কোথা থেকে আসবে। তবে প্রকল্পগুলো পিছিয়ে যাচ্ছে। আমরা কয়েক সপ্তাহ আগে সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছি। কিছু দিনের মধ্যে-বৈঠকে ও লিখিতভাবে উপস্থাপিত ঠিকাদারদের বক্তব্য এবং রেলওয়ের বক্তব্যসহ চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এ তিন প্রকল্প একই সুতোয় বাঁধা। একটি না হলে অন্যটিতে প্রভাব পড়বে-এটাই স্বাভাবিক।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জিটুজি পদ্ধতিতে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (সিআরবিজি) যথাক্রমে জয়দেপুর-ঈশ্বরদী, আখাউড়া-সিলেট মিশ্র গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পেয়েছে। একই সঙ্গে চায়না রেলওয়ে ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (সিআরইজি) ময়মনসিংহ-জামালপুর প্রকল্পে মনোনীত হয়েছে। সিলেট-আখাউড়া প্রকল্প ব্যয় ১৬১০৪.৪৫ কোটি, জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী প্রকল্প ব্যয় ১৪২৫০.৬১৩৯ কোটি এবং ময়মনসিংহ-জামালপুর প্রকল্প ব্যয় ১২৩২৯.২৮ কোটি টাকা। এ তিন প্রকল্পের মধ্যে দুই প্রকল্প (আখাউড়া-সিলেট ও জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী) থেকে ৪ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয় কমানোর অনুশাসন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ-রেলে একের পর এক মিশ্র গেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। রেললাইন নির্মাণে বিশ্বের যে কোনো দেশের চেয়ে বাংলাদেশে ব্যয় বেশি হলেও এ নিয়ে যেন কারও ‘মাথাব্যথা’ নেই।

তাদের আরও অভিযোগ, শুধু উল্লিখিত রেললাইন প্রকল্পই নয়, পদ্মা রেললিংক নির্মাণ প্রকল্পেও অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে। ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পে আরও ২৮০ কোটি টাকা বাড়ছে। সেখানে প্রতি কিলোমিটার পথ নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৬৮ কোটি টাকা। খোদ রেলওয়ের একাংশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদেই একশ্রেণির দালাল এই কারবারে যুক্ত।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ‘সিঙ্গেল গেজ ডুয়েল হচ্ছে আখাউড়া-সিলেট রেলপথ : কয়েক হাজার কোটি টাকা অপচয়ের আয়োজন’-শিরোনামে একটি প্রতিবেদন যুগান্তরে প্রকাশিত হয়। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গত বছরের ১২ অক্টোবর প্রতিবেদন জমা দেয়। এদিকে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করা এক তদন্তে এসব প্রকল্পে বাড়তি ব্যয় ধরার তথ্য উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আখাউড়া-সিলেট ও জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী দুটি প্রকল্প ব্যয় (৩০ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা) থেকে ৪ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা কমানোর অনুশাসন দিয়েছেন।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহম্মদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জিটুজি পদ্ধতিতে প্রকল্প তিনটির যুক্তিসঙ্গত প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণে একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক ও ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র সচিব শামীমা নার্গিস স্বাক্ষরিত কমিটির প্রতিবেদনে ব্যয় কমানোর সুপারিশ তুলে ধরে ওই বছরের ১২ অক্টোবর মুখ্য সচিব-প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেন।

এর পরপরই দুই প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় এসব প্রকল্প চীনা অর্থায়ন করবে বলে সমঝোতা হয়েছিল।

গত বছরের ৯ ডিসেম্বর রেলওয়ে মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে কমিটির সুপারিশ পরিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে আলোচনা করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সদস্য চলতি বছরের ৯ মার্চ সিআরবিজির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ১৬ মার্চ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আখাউড়া-সিলেট প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) বরাবর ১৮টি অনুচ্ছেদের মাধ্যমে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে প্রকল্পের মূল্য পুনর্র্নিধারণের বিষয়ে একমত পোষণ করেনি এবং প্রকল্পের বিষয়ে নেগোসিয়েটেড/ডিপিপির অনুমোদিত দরমূল্য বহাল রাখার বিষয়ে মতামত প্রদান করে। যা কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের সুপারিশ ও মতামতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এদিকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান একই পত্র চলতি বছরের ৬ জুন রেলওয়ে মহাপরিচালকের বরাবর জমা দিয়েছে।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে রেলওয়ে মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার বলেন, তিনটি প্রকল্প নিয়ে আমরা বারবার বৈঠক করছি। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকও হচ্ছে। প্রকল্পের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে তারা কাজ করতে চাচ্ছে না। আমরা সর্বশেষ চলতি মাসের ৯ তারিখ রেলপথমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিশেষ বৈঠক করেছি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো যদি কাজ না করে কিংবা চীন সরকার ঋণ না দেয়-তাহলে বিকল্প চিন্তা আমাদের করতেই হচ্ছে। তবে আমাদের বিশ্বাস ঠিকাদার কোম্পানিগুলো একটি যথাযথ যুক্তিতে আসবে। প্রতিবেদনের বিপরীতে তারা যে ১৮টি অনুচ্ছেদ জমা দিয়েছে তা প্রতিবেদনের সঙ্গে যায় না।

