Daily Sunshine

ফের আলোচনায় সেই পিয়াসা

Share

সানশাইন ডেস্ক:আলোচিত রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার আসামি জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাতের স্ত্রী ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা ফের আলোচনায় এসেছেন। গুলশানের ফ্ল্যাটে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার (২১) রহস্যজনক মৃত্যুর পর বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর জানিয়েছেন পিয়াসার নাম। মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় বোনের দায়েরকৃত মামলায়ও পিয়াসার উপস্থিতির খবর এসেছে। উপর মহলে চলাফেরা করা পিয়াসার হাত অনেক লম্বা। অনেক শিল্পপতিও তাকে সমীহ করে চলেন নানা কারণে। এমনকি বসুন্ধরা গ্রুপের মতো শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্নধাররাও তাকে হিসাব করে চলেন।

এ প্রসঙ্গে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী গতকাল জানান, আপন জুয়েলার্সের মালিকপুত্রের স্ত্রী এই পিয়াসা ও সেই পিয়াসা একই। তিনি একজন মডেল এবং মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ বক্তব্য নিবে।

জানা গেছে, আনভীরের সাথে মুনিয়ার সম্পর্কের কথা তার (আনভীরের) মাকে জানিয়েছিলেন পিয়াসা। ২৩ এপ্রিল ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় মুনিয়া ইফতার করলে ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রী ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করেন। এতেই ভড়কে যান আনভীর। ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রীর ফেসবুক ফ্রেন্ড পিয়াসা সেই ছবি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে দেখাবে এবং এতে আনভীরের মা মুনিয়াকে হত্যা করবে এমনটি বলেছেন তিনি (আনভীর) নিজেই।
পুুলিশ জানায়, পিয়াসার সঙ্গেও আনভীরের পরিচয়, ঘনিষ্ঠতা এবং সখ্যতা রয়েছে। মুনিয়ার সঙ্গে আনভীরের অনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপারেও তিনি জ্ঞাত। আনভীরসহ অনেক শিল্পপতির হাঁড়ির খবর জানেন তিনি। অনেকে তাকে সমীহ করে চলেন ‘গোমর ফাঁস’ হওয়ার ভয়ে।

এশিয়ান টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক এবং প্রিভিউ কমিটির প্রধান ফারিয়া পিয়াসা। দীর্ঘদিনের প্রেমিক ব্যবসায়ী শাফাত আহমেদকে বিয়ে করেন তিনি। এনটিভির রিয়েলিটি শো ‘সুপার হিরো সুপার হিরোইন’র অন্যতম প্রতিযোগী ছিলেন ফারিয়া পিয়াসা। জড়িত টিভি উপস্থাপনা ও মডেলিংয়ে।
এ প্রসঙ্গে ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা বলেন, ‘আনভীর ভাইয়া কাউকে ডেকে আনেননি। মুনিয়া অনেক ব্যবসায়ীরই সঙ্গে ঘনিষ্ট ছিল। তার বোন সব জানতেন। এখন অহেতুক অভিযোগ করছেন। মুনিয়ার বোন নুসরাতের উচিত ছিল আনভীরের মা কিংবা পরিবারকে আগেই সব জানানো।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বনানীর রেইনটি হোটেলে ধর্ষণ মামলার আসামিরা সবাই জামিনে আছেন। স্বামী সাফাতের সাথে যোগাযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

২০১৭ সালের ২৮ মার্চ আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ধর্ষণের শিকার হন রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ছাত্রী। বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। আলোচিত এ ঘটনার দায়ের করা মামলায় তিন বছর পার হলেও এখনো মামলাটির বিচার কার্যক্রম নিষ্পত্তির মুখ দেখছে না। কবে নাগাদ মামলাটির নিষ্পত্তি হতে পারে তাও বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। ওই ঘটনার পর স্বামী-শ^শুড়ের সঙ্গে পিয়াসার বিরোধের চিত্র উঠে আসে। আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের সঙ্গে পিয়াসার আপত্তিকর বাহাস হয়। তদবির করে স্বামী সাফাতকে জামিনে মুক্ত করান তিনি। কিন্তু পরে আদালত সাফাতের জামিন বাতিল করেছেন। সেই থেকেই আলোচনায় আছে পিয়াসা।
সানশাইন/২৯এপ্রিল/ইউ

 

এপ্রিল ২৯
১১:২৯ ২০২১

আরও খবর