Daily Sunshine

ঢামেকে করোনা রোগী দেখলেই এগিয়ে যান বৃহন্নলার সদস্যরা

Share

সানশাইন ডেস্ক: এই করোনাকালে মানুষের জন্য আমাদেরও কিছু করা দরকার।
তাই ছুটে এসেছি বৃহন্নলা সংগঠনের মাধ্যমে করোনা রোগীদের সেবা করতে। হতে পারি আমরা তৃতীয় লিঙ্গ, কিন্তু মানুষ তো।
সোমবার (২৬ এপ্রিল) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বৃহন্নলার উদ্যোগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কাজ করতে আসা তৃতীয় লিঙ্গের একজন প্রতিনিধি এ কথা জানান।

নতুন ভবন করোনা ইউনিটের সামনে চিকিৎসা নিতে আসা করোনা রোগীদের সহযোগিতা করতে দেখা যায় তৃতীয় লিঙ্গের কয়েকজনকে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বৃহন্নলার সাধারণ সম্পাদক ঢাবির ছাত্র আসিফ আহমেদ জানান, আমাদের সংগঠনের ১৫ জন সদস্য আছেন। এদের মধ্যে ১০ জনই হচ্ছেন তৃতীয় লিঙ্গের।

তিনি আরও জানান, করোনা প্রতিরোধের জন্য সরকারের দেওয়া লকডাউনের শুরু থেকেই আমাদের সদস্যরা হাসপাতালে করোনা রোগীদের সহযোগিতা করে আসছেন। এছাড়া হাসপাতালের সামনে আমাদের একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা আছে। এই অটোরিকশা দিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারী বা গরীব রোগীদের হাসপাতাল থেকে ঢাকার মধ্যে তাদের বাসায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। এছাড়া এই যান দিয়ে অন্যান্য সেবামূলক কাজ করছি।

নতুন ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বৃহন্নলার ৬ জন সদস্য করোনা রোগীদের সহযোগিতা করছেন। গাড়ি থেকে রোগী নামানো বা উঠানো সহ বিভিন্ন সহযোগিতা করতে দেখা যায় তাদের। এদের মধ্যে দু’জন ছিলেন তৃতীয় লিঙ্গের। একজন হচ্ছেন চাঁদনী ও অপরজন হচ্ছেন মুনমুন।

ঢামেক করোনা ইউনিটে যারা চিকিৎসা নিতে আসছেন, তাদের সেবায় এগিয়ে আসছে বৃহন্নলা নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। এর সদস্যরা অধিকাংশ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। হাসপাতালের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে করে দাঁড়িয়ে আছেন তারা। সেখানে লিখা আছে, আমি স্বেচ্ছাসেবক কিভাবে সাহায্য করতে পারি।

বৃহন্নলার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ঢাবির ছাত্র সাদিকুল ইসলাম জানান, ২০১৭ সালে আমাদের এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। আমাদের কাজই হচ্ছে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে। তাদের মান উন্নয়নসহ নানা দিক নিয়ে আমরা কাজ করে আসছি। এছাড়াও তিনি জানান, ২০২০ সালের করোনাকালে আমাদের সংগঠন থেকে দরিদ্রদের বাসায় বাসায় খাবার পৌঁছানোসহ নানা রকম কাজ করেছি।

নতুন ভবনের সামনে করোনা রোগীদের সহযোগিতা করা তৃতীয় লিঙ্গের চাঁদনী জানান, সারাজীবন মানুষ আমাদের জন্য করেছে। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে মানুয়ের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে আমাদের জীবন চলতো। তাহলে আমাদেরও মানুষের জন্য কিছু করা দরকার। তাই সেই সংগঠনের উদ্যোগে করোনা রোগীদের যতটা পারি সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

অপরদিকে তৃতীয় লিঙ্গ মুনমুন জানান, গত পরশু এক করোনা রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে ট্রলিতে বসিয়ে হাসপাতালে লিফটের সামনে নিয়ে গিয়েছিলাম। তাকে আমি সুস্থ দেখেছি। কিছুক্ষণ পরে শুনতে পারি সেই লোকটি মারা গেছেন। এত খারাপ লেগেছে, অনেক কষ্ট পেয়েছি। তাই একদিন কাজ করতে পারিনি। মানুষই মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসবেন। এই যে করোনাকালে আমরা এই সুযোগটা পেয়েছি। সংগঠন থেকে সুরক্ষার সামগ্রী পড়েই করোনা রোগীদের সহযোগিতা করছি।

তিনি জানান, মাঝে মাঝে রোগীদের সহযোগিতা লাগবে কিনা জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, না লাগবেনা। হয়তো তারা মনে করেন আমরা টাকা পয়সা নিবো। পরে তাদের বোঝানোর পরে তারা সহযোগিতা নেন। একপর্যায়ে তাদের সহযোগিতা করে ফিরে আসার সময়, তারা আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন। এটাই আমাদের অনেক বড় পাওনা।

এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিক্যাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক জানান, একটি সংগঠন ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ করতে চাচ্ছে। তারা আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে। তারা ভলেন্টিয়ার হিসেবে আমাদের লোকদের সঙ্গে কাজ করছে।
সানশাইন/২৭এপ্রিল/ইউ

 

এপ্রিল ২৭
১০:০৮ ২০২১

আরও খবর