Daily Sunshine

গৃহবধুর শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা, স্বামী গ্রেফতার

Share

স্টাফ রিপোর্টার: যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের জলন্ত আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্মম নির্যাতন করেছে স্বামী। সংসার করার আশায় নির্যাতন মেনে নিয়েই এতদিন চুপ করে থাকতেন গৃহবধু। তবে সর্বশেষ গত শনিবার দিবাগত রাতে তার উপর চলে আরো নির্মম পাশবিক নির্যাতন। তার গলা, পেট ও বুকে সিগারেটের ছ্যাঁকায় দগ্ধ করা হয়। নির্মম নির্যাতনের এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মাসিন্দা সইপাড়া গ্রামে।

এ ঘটনায় গৃহবধুর স্বামী তোতা মিয়াকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর নির্যাতনের শিকার গৃহবধু ফাতেমাকে (২৩) রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। ফাতেমা এখন রামেক হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে কাতরাচ্ছেন।

গ্রেফতার তোতা মিয়া মাসিন্দা সইপাড়া গ্রামের রহমত আলীর ছেলে। পেশায় সে একটি দোকানের কর্মচারী। ফাতেমার বাবার বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিষালবাড়ি মহল্লায়। প্রায় সাত বছর আগে তোতা মিয়ার সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। তখন থেকেই বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে দিতে স্ত্রীকে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো তোতা।

এবিষয়ে তানোর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, যৌতুকের দাবিতে তোতা তার স্ত্রীকে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো। সর্বশেষ শনিবার রাত ১০টার দিকে তোতা আবারও তার স্ত্রীকে নির্যাতন শুরু করে। জলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে দেয়া হয়। এছাড়াও মারপিট করে তাকে জখম করা হয়।

ওসি আরো বলেন, প্রতিবেশীদের দেয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্যাতনের শিকার ফাতেমাকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখে সঙ্গে সঙ্গেই মামলা রেকর্ড করা হয়।

নির্যাতিত গৃহবধু নিজেই বাদি হয়ে স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুড়িসহ চার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরের দিন রোববার রাতে অভিযুক্ত গৃহবধুর স্বমী তোতা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

রামেক হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের প্রধান ডা. আফরোজা নাজনীন জানান, ফাতেমাকে রোববার বিকালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার গলা, বুক ও পেটে সিগারেটের অসংখ্য ছ্যাঁকার চিহ্ন রয়েছে।

সানশাইন/১৯ অক্টোবর/এসআর

অক্টোবর ১৯
১৬:২৫ ২০২০

আরও খবর