Daily Sunshine

করোনা কাড়ছে মানুষের প্রান, হুমকিতে শিক্ষা ব্যবস্থা

Share

নুরুজ্জামান,বাঘা : সারা বিশ্বের কাছে এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম করোনা। এটি ভয়ঙ্কর এক অদৃশ্যশক্তি। এর ভয়াল থাবায় গ্রাস হচ্ছে সারাবিশ্ব। যার কালো থাবায় অকালে প্রান হারাচ্ছে দুগ্ধ শিশু থেকে শুরু করে যে কোনো বয়সের মানুষ। এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। কখনো দেশব্যাপী, আবার কখনো-কখনো এলাকা ভিত্তিক লকডাউন দেয়া হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধানে পৌছাতে পারেনি সরকার। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাস বর্তমানে সারা বিশ্বের মানুষের জীবনের গতিধারা পাল্টে দিয়েছে। আমাদের দেশে এলাকা ভিত্তিক এর প্রকট আকার ধারণ করায় কখনো-কখনো জেলা, আবার কখনো বা রাজধানীতে লকডাউন ঘোষনা করা হয়। এ সময় বন্ধ থাকে গন-পরিবহণ সহ অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফলে অতি কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। এই মহামারির কারনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে সরাসরি পাঠদান বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। বিশেষ করে গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষতি অপুরনীয়।

সূত্রে জানা যায়, করোনা শুরু হওয়ার প্রথম ঢেউ-এ সরকার ১৮ র্মাচ থেকে ৯ এপ্রিল র্পযন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। এরপর আর চালু হয়নি। র্সবশষে সংযোজন হিসাবে ২০২১ সালরে ৩১ ই জানুযারি র্পযন্ত এ বন্ধরে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। এরপর থেকে ক্লাস র্কাযক্রম বা পরীক্ষা সব কিছুই হচ্ছে অনলাইনে। ডেস্কটপ, ল্যাপটপ আর র্স্মাট ফোনের র্পদাতেই চলছে শিক্ষা র্কাযক্রম। এই অনলাইন পদ্ধতি সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করছে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর সাথে পাবলকি বিশ্ব বিদ্যালয় গুলোতে পাঠ দান চালু থাকলেও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শেসনজট নামক অভিশাপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ্নে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

করোনা মহামারীর এ অবস্থায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ভিন্ন-ভিন্ন মতামত জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অনেকের মতে, করোনা কালিন সময় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম-সহ গ্রামীন শিক্ষা ব্যবস্থা। এর কারণ হিসাবে তারা বলেন, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ল্যাপটপ কিংবা স্মাট ফোনে অনলাইন কাস করার সুযোগ পেলেও প্রাথমিকের বেলায় সেটি সম্ভব হয়নি। এদিক থেকে গ্রামের গরিব ঘরের শিক্ষার্থীরা ফোন-ল্যাবটপের অভাব সহ পর্যাপ্ত পরিমান নেটোয়ার্ক না থাকায় শিক্ষা-দিক্ষায় সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র রবিউল ইসলাম বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। যদিও ২০২০ সালটি আমাদের জন্য বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য খুব একটা ভালো ছিল না। তার মতে, এই মহামারীতে তুলনা মূলক ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রথম থেকে সচেতন থাকলেও নিরাপত্তার চিন্তা মাথায় রেখে খুব বেশি কিছু করা সম্ভাব হয়নি। অনলাইন কাস কার্যক্রম এর মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব এই ক্ষতিটুকু পূরনের চেষ্টা করা হয়েছে । কিন্তু যে ক্ষতিটা ইতিমধ্যে হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো অনার্স ফাইনাল এবং মাস্টার্স এর শিক্ষার্থীদের।

রবিউল ইসলাম আরো জানান, করোনায় তাদের ক্যারিয়ারেও একটা বছর পিছিয়ে গেল। চাকরির পরীক্ষাগুলোতে আবেদন করা যাচ্ছে না কারণ পরীক্ষা আটকে আছে। তার মতে,সার্বিকভাবে চিন্তা করলে কোনো শিক্ষার্থীই এই ক্ষতির বাইরে না। বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেমন ক্যারিয়ার-এ একটুখানি পিছিয়ে গেল, তেমনি দীর্ঘদিন স্কুল কলেজ বন্ধ থাকার জন্য এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর ।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রাশেদ আহাম্মেদ ও ডাক্তার হুমাইয়া জেরিনের সাথে কথা বললে তারা বলেন, মহামারি করোনায় প্রতিদিনই সারাবিশ্বে আক্রান্ত হচ্ছেন কয়েক লাখ মানুষ। প্রাণ হারাচ্ছেন কয়েক হাজার। এ রোগ একবার কাউকে ছুঁতে পারলেই হয়তো তার প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে-নয়ত সামজিক, মানষিক ও অর্থনৈতিক ভাকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। এ রোগ শিশু থেকে শুরু করে আবাল বৃদ্ধ-বনিতা কাউকেই ছাড়ছে-না।

এমনও লক্ষ করা গেছে,করনায় আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি রাজশাহী জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি আমানুল হাসান দুদুর একমাত্র সন্তান না ফেরার দেশে চলে গেছে।
এর আগে বগুড়ার এক প্রবীন সাংবাদিকের একমাত্র সন্তান করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আর এই কষ্ট সইতে না পেরে ঘটনার দুইদিন পর হাডএ্যাটাক করে মারা জান তার পিতা।

সার্বিক বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, প্রাণঘাতি করোনা থেকে বাঁচতে সারাবিশ্বের মত বাংলাদেশ সরকারও নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। করোনা প্রতিরোধে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করেছেন কয়েক লাখ মানুষের। বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন স্বাস্থ্যবিধি মান্য করা। এ জন্য জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন এর পক্ষ থেকে করানো হচ্ছে মাইকিং এবং সভা-সেমিনার। সেই সেমিনারে সমাজের গ্রাহনযোগ্য ব্যাক্তি, জনপ্রতিনিধি,শিক্ষক, ইমাম এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে এ বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে । যাতে করে তাঁরা নিজ-নিজ এলাকার মানুষকে মাস্ক ব্যবহার সহ সামাজিক দূরুত্ব বাধ্যতামূলক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা সহ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের-না হয়।

জুন ১৯
১১:১৫ ২০২১

আরও খবর