Daily Sunshine

পরীক্ষা এক বছর না দিলে বিরাট ক্ষতি হবে না : শিক্ষামন্ত্রী

Share

সানশাইন ডেস্ক : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, পরীক্ষা এক বছর না দিলে এমন কোনো বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে না। আপনাদের সুস্থতা এবং জীবন আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যাপারে কী করা যায় আমরা সেগুলো নিয়ে ভাবছি।

রোববার (১৩ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না, ভুল পথে যাবেন না। নিজেরা নিজেদের বাড়িতে সুস্থ থাকার চেষ্টা করুন, মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য কাজ করুন, কোনো খারাপ কিছুতে নিজেদের জড়িয়ে ফেলবেন না। ভয়ের কোনো কারণ নেই, পরীক্ষা দিতে হবে কি না সেটি পরের কথা। নিজেদের যতটুকু শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত রাখা সম্ভব ততটুকু করুন, নিজে সুস্থ থাকুন। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা সুস্থ থাকুক। পরীক্ষা এক বছর না দিলে জীবনে এমন কোনো বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে না।

ডা. দীপু মনি বলেন, আপনারা জানেন ১৩ জুন থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার চিন্তা আমাদের ছিল। সে বিষয়ে প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু আপনারা জানেন, এরই মধ্যে দেশের ২০টি জেলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। প্রায় ১০টি জেলার বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন চলছে। এখন নতুন করে যে ভ্যারিয়েন্টগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে আমরা বাধ্য হয়েছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটি ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়াতে। এরপরও পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটার ওপর নজর রেখে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমরা যখনই খুলি না কেন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমরা অনলাইনে শিক্ষা দিয়ে শতকরা ৮০/৮৫ ভাগের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। যার ফলে অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে আমরা ৯৩ ভাগ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। আমাদের এই চেষ্টাগুলো অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশেষভাবে যারা এবার এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা, উদ্বেগটা আসলে তাদেরই বেশি। আমরা ভেবেছিলাম তাদের ক্লাস করিয়ে পরীক্ষা নিতে পারব। এখন সেটি যদি না হয়, তাহলে তার বিকল্প চিন্তা করছি।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা বাড়িতে যতটুকু সম্ভব তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাক। উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না, যাতে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের যে ক্ষতিটা তা শিক্ষা ব্যবস্থার। সামগ্রিকভাবে পুরো বিশ্বে এই ক্ষতিটা হচ্ছে। এই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া যাবে সেই ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এখন আমরা পরীক্ষা নিতে পারব কি না, পরীক্ষা নিতে না পারলে বিকল্প কী ব্যবস্থা হবে, সবকিছু নিয়ে আমাদের চিন্তা ভাবনা রয়েছে। একবারে প্রস্তুতির দিকেই আমরা যাচ্ছি।

এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, অনেকেই শেখ হাসিনার সঙ্গে অন্য কাউকে এক পাল্লায় মাপেন। কিন্তু এটি অসম্ভব। শেখ হাসিনার সমকক্ষ কোনো নেতা বাংলাদেশে নেই। একমাত্র শেখ হাসিনাই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বাকিরা খালি দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে গেছেন।

দীপু মনি বলেন, সেদিন শুধু শেখ হাসিনা মুক্তি পাননি, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরে আসার পথ তৈরি হয়েছিল ৷ তিনি মুক্তি পেয়েছেন বলেই আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচন পেয়েছিলাম। এরপর একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের সামনে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন। আজ তিনি শুধু আমাদের নয় সারা বিশ্বের বাতিঘর।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির এবং স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ।

 

সানশাইন/১৩ জুন/রনি

জুন ১৩
১৯:৪৭ ২০২১

আরও খবর