Daily Sunshine

বিপদের তোয়াক্কা না করেই ঢাকা ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ

Share

সানশাইন ডেস্ক:রাত-বিরাতে বিপদের তোয়াক্কা না করেই ঢাকা ফিরছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। যাদের একমাত্র ভরসা এখন পিকআপ ভ্যান।

বুধবার (১৯ মে) রাত আটটার পর থেকেই বাংলাবাজার থেকে ফেরিতে করে এসে শিমুলিয়া ঘাট থেকেই যাত্রা শুরু নিজ কর্মস্থল ঢাকার উদ্দেশ্যে। যাত্রীরা যানবাহন হিসেবে বেছে নিয়েছে পিকআপ ভ্যানকেই। একটাই কারণ ভাড়া কম।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর বাসিন্দা জান্নাতারা। কাজ করেন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায়। পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে মঙ্গলবার (২০ মে) রাতে আবারও ফিরছেন কর্মস্থলে। ঢাকার অভিমুখে মাধারীপুরের বাংলাবাজার ঘাট থেকে ফেরিতে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছেই বিপাকে পড়েন এই নারী।

লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সড়কে নেই দূরপাল্লার বাস। অটোরিকশা বা সিএনজিতে দু-তিনগুণ বেশি ভাড়া, এরপরও আছে সঙ্কট। তাই অতিরিক্ত ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না তার। উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ছোট মেয়েকে নিয়ে ঢাকার নয়াবাজার পর্যন্ত জন প্রতি ১০০ টাকা ভাড়ায় গাদাগাদি করে ওঠেন একটি পিকআপভ্যানে। সাধ্যের মধ্যে যে করেই হোক পৌঁছাতে হবে কর্মস্থলে।

শুধু এই জান্নাতারাই নন, গণপরিবহন সঙ্কট আর অধিক ভাড়ার কবলে পড়ে বাধ্য হয়ে শত শত মানুষ পণ্যবাহী পিকআপ ভ্যানে করে রাতেই ঢাকা যাচ্ছেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই নিম্ন আয়ের মানুষ।

বুধবার দিনাগত রাতে শিমুলিয়া ঘাটে প্রতিটি ঢাকামুখী পিকআপ ভ্যানে দেখা যায় যাত্রীদের গাদাগাদি। একেকটিতে ছিল ২৫-৩০ জন যাত্রী।

ভাড়ার বিষয়ে জান্নাতারা বলেন, ‘বড়লোকগো গাড়ি আছে, তারা গাড়ি করে বাড়ি আসে, যায়। আমরা যারা দিন আনি দিন খাই তাদের তো এতো বশি টাকা খরচ করার উপায় নাই। পিকআপে উঠছি, এই গাড়িই ভরসা। বাস থাকলে আমাদের সমস্যা হতো না, এই রাইতেই গোপালগঞ্জ থেইকা ঢাকা যাইতে পারতাম। সিএনজি অটোরিকশায় যাইতে যে টাকা লাগে আমাগো এতো বেশি খরচ করার সাধ্য নাই। আমাগো এতো ভোগান্তির দেয়ার কী দরকার।

ইউসুফ গাজী নামের আরেকজন বলেন, আমি ঢাকার একটি হোটেলে কাজ করি। ঈদ শেষে তেমন টাকাও নেই আমাদের। গরীবের জন্যই যত দুর্ভোগ। এই যে সবাই একসঙ্গে পেটের জ্বালায় যাইতাছি, এখন কী করোনা হয় না আমাদের?

সাগর হোসেন নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘লকডাউন তো কেউ মানতাছে না। সবকিছুই তো খোলা, বাস খুলে দিলে আমাদের গরীব মানুষের হয়রানি কমতো।

সালেহা বেগম বলেন, ‘ঈদে বাড়িত গেলাম কষ্ট করে, এখন রাত করে ঢাকায় যামু তাও কষ্ট। টাকা থাকলে তো গাড়ি ভাড়া করেই যাইতাম। আমাগো টাকা নাই, তাই আমাগো কথা কেউ শুনে না।

পিকআপ চালক মো. সজল বলেন, ‘সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুবার গেছি ঢাকা। এবার নিয়ে রাত হইছে। এখন ছয়বার হইবো ঢাকা যাইতাছি ২০-৩০ জন যাত্রী নিয়াই ছাইড়া দেই। তয় যাত্রীরা উঠতেই থাকে।

সানশাইন/মে ২০/ইউ

 

মে ২০
১০:১২ ২০২১

আরও খবর