Daily Sunshine

বাঘায় গৃহহীন মানুষ গুলো পেল স্বপ্নের বাড়ি

Share

নুরুজ্জামান,বাঘা :মুজিববর্ষে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না উল্লেখ করে আজ দেশ ব্যাপী (২০-জুন) সকাল ১১ টায় গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে বক্তব্য রেখেছেন জাতীর পিতার উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্য শেষে তিনি আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায় দেশের ভূমি ও গৃহহীন ৫৩ হাজার ৮ শ পরিবারের হাতে জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্মানকৃত ঘরের জমির কাগজ-পত্র ও চাবি হস্তান্তর এর মাধ্যমে এই কর্মসুচীর শুভ উদ্বোধন করেন।

প্রধান মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে ‘আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর মাধ্যমে ৮ (আট) লাখ ৮৫ হাজার ৬২২ টি পরিবারকে ঘর ও জমি দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের ইতিহাসে নতুন করে রেকর্ড সৃষ্টি করা হবে। যাতে করে এই বছরটি বিশ্ববাসীর কাছে সারা জীবন চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি ভিডিও কনফারেন্সিং এ বলেন, জাতীর পিতা এ দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছে। তাঁর স্বপ্ন ছিল এ দেশের কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না। আমরা যখন সরকার গঠন করি তখন আমাদের চাওয়া ছিল এ দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাবো। কারণ এ দেশে প্রতিবছর কম-বেশি ঘুর্ণী ঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছাস-সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে থাকে। এতে অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। এ জন্য আমরা ঐসব পরিবারের কথা ভেবে তাদের ঘর দেয়ার পাশা-পাশি কর্মসংস্থান, শিক্ষা, ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। আমাদের অর্থ নীতির মূল নীতি হবে গ্রামের তৃণমুল মানুষকে সহায়তা করা।

প্রধান মন্ত্রী বলেন, মুজিব শতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্ত্রীতে কেউ গৃহহীন থাকবে না। জাতীর পিতার পরিকল্পনা ছিল ভাগ্য উন্নয়ন। এ দিক থেকে জিয়াউর রহমান মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলা করেছে এবং নির্বাচন নিয়ে প্রহসন করেছে তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া। অথচ আমরা ঠিকানা বিহীন হতদরিদ্রদের মাথা গোজার ঠায় করে দিচ্ছি। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। আমরা যদি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারি ,তাহলে দেশের জন্য যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মা শান্তি পাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় এ মাসে ৫৩ হাজার ৮ শ এবং আগামী মাসে আরও ১ লাখ পরিবার ঘর পাবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের ১০০ বছর পূর্তি উপলে মুজিব শতবর্ষ পালন করছে সরকার। বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পর্যায় ক্রমে এ কর্মসুচী বাস্তবায়ন হবে। সূত্র জানায়, উপকার ভোগীদের মধ্যে যাদের জমি আছে, তারা শুধু ঘর পাবে। যাদের জমি নেই, তারা ২ শতাংশ জমি পাবে (বন্দোবস্ত)। সেই সাথে পাবে দুই ক বিশিষ্ট একটি রঙ্গিন টিনের পাকা বাড়ী। আর এসব পাকা ঘর নির্মানে খরচ হচ্ছে ১ (এক) লাখ ৯০ হাজার টাকা। সরকারের নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে এসব ঘর। রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট থাকছে । পাশা-পাশি থাকছে টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ সংযোগ ।

এদিকে সরকারের এই উদ্যোগ বিশ্বের ইতিহাসে নতুন সংযোজন বলে স্বাগত জানিয়েছেন এই প্রকল্পের পরিচালক মাহবুব হোসেন। তিনি জানান, এই কাজর সাথে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ-সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় যুক্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, কোথাও কোথাও এসব ঘরের নাম দেওয়া হচ্ছে স্বপ্ননীড়, কোথাও নামকরণ হচ্ছে শতনীড়, আবার কোথাও ‘মুজিব ভিলেজ।

বাঘার পদ্মার চরাঞ্চলের লাইলী বেগম বলেন, “কোনোদিন ভাবিনি আমার নিজের একটি পাকা ঘর হবে। পরিবার নিয়ে এক সাথে থাকবো। সত্যিই প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আপা আমাদের মতো গরিবদের নিয়া ভাবেন।”নতুন একটি ঠিকানা পেয়ে এমনটি প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন তিনি। দুই বছর পূর্বে পদ্মার ভাঙ্গনে তাঁর বাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাই। সেই থেকে তিনি কখনো মেয়ে-জামাই,আবার কখনো-কখনো অন্যার বাড়ীতে কাজ করে জীবিকা নিরবরাহ করতেন। শুধু লাইলী বেগম নন, তার মতো এখন ঘর ও জমি পেয়ে অনেকেই স্বপ্নে বিভোর ।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা জানান, মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় নিজের বাড়ি পেয়ে যাওয়া ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষগুলো এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। দেশজুড়ে বাস্তবায়িত এই কর্মসূচির আওতায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলা প্রথম বারে ভূমিহীন-গৃহহীন ১৬ টি পরিবারকেঘর দেয়া হয়। এবার দ্বিতীয় পর্যায়ে অত্র উপজেলার আরো ৩৫ টি পরিবার ঘর পাচ্ছে।

তিনি বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল-ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্ন অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, ঋণ প্রদান ও প্রশিনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সম করে তোলা এবং আয়বর্ধক কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ।

বাঘায় ভিডিও কনফারেন্সিং সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড: লায়েব উদ্দিন লাভলু , উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম, উপজেলা আ’লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মন্টু ও অধ্যক্ষ নছিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদ সাদিক কবির, আ’লীগ নেতা মাসুদ রানা তিলু, সকল দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা বৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, ইমাম ও সমাজের সুধী মহল।

জুন ২০
১৩:২১ ২০২১

আরও খবর