Daily Sunshine

দানবাক্স খুললেই সোনা-দানা পাওয়া যায় যে মসজিদে

Share

সানশাইন ডেস্ক:বিশ্বে গর্ব করার মতো বাংলাদেশের আছে হাজার বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ স্থাপত্যকলা। শিল্পের এই মাধ্যমে কোনও অংশে কম ছিল না এ অঞ্চল। বাংলাদেশের যে স্থাপনাশৈলী এখনও বিমোহিত করে চলেছে অগণিত ভ্রমণচারী ও মননশীল মানুষকে, তার মধ্যে আছে দেশজুড়ে থাকা অগণিত নয়নাভিরাম মসজিদ

ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ জনপদ কিশোরগঞ্জ। নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা আছে এখানে। এর মধ্যে অন্যতম পাগলা মসজিদ। আড়াইশ বছরের পুরনো মসজিদটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এখনও।

শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে গেলে দেখা যাবে এটি। রয়েছে পাঁচতলা উঁচু মিনার। নির্মাণশৈলী মুগ্ধ হবার মতো। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে বাড়তি নান্দনিকতা যোগ করেছে পাশ দিয়ে বয়ে চলা নদী। কিশোরগঞ্জ শহর থেকে রিকসা করেই যাওয়া যায় পাগলা মসজিদে।

মানুষজন এ মসজিদে হাত খুলে দান করেন। অনেকের বিশ্বাস, এ মসজিদে দান করলে নাকি ইচ্ছা পূরণ হয়। আর এতেই সবসময় ভরপুর থাকে মসজিদটির দান-বাক্স।

বাক্সটা খোলা হয় তিন মাস পরপর। খুললেই পাওয়া যায়- নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী। এগুলো পরে নিলামে তোলা হয়। এতে প্রতিবার প্রায় কোটি টাকার মতো আয় হয়। মসজিদের উন্নয়ন ও খরচ মেটানোর পর বাকি টাকা ব্যয় হয় আশপাশের অন্যসব মসজিদের উন্নয়ন ও দুস্থদের সাহায্যে।

পাগলা মসজিদ বর্তমানে অনেক সম্প্রসারিত। প্রথমে শহরের হয়বতনগর দেওয়ানবাড়ির ১০ শতাংশ ওয়াক্ফ সম্পত্তিতে গড়ে ওঠে মসজিদটি। বর্তমানে জমির পরিমাণ তিন একর ৮৮ শতাংশ। নারীদের নামাজ আদায়ের জন‌্য রাখা হয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। মসজিদের অর্থায়নে ২০০২ সালে গড়ে উঠেছে নুরুল কুরআন এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদরাসা। এখানে ছেলে-মেয়েদের থাকা-খাওয়া, পোশাকসহ লেখাপড়ার খরচ বহন করা হয়।

এ মসজিদের প্রতিষ্ঠা নিয়ে লোকমুখে রয়েছে নানা জনশ্রুতি। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ‘এক আধ্যাত্মিক পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দার মাঝখানে মাদুর পেতে ভেসে আসেন এ অঞ্চলে। এরপর এখন যেখানে মসজিদটি আছে, সেখানে অবস্থান করেন। তাকে ঘিরে সমবেত হয় ভক্তরা। পরে ওই দরবেশ যাতে ইবাদত করতে পারেন, সেজন্য নদীর মাঝের টিলার ওপর একটি টিনের ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়। ওই ঘরটিই পরে ‘পাগলা মসজিদ’ হয়ে যায়।

আরেক জনশ্রুতিতে জানা যায়, হয়বতনগর প্রতিষ্ঠাতাদের পরিবারের এক নিঃসন্তান বেগমকে জনগণ ‘পাগলা বিবি’ বলে ডাকতো। দেওয়ানবাড়ির এ বেগম নরসুন্দার তীরে স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে একটি মসজিদ নির্মাণ করলে ওটার নাম রাখা হয় পাগলা বিবির মসজিদ।

১৯৭৯ সালের ১০ মে ওয়াকফ স্টেটে চলে যাওয়ার পর মসজিদটি পরিচালিত হয় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত পাগলা মসজিদ। এখানে মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের জন্য ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যা বাস্তবায়ন হলে ৫০ হাজারেরও বেশি মুসুল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তাছাড়া পাগলা মসজিদের অর্থায়নে এলাকার অন্যান্য প্রাচীন মসজিদের সংস্কার ও উন্নয়ন হচ্ছে। এলাকায় দরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারের জন্য এ মসজিদ থেকে অনুদান দেওয়া হয়। এর টাকায় এলাকার গরীব শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, চিকিৎসাও করানো হয়।
সানমাইন/২১ এপ্রিল/ইউ

 

 

 

এপ্রিল ২১
১১:৫০ ২০২১

আরও খবর