Daily Sunshine

একটি ইউনিয়নে ২২পাড়া নাম তার বাউসা

Share

নুরুজ্জামান, বাঘা :আমরা সাধারনতই বলে থাকি নামে কি আসে যায়, কথাটি অনেক ক্ষেত্রে ঠিক নয়। কারণ নাম দিয়েইতো সব। সময়ের সাথে চলতে গিয়ে কতই না পরিবর্তন হয়। পাড়ায়-পাড়ায় যেমন গ্রাম গড়ে ওঠে,আবার অনেক সময় বড়-বড় গ্রাম ভেঙ্গে চেনার সুবিধায় ছোট-ছোট পাড়াও গড়ে ওঠে। পাড়া গড়া বা ভাঙ্গার গল্প আজ আমাদের নয়। আমাদের গল্প, একটি গ্রামের।

যে গ্রামে আছে ২২ টি ছোট-বড় পাড়া। আর প্রত্যেক পাড়ার সঙ্গে গ্রামের নামটি অতপ্রোত ভাবে যুক্ত, এমনকি ইউনিয়নও । যুগ-যুগ ধরে এমনটাই চলে আসছে। এই গল্পের সূত্র খুঁজে পাওয়া যায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ৫ নং বাউসা ইউনিয়নের বাউসা গ্রামে।

বাঘা উপজেলায় মোট ৭ টি ইউনিয়নের মধ্যে এটি একটি ইউনিয়ন। তবে আকারে প্রকারে লোক সংখ্যায় এর পরিধী অনেক বড়। আয়তনও কম নয়। বহুকাল থেকে ইউনিয়নটি কৃষি প্রধান। এখানে ধান, পাট, গম, আখ, হলুদ, মরিজ ও আম কাঠাল থেকে শুরু করে সব ধরনের ফসলই উৎপাদিত হয়। প্রাচীনকালে এ অঞ্চলে উৎপাদন হতো কাউন, জব, তিল, বজরা, ভুট্টা, চিনা-সহ অনেক ফসল। যা বর্তমান প্রজম্মের কাছে অনেকটায় অপরিচিত।

তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ অঞ্চলে সব চেয়ে বেশী পরিমানে উৎপাদিত হয় কচু ও বেগুন। এর মধ্যে কচু অত্র অঞ্চলের মানুষের কাছে যথেষ্ট সমাদ্রিত। যা ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালান দেয়া হয়। আর এ সমস্ত ফসলের অধিকাংশই উৎপাদিত হয় অত্র ইউনিয়নের একটি গ্রামের মোট ২২ টি পাড়া থেকে ।যার পেছনে রয়েছে চমৎকার গল্প।

এদিকে গত কয়েক বছর থেকে এই ইউনয়িনরে খোদ্দ বাউসা এলাকার কয়কেটি আম বাগানে প্রত্যকে শীত মৌসুমে এসে বসছে শামুক খোল নামে অতিথী পাখি। যা দেখতে ছুটে আসছনে ভ্রমন পিপাসু অসংখ্য মানুষ। এতে করে আমের কিছুটা ক্ষতি হলেও সেই ক্ষতি পুশিয়ে দিতে বাগান মালকিদরে সরকারি ভাবে দেয়া হচ্ছে নগদ অর্থ। এই গ্রামে আরো রয়েছে, গ্যানের আলো ছড়িয়ে বেড়ানো বই পাগল ও আলোকিত মানুষ পলান সরকার পাঠাগার। সেটিও দেখতে যান অনেকে।ফলে এই গ্রামের পরিচিতি দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পাঠক এই মুহুর্তে উপরের অংশ পড়ে হয়তো জানতে চাইবেন, সেই ২২ টি পাড়ার নাম কি ? এর পর নাম শুনে চমকিত হবেন ! কি ভাবে এই নাম করণ সম্ভব হলো-ইত্যার্দি ?

অনুসন্ধানে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় ২০ বছর পুর্বেও ঐ এলাকাটির নাম ছিল বাইসি। এর পর কালের বিবর্তনে এলাকার মানুষ একেকটি পাড়ার নাম করন পরিবর্তন করতে থাকেন বিভিন্ন শব্দ দিয়ে। তবে মজার ব্যাপার প্রতিটি পাড়ার শেষে একটিই শব্দ যুক্ত করা হয়েছে-তা হলো “বাউসা’। এই ২২ পাড়া সম্বলিত বাউসার মোট ভোটার সংখ্যা বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার।

পাড়া গুলো হলো :- খোর্দ্দ বাউসা, হেদাতি পাড়া বাউসা,ভেড়ালী পাড়া বাউসা, টলটলি পাড়া বাউসা, পুর্ব পাড়া বাউসা, রেনুপুর বাউসা, চকর পাড়া বাউসা, সরকার পাড়া বাউসা, হাটপাড়া বাউসা, কামার পাড়া বাউসা, কছেদ সরকার পাড়া বাউসা, মিয়া পাড়া বাউসা, ঠাকুর পাড়া বাউসা, মাঠ পাড়া বাউসা, টাওরি পাড়া বাউসা, কাচারী পাড়া বাউসা, চক বাউসা, কুন্দরী পাড়া বাউসা, মাজ পাড়গা বাউসা, ফতেপুর বাউসা, দাঁড় পাড়া বাউসা, ও তেনাচুরা বাউসা।

লক্ষনীয় প্রত্যেকটি পাড়ার নাম করনের সাথে রয়েছে বিশেষ উপাধি। কখনো বা ব্যক্তি নামের সাথে সমন্বয়, কখনো-বা বিশেষ কর্মের উপরে খ্যাত হয়ে নাম করণ হয়েছে যেমন-কামার পাড়া,দাঁড় পাড়া,ঠাকুর পাড়া ইত্যাদি।

এ বিষয়ে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিক এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, কি ভাবে ২২ টি পাড়ার নামের সাথে বাউসা যোগ হলো তার সঠিক ইতিহাস আমার জানা নেই । তবে বাঘা উপজেলার আর কোন ইউনিয়ন কিংবা দুই পৌরসভার কোন এলাকাতে এতো গুলো নাম বিশিষ্ট পাড়া নেই।তিনি অত্র ইউনিয়নের জন্য উত্তোর-উত্তোর ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

জুন ০৯
০৯:১২ ২০২১

আরও খবর