Daily Sunshine

হারানো পায়ের দিকে তাকিয়ে কাঁদছিলেন ফাহিমা

Share

স্টাফ রিপোর্টার : নিজের কেটে ফেলা পায়ের দিকে তাকিয়ে অঝোরে কেঁদে চলেছেন ফাহিমা বেগম (৫৫)। আর কোনোদিন দুই পা মাটিতে ফেলে হাঁটতে পারবেন না। এমন ভেবেই হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে কেঁদে চলেছেন। ফাহিমা বেগম রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের চকমহব্বতপুর গ্রামের দানেশ আলীর স্ত্রী। জমি-জমা বিরোধের জের ধরে বোনের ছেলেদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে এক পা হারিয়েছেন। আরেক হাতও অকেজ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসায় প্রাণ ফিরে পেলেও এক পা হারিয়েছেন তিনি।

গত ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যার পর গৃহবধূ ফাহিমা বেগমের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। ওইদিন তিনি ও তাঁর স্বামী উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। বাড়ির সন্ধ্যার দিকে বাড়ির অদূরে পৌঁছালে সেখানে আগ থেকে ওঁত পেতে থাকা বোনের দুই ছেলে মাহাতাব আলী ও মহসিন তাঁদের ওপর ধারাল অস্ত্র দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এসময় তাদের হামলার শিকার হয়ে স্বামী দানেশ আলী পালাতে সক্ষম হলেও ফাহিমা বেগম পালাতে পারেননি। পরে তাঁর ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।

ফাহিমা বেগমের বরাত দিয়ে তাঁর ছেলে বুলবুল আহম্মেদ বলেন, তাঁর মায়ের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। হাতে-পায়ে হাঁসুয়া দিয়ে কোপানো ছাড়াও বাম পা একটি কাঠের উপর রেখে সেখানে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে পা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অচেতন হয়ে পড়লে তাঁরা (খালাত ভাইয়েরা) ফেলে চলে আসে। বাবার কাছ থেকে খবর পেয়ে তাঁর মাকে অচেতন অবস্থায় ওই রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়াতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে তিনি ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একই গ্রামের বাসিন্দা খালাত ভাইদের সঙ্গে তাঁদের জমি-জমা নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জের ধরে তাঁর মায়ের ওপর নির্মম নিযাতন চালানো হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পরে ফাহিমা বেগম প্রাণ ফিরে পেলেও তাঁর বাম পা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

গত সোমবার ২১ ডিসেম্বর অস্ত্রোপচারের পর তাঁর বাম পা কেটে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুই নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পায়ে আঘাতের কারণে সেখানে পচন শুরু হয়েছিল। নিরুপায়ে পা কেটে ফেলা হয়েছে। এক হাতের অবস্থাও ভালো না।

গতকাল এক আত্নীয়র মুঠোফোনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা হয় ফাহিমা বেগমের সঙ্গে। তিনি কথা বলতেই হাউ-মাউ করে কেঁদে ফেলেন। ব্যান্ডেজ দিয়ে জড়িয়ে বালিশের উপর রাখা কাটা পায়ের দিকে তাকিয়ে কাঁদছিলেন। ওই দিনের নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে মাঝে মধ্যে থেমে যান। তিনি শুধু হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন। বেশি কথা বলতে পারেননি।

স্বামী দানেশ আলী বলেন, তাঁর স্ত্রীকে আর কোনোদিন স্বাভাবিক ভাবে দেখতে পাবেন না। মানুষ এভাবে মারতে পারে তা ভাবতে পারেননি। তিনিও বিচার চেয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক ইনসান আলী বলেন, গৃহবধূ ফাহিমা বেগমের ওপর নির্মম নির্যাতন মধ্যযুগকেও হার মানায়। এখন ওই গৃহবধূকে প্রতিবন্ধী হয়ে জীবন যাবন করতে হবে। মূল আসামিরা কারাগারে থাকায় তাঁদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আফজাল হোসেন জানান, মামলার আসামিদের পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেউ কেউ জামিনে এসেছে। তাঁদের ওপর নজর রয়েছে। তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে।

সানশাইন/২৭ ডিসেম্বর/ রোজি

 

 

ডিসেম্বর ২৭
১৯:০৯ ২০২০

আরও খবর

বিশেষ সংবাদ

পা নেই তবুও ফুডপান্ডার রাইডার পলাশ

পা নেই তবুও ফুডপান্ডার  রাইডার পলাশ

আসাদুজ্জামান নূর : রাজশাহী নগরীর উপশহরে প্রসিদ্ধ মাষকলাই রুটির দোকান ‘কালাই হাউজ’। দোকানের সামনে হুইল চেয়ারে বসে আছেন এক প্রতিবন্ধী যুবক। একটি পা নেই, আরেকটি অক্ষম। চেয়ারের পেছনে ফুডপান্ডার খাবার বহন করার ব্যাগ। কিছুক্ষণ পরেই দোকানের এক কর্মচারী কালাইরুটি ও অন্যান্য খাবার নিয়ে এলেন। ভরে দিলেন হুইল চেয়ারের পেছনের ব্যাগে।

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৪০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ

৪০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ

সানশাইন ডেস্ক : ৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২৭ জানুয়ারি) ফল প্রকাশ করে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছেন ১০ হাজার ৯৬৪ জন। পরীক্ষা অংশ নেন ২০ হাজার ২৭৭ জন প্রার্থী। পাস করা ওই প্রার্থীরা এখন মৌখিক পরীক্ষা দেবেন। প্রায় এক বছর পর এই ফল

বিস্তারিত