Daily Sunshine

বগুড়া শেরপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেনীর হলেও মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত

Share
মিন্টু ইসলাম(শেরপুর বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার প্রায় সমগ্র এলাকাজুড়ে রাস্তার বেহাল দশা। রাস্তাগুলোর অধিকাংশ জায়গায় কার্পেটিং নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষাকালে একটু বৃষ্টি হলেই শহরের অধিকাংশ স্থানে পিচ্ছিল, কাদা, খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয় । শেরপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেনীর হলেও মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। জানা যায়, শেরপুর পৌরসভা ১৮৭৬ সালে স্থাপিত হয়েছে।
শেরপুর পৌরসভা ক ‘শ্রেণির এবং বহুবিধ কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পৌরসভায় হাজার হাজার লোক বসবাস করে। শেরপুর ডিগ্রী কলেজের কৃষি বিভাগের প্রভাষক জয়নুল আবেদীন বলেন, কয়েক বছর ধরে এসব রাস্তার সংস্কার করা হয় না। এতে করে রাস্তার অনেক স্থানে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। শেরপুর পৌরবাসীরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পথচারীদের চলাচল করতে খুব সমস্যা হচ্ছে । সরেজমিনে দেখা যায়, রণবীর বালা ব্রিজ থেকে শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসা মোড়, সেখান থেকে উত্তর দিকে হাটখোলা রোড, ধনুট রোডের মোড় হয়ে তালতলার ভেতর দিয়ে বারদুয়ারী পাড়ার রেজিস্ট্রি অফিস বাজার এলাকার রাস্তার অবস্থা আরও শোচনীয়।
এছাড়া ডি জে হাই স্কুলের গেট থেকে ঘোষপাড়া হয়ে ফুলবাড়ী ব্রীজ পর্যন্ত, শেরপুর উপজেলা কমপ্লেক্স পার হয়ে মেথর পট্টির পাশ দিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের মোড় হয়ে সকাল বাজার চার মাথা পর্যন্ত পথচারীদের রাস্তায় চলাচলে প্রতিনিয়ত করুণ চিত্র চোখে পড়ে।
স্থানীয় বাস স্ট্যান্ড থেকে ফল বাজার হয়ে ডাক্তার রহমতুল বারীর বাড়ির পাশ দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের-উত্তরা প্লাজা সংযোগ সড়কসহ বিকেল বাজার রোডস্থ রামচন্দ্রপুর পাড়ার ভেতর দিয়ে ডিজে হাই স্কুল খেলার মাঠ পর্যন্ত সব জায়গায় একই চিত্র।
বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত শহরের শান্তিনগর এলাকাএ দিকে শান্তিনগর এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ সিস্টেম অকার্যকর হওয়ায় তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। এলাকার শত শত মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এখান থেকে খন্দকার পাড়া মাজার মসজিদ সংযোগ সড়ক হয়ে শেরপুর টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম আহমদ আলীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় একই দশা।
শেরপুর কেল্লা রোড থেকে দুবলাগাড়ী তিন মাথার তিন মাথা মা-ফার্মেসী পর্যন্ত বোঝা যায় না যে এখানে কখনো পাকা রাস্তা সংস্কার হয়ে ছিল। শেরপুর ডিগ্রি কলেজ, রোড হয়ে এডু-কেয়ার স্কুলের পাশ দিয়ে উলিপুর এতিমখানা-মসজিদ ও উলিপুর আমেরিয়া সমতুল্য মহিলা ফাযিল মাদ্রাসা এবং শেরপুর থানার গেট পর্যন্ত কিছু অংশ ভালো থাকলেও ফুলবাড়ী সেতু থেকে ঘোষপাড়ার দইয়ের কারখানা গুলির বর্জ্য, দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা ও অতিরিক্ত পানি অপসারণের ফলে সারা বছরই পথযাত্রীদের চলাচল করতে ব্যাপক অসুবিধা হয়।
এছাড়া সাবেক নবমী সিনেমা হল সহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংযোগের বিভিন্ন স্থানে পিচ ঢালাই উঠে খোয়া বের হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পিচ, খোয়া উঠে মাটি বের হয়ে যাওয়ায় কর্দমাক্ত পিচ্ছিলতা সৃষ্টি করে। তাই দেখে কিছু কিছু অংশে বোঝার উপায় নাই যে এ রাস্তাটি কখনো পাকা ছিল। রাস্তার বেহাল দশার কারণে পথচারী ও যানবাহন আরোহী লোকদের নিয়মিত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মাগুরার তাইড় গ্রামের রিকশাচালক নুরুল ইসলাম বলেন, রাস্তার বিভিন্ন স্থানে গর্ত থাকায় গাড়ির চাকা টাল হয়ে যায়। এ ছাড়া তাড়াতাড়ি করে যাওয়ার সময় ঝাঁকিতে অনেক সময় যাত্রীরা আঘাত পায় বা পড়ে যায়।
উলিপুর পাড়ার মুদি দোকানদার খাইরুল ইসলাম বলেন, রাস্তায় পিচ, খোয়া উঠে মাটি বের হয়ে গেছে।ফলে বর্ষার সময় কাদা হয়ে পিচ্ছিল হয়ে যাচ্ছে। আবার শুকনো মৌসুমে ধুলায় ভরে যায়। এসব রাস্তা দ্রুত মেরামত করা দরকার। শেরপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব জানে আলম খোকার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। শেরপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শামিম জানান, মহাসড়ক থেকে হাটখোলা রোড এর পূর্ব দিকে ড্রেনেজ সহ রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে।
জুন ২৩
১৯:২৭ ২০২১

আরও খবর