Daily Sunshine

আমরা সবাই মিলে ভালো থাকতে চাই?

Share

সম্ভবত, আমরা সবাই ভালো থাকতে চাই। কিন্ত এই চাওয়া একেবারে আপেক্ষিক। অর্থ্যাৎ অন্যের চাইতে ভালো থাকতে চাই। পাঠক, একটু মনযোগ দিয়ে ভাবুন, নিজের ভালো চাওয়া বা ভালো থাকতে চাওয়া এটা সবার অধিকার। কিন্ত এই ভালো থাকতে গিয়ে কারো যদি ক্ষতি হয়, নিশ্চয় ,এইভাবে ভালো থাকতে চাওয়া কারো অধিকার হতে পারেনা।

আমরা অন্যের কি হবে এটা ভাবতে শিখিনি বরং নিজের লাভ হতে যদি কারো আরও বেশী ক্ষতি হয় আমরা তাতে বেশী খুশী হই। আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে উপলব্ধি করেছি, মানুষ সৃষ্টির পর হতে যদি ইতিহাস বিশ্লেষন করি একটা বিষয় পরিস্কার ধারনা পাই পৃথিবীর সভ্যতাগুলো গড়ে উঠেছে কিছু দক্ষ, সাহসী, চিন্তাশীল মানুষের জন্য।

যারা নিজের চিন্তা বাস্তবায়িত করার জন্য অনেক অসাধ্য সাধন করেন ।  আমার প্রশ্ন হলো ক্ষ্রিষ্টপুর্ব হতে পরবর্তী  খ্রীষ্টাব্দ এবং বর্তমান পর্যন্ত আলেকজান্ডার , হালাকু খাঁ, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, চেজ্ঞিস খান, মৌর্য বংশ, পাল বংশ, সুলতানী বংশ, মোঘল, এবং বৃটিশরা  সুবিশাল ইতিহাসের জন্ম দিয়েছেন ।

সভ্যতা আধুনিকিকরনের জন্য ব্যাপক ভুমিকা রেখেছেন। এই ইতিহাসখ্যাত শাসকগন কি অন্য কোন জাতি বা গোষ্ঠির অনিষ্ঠ্য না করে নিজের এই বিশাল কৃতিত্বের দাবিদার হতে পেরেছেন? আমার মনে হয় না।তবে হ্যাঁ ,তখন পেশী শক্তি ও কুটবুদ্ধির জোরে তারা নিজের ভালোটা বুঝে নিয়েছেন।

সময় বদলে গেছে , বর্তমানে পেশী শক্তির জোর খাটানো সম্ভব হয় খুব কম। কেননা একটা আপাদ বৈধ উছিলা ছাড়া বল প্রয়োগ করা যায়না। সর্বশেষ বৃটিশদের সময়েও উছিলার প্রয়োজন হয়নি। কিন্ত বানিজ্যিক সম্রাজ্যবাদের বিভিন্ন কৌশলে পরের অনিষ্ট্য করে নিজের ভালোটা পুর্বের চাইতে বর্তমানে কম নয়।

তখন গড়ে উঠেছিল দুর্বলদের কাঁধের উপর ভর করে সুবিশাল সভ্যতা। যা ঐ দুর্বলরা কখনই এর সুফল পাইনি আজও পাচ্ছেনা। এই বিষয়গুলি সম্বন্ধে অনেক জ্ঞানী ব্যাক্তিবর্গ পুর্বে লেখালেখি করেছেন। আজ আমি সামান্য একটু লিখে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলাম এর সমাধান কোথায়?

সমাধান এক জায়গায় আমি আমার ভালো চাইব কিন্ত অন্যের অনিষ্ট্য করে নয়। আমি ভালো থাকব অবশ্যই, একা নয় সবাই মিলে।আমাদের রাষ্ট্র থেকে ব্যাক্তি- সবার মানষিকতার পরিবর্তন দরকার।কেননা রাষ্ট্রে একটি দল ক্ষমতায় থাকে তখন যত সুন্দর উন্নয়ন চিন্তার বাস্তবায়ন করতে যাকনা কেন বিরোধীদলগুলো বলবেন- না , এটা কাম্য নয়।

আবার আজকের বিরোধীদল যখন ক্ষমতায় গিয়ে উদ্যোগ গ্রহন করবেন তখন ( বর্তমান সরকারী দল ) বিরোধীদল বলবেন না না, এটা কাম্য নয়। ব্যক্তি বা গোষ্টির ক্ষেত্রেও একই মানষিকতা। বিরোধী চিন্তা ভাবনা মানে এই নয় যে শক্রতা করা বা  বিরোধী মানষিকতা রাখা।

আমরা জাতি বা রাষ্ট্রের কল্যানের জন্য ভালো চিন্তাগুলো অবশ্যই সাধুবাদ জানাবো এবং অকল্যানকর চিন্তার সমালোচনা তথা বাধা প্রদান করব। কিন্ত সাধারনত সুচিন্তা বাস্তবায়িত হচ্ছে জেনেও বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান করি।

কেননা যদি সফল হয় তবে আমার ইমেজ খাট হয়ে যাবে । সুতরাং বাধা প্রদান করতেই হবে। নিজের নাক কাটা পড়লেও পরের যাত্রা ভঙ্গ করতে হবে। এতে আমরা সবাই কোথায় যেন আটকে থাকছি যা সম্রাজ্যবাদী শোষকরা মনে প্রানে ধন্যবাদ দিয়ে আমাদের লালন করছে।

আমরা যখন সবাই মিলে ভালো থাকার মানষিকতা মনের মধ্যে পোষন করব তখন শোসকের সম্রাজ্যবাদী চিন্তার ব্যর্থ চেষ্টা করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবেনা। সুতরাং আমরা সবাই মিলে ভালো থাকতে চাই। এটাই হোক আমাদের প্রত্যয়।

লেখকঃমোঃ হেলাল উদ্দিন সুমন। সিনিয়র প্রভাষক ( অর্থনীতি ) হাটকানপাড়া জোবেদা ডিগ্রী কলেজ। দুর্গাপুর, রাজশাহী।

এপ্রিল ২০
১৫:৫৩ ২০২১

আরও খবর