৯ জুন রেলপথমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিশেষ বৈঠক করে রেলপথ মন্ত্রণালয়। গত বছরের ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুশাসন এবং ব্যয় যুক্তিযুক্তকরণ কমিটির প্রতিবেদন সুপারিশ অনুযায়ী আখাউড়া-সিলেট প্রকল্পে ৩৩৫৪.৩১ কোটি টাকা (২০.৮%) কমিয়ে প্রকল্পটির সংশোধনের কথা বলা হয়। এ প্রকল্পে প্রাইস এডজাস্টমেন্ট ২৭%-এর স্থলে ১০ শতাংশ করে ৪টি অঙ্গের পরিমাণ পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু ব্যয় কমানোর প্রস্তাব মানতে রাজি হয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী মিশ্র গেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের অবস্থাও একই। এই কাজের ঠিকাদার সিসিইসিসি। এ প্রকল্পেও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র হয়নি। প্রকল্প ব্যয় ১৪২৫০.৬১৩৯ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী এ প্রকল্পে ১৪৯৫.৬১৯০ কোটি টাকা কমানোর কথা বলা হয়েছে। এ পথে প্রতি কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬১ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে প্রতিটি সরঞ্জামের মূল্য প্রতি বছর ২৫ শতাংশ হারে বাড়বে ধরে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন পেয়ে ব্যয় যৌক্তিকীকরণ কমিটি তা ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করে। এতেই ব্যয় কমে যায় ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। প্রতি ঘনমিটার মাটি ভরাটের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০০ টাকা। অথচ রেলের অন্য প্রকল্পে প্রতি ঘনমিটার মাটি ভরাট হচ্ছে ২৫০ টাকায়।

যৌক্তিকীকরণ কমিটি সব মিলিয়ে ১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা ব্যয় কমানোর সুপারিশ করে। গত ১৭ জানুয়ারি রেল কর্তৃপক্ষ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে চীনা সরকারকে ব্যয় কমানোর বিষয়টি জানায়। রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যয় কমানোর বিষয়ে চীন প্রত্যুত্তরে নানান যুক্তি দেখিয়ে বলেছে-প্রকল্পের অনেক অংশের মূল্য বেশি। ব্যয় কর্তন মেনে কোনো অবস্থাতেই তারা কাজ করবে না।

শুক্রবার বিকালে প্রকল্প পরিচালক গোলাম মোস্তফা যুগান্তরকে জানান, ঠিকাদার সাফ জানিয়েছে দিয়েছে কম টাকায় তারা কাজ করবে না। অর্থাৎ তারা সটকে পড়ছে। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুর পর্যন্ত মিশ্র গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারের সঙ্গে দরদাম ঠিক হয়েছে। পূর্বের দুটি প্রকল্প থেকে যদি তারা সটকে যায় সে ক্ষেত্রে এ প্রকল্পটির বিষয়েও রেলওয়েকে বিকল্প ভাবতে হবে।

জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর মিশ্র গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পও জিটুজি পদ্ধতিতে হচ্ছে। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৩২৯.২৮ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনে এই প্রকল্পের ব্যয়ও যৌক্তিক করার কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, কমিটির সুপারিশসহ সার্বিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সামছুল হক যুগান্তরকে জানান, জিটুজি প্রকল্প মানেই অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এমন প্রকল্পে উপকার নয়-বরং ঋণের বোঝা ভারী হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যে তিন প্রকল্পে ব্যয় কমানোর নির্দেশনা দিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। তবে এমন অনিয়ম-পুকুর চুরির প্রকল্পগুলোয় যারা সংশ্লিষ্ট তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সানশাইন/জুন ২৮/ইউ

জুন ২৮
১০:১২ ২০২১

আরও খবর