Daily Sunshine

চাকরিজীবির নাম কর্মসৃজন প্রকল্পে

Share

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: প্রতিবন্ধী না হলেও পেয়েছেন প্রতিবন্ধী ভাতা, বিঘা বিঘা সম্পত্তির মালিক অথচ বাগিয়ে নিয়েছেন বয়স্ক ভাতা আবার কলেজে চাকরি করলেও নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে হতদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এরকম অনিয়ম-দুনীতির অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে ঈশ্বরদীর পার্শ্ববর্তী ২নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জয়ের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এসব বিষয়ে গোপনে অনুসন্ধান চালিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, গোপন আঁতাত, মোটা অংকের টাকা ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে বিভিন্ন ভাতা প্রদানে চরম অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন ২নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জয়। এসব কাজে চেয়ারম্যান জয়কে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগীতা করেছেন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও ইউনিয়ন সমাজকর্মী আতাউর রহমান। সম্প্রতি জয়ের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ পুরো ইউনিয়ন জুরেই ওপেন সিক্রেট হয়।
সুত্র জানায়, ২নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের বাসিন্দা গৌরিপুর এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৪৫), মেয়ে কণা খাতুন (২৪), আক্কেল আলীর ছেলে রহম আলী (৪৫), জিয়াউর রহমানের ছেলে আবু সাঈদ (৪৮), ভাট পাড়া এলাকার মৃত আকবর আলীর ছেলে শওকত আলী (৪০), জোকাদহ এলাকার ফজলুর স্ত্রী চায়না বেগম (৩৮) প্রতিবন্ধী না হয়েও ইউপি চেয়ারম্যানকে উৎকোচের বিনিময়ে পেয়েছেন প্রতিবন্ধী ভাতা। এক্ষেত্রে তারা সংশ্লিষ্ট একজন চিকিৎসকের সনদ জাল করে এ সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছেন। অপরদিকে বিঘা বিঘা সম্পদের মালিক তারা পেয়েছেন বয়স্ক ভাতার কার্ড।
আবার চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তান পেয়েছেন ১০টাকা কেজি চাউলের কার্ড। এরা হলেন পুরাতন ঈশ্বরদী পশ্চিম পাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান, মুসলিমা বেগম ও মুস্তাফিজুর রহমান।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গৌরিপুর এলাকার মৃত জমসেদ বেগের ছেলে মীর্জা মতলেব বেগ, মৃত জব্বার প্রামানিকের ছেলে আজিজুর রহমান পেয়েছেন বয়স্ক ভাতার কার্ড। প্রকৃত পক্ষে এরা বেশ সম্পদ শালী। এছাড়াও পালিদেহা এলাকার গেদা প্রামানিকের ছেলে গৌরিপুর স্কুল এন্ড কলেজের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী সুমন আলীর নাম অর্ন্তভুক্ত হয়েছে কর্মসৃজন প্রকল্পে। সুমন আলী ২নং ঈশ্বরদী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জয়ের আপন চাচাতো ভাই।
সুত্র জানায়, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামে সাথে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে ভূয়া জরিপ দেখিয়ে এসব ভাতার কার্ড করিয়ে নিয়েছেন চতুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জয়। সুত্রটি আরও জানায়, সমাজ সেবা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ২নং ঈশ্বরদী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জয়ের ঘনিষ্ট বন্ধু। এছাড়াও ইউনিয়ন সমাজকর্মী আতাউর রহমান চেয়ারম্যান জয়ের মামা। এসব কারণেই একের পর এক নানা অনিয়ম করে যাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, গত ৫ বছরে প্রতিটি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতি করেছেন ২নং ঈশ্বরদী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জয়। বিশেষ করে বিভিন্ন ভাতা প্রদান আর কর্মসৃজন প্রকল্পে করেছেন লুটপাট। চলতি বছরের কর্মসৃজন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে চালিয়েছেন ভয়াবহ লুটপাট। সেই সুত্র ধরে এবারও শুরু হওয়া ২য় পর্যায়ের কাজেও শুরু করেছেন ভয়াবহ দুর্নীতি। প্রতিটি প্রকল্পেই অর্ধেকেরও কম শ্রমিক নিয়োগ করে কাজ করছেন তিনি। আর শ্রমিকের তালিকায় নাম রয়েছে তারই আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের নাম।
এসব বিষয়ে ২নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জয় বলেন, যাদের প্রতিবন্ধী কার্ড রয়েছে তাদেরই প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করা হয়েছে। আর ১০ টাকা কেজি চালের বিষয়ে তিনি বলেন, একই পরিবারে একাধিক সদস্য কার্ড পেয়ে থাকলে যাচাই-বাছাই করে সেগুলো বাদ দেওয়া হবে। বয়স্ক ভাতার ব্যাপারে তিনি বলেন, জমি থাকলেও সমাজে যারা অসহায় তাদের বয়স্ক ভাতা দেওয়া হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, সমাজ সেবা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তাঁর বন্ধু।
উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম গোপন আঁতাতের বিষয়টি নাকচ করে বলেন, ইতোমধ্যেই কণা নামের একজনের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড স্থগিত করা হয়েছে। এরআগে চেয়ারম্যান জয় ১৬০ জনের প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করলেও যাচাই-বাছাই করে ৪০টি আবেদন বাতিল করা হয়। বন্ধুত্বের সম্পর্কের জন্য জয় তাঁর কাছে কোন ধরণের সুযোগ-সুবিধা পায় না বলেও জানান তিনি।

এপ্রিল ২৮
০৪:৫০ ২০২১

আরও খবর