Daily Sunshine

করোনা টিকাদান বন্ধ হচ্ছে সিলেটে

Share

সানশাইন ডেস্ক: সিলেটে শেষ হয়ে এলো করোনা ভ্যাকসিনের মজুদ। পর্যাপ্ত ডোজ না থাকায় বৃহস্পতিবারের (২০ মে) পর সিলেটে অনেক টিকা কেন্দ্রে বন্ধ হচ্ছে টিকাদান কার্যক্রম।

ইতোমধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, গোয়াইনঘাটসহ ৩টি উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। অল্প সংখ্যক ভ্যাকসিন যেগুলো রয়েছে, তা বৃহস্পতিবার দেওয়ার পর শেষ হয়ে যাবে। ফলে নতুন করে ভ্যাকসিন না আসায় দ্বিতীয় ডোজ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন সিলেট বিভাগের নিবন্ধিত ৮০ হাজার ৮৭৭ জন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পুনরায় ভ্যাকসিনের চালান না আসায় প্রথম ও দ্বিতীয় চালানে অপেক্ষমানদের তালিকা আরো দীর্ঘ হলো।

এর আগে করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়া ৭৪ হাজার ৯৭৪ জন নারী-পুরুষ দ্বিতীয় ডোজ পেতে অপেক্ষমান রয়েছেন।

সিলেট বিভাগে এক হাজার ২৬২টি ভায়ালে ভ্যাকসিন আছে ১২ হাজার ৬২০ ডোজ। এরমধ্যে সিলেট জেলায় ৯২টি ভায়ালে ৯২০ ডোজ। সুনামগঞ্জে ৪৭৪টি ভায়ালে ৪ হাজার ৭৪০ ডোজ। হবিগঞ্জে ৪৬১টি ভায়ালে ৪ হাজার ৬১০ ডোজ এবং মৌলভীবাজারে ২৩৫টি ভায়ালে ২ হাজার ৩৫০ ডোজ রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের তথ্যমতে, টিকা নেওয়ার জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৪১৬ জন নিবন্ধন করে প্রথম ডোজ নেন ৩ লাখ ৪৪২ জন। প্রথম ডোজের জন্য অপেক্ষমান আছেন ৭৪ হাজার ৯৭৪ জন। এ যাবত দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৯৪৫ জন। এখনো দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার অপেক্ষমান রয়েছেন ৯৩ হাজার ৪৯৭ জন। বিপরীতে ১ হাজার ২৬২টি ভায়ালে ১২ হাজার ৬২০ ডোজ ভ্যাকসিন রয়েছে। সে হিসাবে ৮০ হাজার ৮৭৭ জন দ্বিতীয় ডোজ থেকে বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, ভ্যাকসিন সংকট থাকায় ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন ও সিলেট জেলার ৩টি উপজেলায় টিকা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। অবশিষ্ট যে ভ্যাকসিন রয়েছে, তা বৃহস্পতিবার শেষ হয়ে যাবে। ফলে প্রথম ডোজের অপেক্ষমানদের পাশাপাশি দ্বিতীয় ডোজ গ্রহিতাদেরও অপেক্ষায় থাকতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য দেশ থেকে নতুন ভ্যাকসিন আসলেও অপেক্ষমান দ্বিতীয় ডোজ গ্রহীতাদের দেওয়া যাবে কিনা, তা অধিদপ্তর থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভ্যাকসিন সংকটের কারণে সিসিক এলাকায় দ্বিতীয় ডোজ প্রদান কার্যকম বন্ধ রাখা হয়েছে। টিকা না আসা পর্যন্ত প্রথম ডোজের ন্যায় দ্বিতীয় ডোজের জন্যও নিবন্ধিতদের অপেক্ষমান থাকতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলায় এক লাখ ৫২ হাজার ২৬১ জন করোনা ভ্যাকসিন নিতে নিবন্ধন করে প্রথম ডোজ পেয়েছেন এক লাখ ১৪ হাজার ৪১১ জন। প্রথম ডোজের জন্য অপেক্ষমানদের সংখ্যা ৩৮ হাজার ২৫০ জন। বুধবার পর্যন্ত জেলায় দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৬৬২ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিতে বাকি এখনো ৩০ হাজার ৩৪৯ জন। বিপরীতে সিলেট জেলায় ৯২০ ডোজ টিকা মজুদ আছে। সে হিসাবে জেলায় ২৯ হাজার ৪২৯ জন দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষমান থাকতে হবে।

বিভাগের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় ৭২ হাজার ২ জন নিবন্ধন করে ৬১ হাজার ৭৯০ জন প্রথম ডোজ পেয়েছেন। জেলায় প্রথম ডোজ পাননি ১০ হাজার ২১২ জন। এযাবত ৩৬ হাজার ১৭৩ জন দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজ নিতে এখনো বাকি ২৫ হাজার ৬১৭ জন। পক্ষান্তরে জেলায় টিকা মজুদ আছে ৪৭৪ ভায়ালে ৪ হাজার ৭৪০ ডোজ। সে হিসাবে ২০ হাজার ৮৭৭ জনকে দ্বিতীয় ডোজ পাওয়ার জন্য অপেক্ষমান থাকতে হবে।

হবিগঞ্জে ৭২ হাজার ৯৩৯ জন নিবন্ধন করে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৬৬৮ জনে। প্রথম ডোজের জন্য অপেক্ষমান আরো ১৫ হাজার ২৭১ জন। এ যাবত দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৪৯১ জন। জেলায় দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার বাকি ২১ হাজার ১৭৭ জন। বিপরীতে ভ্যাকসিনের ডোজ আছে ৪৬১ ভায়ালে ৪ হাজার ৬১০টি। সে হিসাবে ১৬ হাজার ৫৫৭ জন টিকা নেওয়া থেকে অপেক্ষমান থাকতে হবে।

মৌলভীবাজারে ৭৮ হাজার ২১৪ জন নিবন্ধন করে ৬৬ হাজার ৯৭৩ জন প্রথম ডোজ পেয়েছেন। এরমধ্যে প্রথম ডোজ পাননি ১১ হাজার ২৪১ জন। এ যাবত দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৫০ হাজার ৬১৯ জনে। এখনো ১৬ হাজার ৩৫৪ জন দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার অপেক্ষায়। বিপরীতে ভ্যাকসিনের ২ হাজার ৩৫০ ডোজ মজুত আছে। সে হিসাবে ১৪ হাজার ২১৭ জন দ্বিতীয় নেওয়া থেকে অপেক্ষমান থাকতে হবে।

সর্বশেষ বুধবার (১৯ মে) করোনার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন এক হাজার ৮৫২ জন। এরমধ্যে পুরুষ এক হাজার ১৩৯ এবং নারী ৭১৩ জন। বিভাগের মধ্যে সিলেটে শেষ পর্যায়ে দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৪২৪ জন, সুনামগঞ্জে ৪৪৩ জন, হবিগঞ্জে ৫০৪ জন এবং মৌলভীবাজারে ৪৮১ জন।

সানমাইন/মে ২০/ইউ

 

মে ২০
১০:০৩ ২০২১

আরও খবর