Daily Sunshine

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে তিন দিন ধরে চাল আমদানি বন্ধ

Share

সানশাইন ডেস্ক : দেশের বাজারে চালের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে দেড় বছর পর ভারত থেকে চাল আমদানি শুরুর কয়েকদিনের মাথায় আবারও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। আমদানিকৃত চালের এইচএস কোড নিয়ে জটিলতার কারণ দেখিয়ে গত ১৩ জানুয়ারি থেকে ভারত চাল রফতানি বন্ধ রেখেছে। এতে করে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের অভ্যন্তরে কয়েক হাজার টন চাল আটকা পড়েছে।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে চাল আমদানির অনুমতির পর গত ৯ জানুয়ারি বন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়। ওই দিন বন্দর দিয়ে ৩টি ট্রাকে ১১২ টন চাল আমদানি হয়। এর পরদিন ১০ জানুয়ারি বন্দর দিয়ে ২০টি ট্রাকে ৮২৮ টন চাল আমদানি করা হয়। একইভাবে ১১ জানুয়ারি বন্দর দিয়ে ৮টি ট্রাকে ৩২৯ টন এবং ১২ জানুয়ারি বন্দর দিয়ে ২৩টি ট্রাকে ৮৮৪ টন চাল আমদানি হয়। কিন্তু এরপর এইচএসকোড নিয়ে জটিলতা দেখিয়ে গত ১৩ জানুয়ারি (বুধবার), ১৪ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ও ১৬ জানুয়ারি (রবিবার) বন্দর দিয়ে কোনও প্রকার চাল আমদানি হয়নি।

দেশীয় কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাল আমদানিতে ৬২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় চাল আমদানিতে পড়তা না থাকায় ২০১৯ সালের ৩০ মে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি চালের শুল্ক ৬২.৫ থেকে দুদফা কমিয়ে ১৫ ভাগ করে সরকার। এর পর বন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়।

হিলি স্থলবন্দরের চালের কার্য সম্পাদনকারী আমদানিকারক মনোনীত সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘চাল আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর চার দিন বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছে। এর পর থেকে চালের এইসএসকোড নিয়ে জটিলতা দেখিয়ে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ রেখেছেন ভারত। ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখন বলছে, এইচএস কোড ও পণ্যের নাম ঠিক করতে হবে। বর্তমানে চাল আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে চালের এইসএসকোড রয়েছে ননবাসমতি হাসকিং ব্রাউন রাইস, এটি তারা গ্রহণ করছে না। তারা চাইছে, শুধু ননবাসমতি রাইস। এখন মন্ত্রণালয় থেকে চাল আমদানির অনুমতিপত্রে চালের যে এইসএসকোড দেওয়া রয়েছে এর বাইরে তো আমাদের যাওয়ার ক্ষমতা নেই।’

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ ও চাল আমদানিকারক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমনের ভরা মৌসুমে দেশের বাজারে ধানের দাম বেশি দেখিয়ে চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চালের বাজার পুরোপুরি অস্থিতিশীল হয়ে উঠে। এমন অবস্থায় দেশে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মোতাবেক বেসরকারি আমদানিকারককে বিভিন্ন শর্ত মেনে চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। হিলি স্থলবন্দরের বিভিন্ন আমদানিকারক প্রায় ৬০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পায়। সরকারি সেসব নির্দেশনা মেনে বন্দর দিয়ে দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় পর গত ৯ জানুয়ারি থেকে চাল আমদানি শুরু করেন আমদানিকারকরা। এসব চাল দেশের বাজারে প্রবেশের পর চালের মূল্য কমতে শুরু করেছিল। এবার ভারত চাল রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে এইচএস কোডের জটিলতা দেখিয়ে। এতে করে গত তিন দিন ধরে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। যে কারণে ভারতের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকজন আমদানিকারকের কয়েক হাজার টন চাল ট্রাক বোঝাই অবস্থায় রয়েছে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায়।’

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রিপন রায় বলেন, ‘আমরা যতটুকু শুনেছি ভারতে ওদের নাকি কী সমস্যা হয়েছে, যার কারণে তারাই চাল রফতানি করছেন না। আর যেহেতু বিষয়টি ভারতীয়, তাই আমাদের কিছু করার নেই। কিন্তু আমাদের তরফ থেকে কোনোপ্রকার সমস্যা নেই। আর যদি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনও এইচএসকোড পরিবর্তন করে, সে ক্ষেত্রে সেটি পেয়ে যাবো আমরা।’

 

সানশাইন/১৭ জানুয়ারি/রনি

জানুয়ারি ১৭
১২:১৫ ২০২১

আরও খবর

বিশেষ সংবাদ

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

স্টাফ রিপোর্টার ,রাবি: টুকিটাকি চত্বর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিরপরিচিত একটি চত্বর। প্রায় ৩৫ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির লাইব্রেরি চত্বরে ‘টুকিটাকি’ নামের ছোট্ট একটি দোকান চালু হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে টুকিটাকি নামটি ছড়িয়ে পড়ে। দোকানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। ফলে সবার অজান্তেই একসময় লাইব্রেরি চত্বরটির নাম হয়ে যায়

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১৯ মার্চ

৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১৯ মার্চ

সানশাইন ডেস্ক : ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। এই পরীক্ষা ১৯ মার্চ নেয়ার দিন ধার্য করেছে পিএসসি। বুধবার বিকেলে পিএসসিতে এক অনির্ধারিত সভায় যথাসময়ে এই পরীক্ষা নেয়ার মত দেয়া হয়। পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে এ অনির্ধারিত সভায় কোনো আলোচনা হয়নি। ২০১৯ সালের

বিস্তারিত