Daily Sunshine

১০০ টাকার তরমুজে ১০ টাকা কমিশন!

Share

সানশাইন ডেস্ক: গ্রীষ্মকালীন সুস্বাদু ফল তরমুজ। আর এই তরমুজ নিয়ে কারসাজি শুরু হয়েছে বাজারে।

আবহাওয়া প্রতিকূলে নেই দেখে চাষিরা তুলনামূলক ভাবে এবার তরমুজ উৎপাদন করতে পরেনি। আর এই সুযোগে ফায়দা লুটে নিয়েছে ফল ব্যবসায়ী ও তরমুজের বর্তমান আড়তদাররা।
তার একটি নমুনা দেখা গেছে শিল্প অঞ্চল সাভারের আশুলিয়ায় বহুল প্রচলিত বাইপাইল ফলের আড়তে। যেখানে ৩০০ টাকার একটি তরমুজ কিনতে হলে ৩০ টাকা কমিশন গুনতে হচ্ছে ছোটো ফল ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে খুচরা ক্রেতাদের।

লকডাউন, খারাপ ফলন ও আড়তদারদের কমিশনের কারণে তরমুজ হয়েছে ইলিশ মাছের মতন। তাই লাভের আশায় ভোক্তাদের কাছে খুচরা ব্যবসায়ীরা কেজি হিসেবে বিক্রি করছেন এই তরমুজ।

বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে আশুলিয়ার বাইপাইল আড়তে গিয়ে কথা হয় কয়েকজন আড়তদার, পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সাথে।

আড়তদাররা বলছেন, তারা তরমুজ পাইকার থেকে অথবা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ট্রাক যোগে ক্রয় করে আনেন। এতে কৃষকের কাছ থেকে কিনলে তরমুজ গিয়ে নিয়ে আসতে হয়। তাই পরিবহন, শ্রমিকসহ সড়কের খরচসহ নানা খরচের ভাগিদার হতে হয়। এছাড়া কৃষকের কাছ থেকে পাইকাররা কিনে এনে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করলেও তার দাম বেশিই পড়ে। তাই আড়তদারদের কমিশনটা একটু বেশি নিতে হয়।

তবে সূত্রে জানা গেছে, এখানে আড়তদাররা এক চক্র তৈরি করে অধিক লাভবান হচ্ছেন। পাইকারদের কাছ থেকেও কমিশন নিচ্ছেন আাবার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও কমিশন নিচ্ছেন। এতে করে যারা আড়তে তরমুজ বিক্রি করতে পাঠায় তাদের থেকে শতকরা ৫ শতাংশ কমিশন রাখেন ও যারা আড়তদারের কাছ থেকে তরমুজ ক্রয় তাদের থেকে ১০ শতাংশ কমিশন রাখা হয়।

চাপাইনবাবগঞ্জ ফল ভান্ডারের মালিক মোঃ হুমায়ুন হাজী বলেন, আমরা যারা তরমুজ বেচা কেনা করি তাদের সীমিত লাভ। যারা তরমুজ ক্রয় করে আড়তে আনে তাদেরকে তরমুজের খেত কিনতে হয়। খেতে যে তরমুজ থাকে সেটাই নিয়ে আড়তে আনতে হয়। তরমুজে শতকরা ১০ টাকা আড়ত মালিকের থাকে। যা বিক্রি হলে আড়ত মালিকরা পায়৷

মোসার্স আলামিন ট্রেডাস আড়তের মালিক জহির খান বাংলানিউজকে বলেন, তরমুজের আকার ও প্রকার ভেদে তরমুজ বিক্রি করা হয়। আমরা তো যে যেভাবে তরমুজ নেয় সেভাবেই বিক্রি করি। যেমন আকার ভেদে ৫ হাজার টাকার তরমুজে ৫০০ টাকা আমরা রাখি। এটা আমাদের আড়তের নিয়ম। এখন তরমুজের দাম যদি লাখ টাকা হয় তবুও ১০ টাকা কমিশনই রাখা হবে।

এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি তরমুজ ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছে৷ যদি আড়ত থেকে তরমুজ কেজি হিসেবে তারা কিনে তাহলে তাদের প্রতি শতকে ১০ টাকা কমিশন দিতে হয়। অর্থাৎ ৫ কেজির একটি তরমুজে ৫০ টাকা কমিশন দিতে হয়। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি আড়তেই তরমুজের দাম বেশি। কখনো কেজি কখন বা সংখ্যা হিসেবে তরমুজ কেনা হয়। আড়ত থেকে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে তারাও কম দামে সংখ্যা হিসেবে বিক্রি করতে পারবে।

লাল মিয়া নামের এক মৌসুমী তরমুজ ব্যবসায়ী ভ্যানে করে তরমুজ বিক্রি করেন। তার ভ্যানের কাছে ক্রেতা বেশে গিয়ে তরমুজ দেখা শুরু করতেই তিনি একটি বড়সড় তরমুজ হাতে নিয়ে দেখানো শুরু করলো। তিনি বলেন, এই তরমুজটা ভালো হবে, বাজারের সেরা তরমুজ। নিবেন? নিলে মাপ দেই। প্রতিবেদকের সম্মতিতে লাল মিয়া তরমুজটি ওজন মাপার মেশিনে তুলেন ও তরমুজটির ওজন দাড়ায় ৫ কেজি ৬৭ গ্রাম। দাম কত জানতে চাইলে প্রতিকেজি ৮০ টাকা করে দিবেন মামা। সব মিলিয়ে দাম আসে ৪২০ টাকা।

তরমুজ কেজিতে কেনো বিক্রি করেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আসলে যুগ হয়ে পরছে এমন। সবাই বিক্রি করে আমিও করি। এছাড়া কেজিতে বিক্রি না করলে তো আমাদের লাভ থাকে না। কারণ আড়ত থেকে তরমুজ কিনে আনতে গেলে এখন দাম অনেক বেশি। কেজিতে কিনতে গেলেও ১০ টাকা কমিশন দিতে হয় সংখ্যা হিসেবে কিনতে গেলেও ১০ টাকা কমিশন দিতে হয়। যদি আড়ত থেকে দাম কমে পাওয়া যেতে আমরাও কম দামে সংখ্যা হিসেবে তরমুজ বিক্রি করতাম।

প্রথমে আড়ত থেকে তরমুজের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ আড়তদারের কারণে খুচরা ব্যবসায়িরা বাইরে ক্রেতাদের কাছে তরমুজ কেজি ও বেশি দামে বিক্রি করে। আড়তে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সব জায়গায় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

তরমুজের বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যপারে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় প্রশাসন বাজার মনিটরিংসহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। আশুলিয়ায় এখন পর্যন্ত তরমুজের বাজার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে কথা হয় রাজস্ব সার্কেল সাভারের আশুলিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্সের সাথে।

তিনি বলেন, আমরা এখনো কোথাও অভিযান পরিচালনা করিনি। আসলে রমজান উপলক্ষে মাঝে মধ্যে পণ্যে ম্ল্যূ উর্ধগতি হয়ে যায়। আমাদের কাছে কিছু অভিযোগ ও তথ্য এসেছে। আমরা সেই অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তরমুজে মনিটরিংটা গুরুত্বপূর্ণ ভাবে দেখা হবে। আর আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। যেনে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার না হয়, প্লাস বিক্রেতারাও যেনো ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটা দেখা হবে
সানশাইন/৩০এপ্রিল/ইউ

 

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো

এপ্রিল ৩০
১০:৪৮ ২০২১

আরও খবর