Daily Sunshine

ডিগ্রী থাকলেও মিলছেনা যোগ্য চাকরি

Share

শাহ্জাদা মিলন: বাংলাদেশের অন্যতম বিভাগীয় শহর রাজশাহী। সিল্কসিটি, আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত সারা দেশে রাজশাহী। তবে এসব পরিচয় ছাপিয়ে রাজশাহী ‘শিক্ষা নগরী’ হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। অসংখ্য নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। এর সুফলে রাজশাহীতে বছর বছর বাড়তে ডিগ্রিধারী মানুষের সংখ্যা। তবে সেই অনুপাতে বাড়ছে না কর্মসংস্থান।

রাজশাহীতে রয়েছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়, দেশ সেরা রাজশাহী কলেজ, পলেটেকনিক ইনিস্টিটিউট, রুয়েট, নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজসহ অসংখ্য নামিদামি প্রতিষ্ঠান। লক্ষাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে।

প্রতিবছর বড় একটি অংশ শিক্ষা জীবন শেষ করে বেরিয়ে পড়ছে কর্মজীবনে। অধিকাংশ সুযোগ পাচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। অনেকে বিভিন্ন শোরুমে, বিপনন কর্মি অথবা ছোট্ট পরিসরে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। যাদের কোন উপায় নেই তারা চাকুরির জন্য বেশিভাগই দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। পরিবার আত্মীয় ছেড়ে শুরু করছে নতুন জীবন। অধিকাংশই কর্মজীবনের শুরুতে স্বল্প আয়ে জীবনযাপন করছে। দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা নির্ভর হওয়ায় রাজশাহীর বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন চাকুরি প্রত্যাশীরা। এছাড়া দেশের বেশিরভাগ কোম্পানীগুলো বিপনন নির্ভর হওয়া ও নিজ জেলায় কাজের সুযোগ না রাখায় জীবন চালানোর জন্য চলে যাচ্ছেন দেশের যে কোন প্রান্তে।

দেশের একপ্রান্তে অবস্থিত রাজশাহীতে অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হলেও কর্মসংস্থানের জায়গা খুব বাড়েনি। বিসিকে প্রাণের ডিপো অফিস, এসিআই গোদরেজের বিপনন অফিস, সাঁকোয়া টেক্সসহ কয়েক বছর আগে তৈরি হলেও অন্যান্য বড় বড় প্রতিষ্ঠান এখনো আসেনি। ফলে কিছু কর্মের জায়গা তৈরি হলেও সেটি চাহিদার তুলনায় একেবারে নগন্য। এসকল প্রতিষ্ঠানে বেশিরভাগ বিক্রয় কর্মি হিসেবে কাজ করছে অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু চাকুরির সুযোগ কম হওয়ায় অর্থের প্রয়োজনে অধিকাংশরা রাজশাহীর বাইরে চলে যাচ্ছে।

ঢাকায় একটি বেসরকারি উৎপাদন ও বিপনন অফিসে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক সিফট অনুযায়ী চাকুরি করেন তোফায়েল আহমেদ। বাড়ি রাজশাহীর ভদ্রা এলাকায়। মাস গেলে সব মিলিয়ে বেতন পান ১৮ হাজার টাকা। মাা দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ, বাবা বেঁচে নেই। সংসারে বড় ছেলে হওয়ায় রাজশাহী কলেজ থেকে অর্থনীতিতে এমএ(দ্বিতীয় বিভাগ) পাশ করার পর রাজশাহীতে কোথায় চাকুরি না পেয়ে ছুটে যান ঢাকায় কাজের সন্ধানে।

তিনি জানান, তিন মাস পর ভাগ্যক্রমে মেলে এইচএসসি সমমানের জন্য নির্ধারিত সিফট অনুযায়ী কাজ। কখনো রাতে, কখনো দিনে কাজ করতে হয়। বেতন কম হওয়ায় দুই মাসেও আসার সুযোগ হয়না রাজশাহীতে। মায়ের অসুস্থতা বাড়লে দেখতে না আসার কষ্ট টাকার কাছে হার মানে তখন। আবেগের সুরে বললেন এই বেতনে যদি রাজশাহীতে এক চাকুরি পেতেন তাহলে পরিবারের সাথেই থাকতে পারতেন। বাসা ভাড়াসহ অন্যান্য আনুসাঙ্গিক খরচ মায়ের চিকিৎসার জন্য খরচ করতে পারতেন।

রবিউল ইসলাম থাকেন রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলায়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাজশাহী কলেজ থেকে ২০১৩ সালে দর্শনে এমএ সম্পন্ন করেন। পাশ করেন দ্বিতীয় বিভাগে। পরবর্তীতে অনেক চেষ্টা করেও সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন চাকুরি জোটাতে না পেরে প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার চালাচ্ছেন।

তিনি জানালেন, একটা চাকরির জন্য হন্য হয়ে খুজেঁ বেরিয়েছেন শহরে। সুযোগ না হওয়ায় অবশেষে প্রাইভেট পড়িয়ে জীবন চালাচ্ছেন।
সানোয়ার হোসেন রাজশাহী নগরীর কয়েরদাঁড়ার বাসিন্দা। বাবা নেই, মা আর ছোট বোন থাকেন রাজশাহীতে। ঢাকার বিইউবিটি থেকে মার্কেটিং এ বিবিএ সম্পন্ন করেন। পরিবারের প্রয়োজনে রাজশাহী আসতে চাইলেও জীবিকার জন্য ঢাকায় থেকে যান। কিছুদিন পর পেয়ে যান চায়নার একটি প্রতিষ্ঠান টংওয়ে ফিড মিলের বিপনন অফিসার হিসেবে চাকুরি। পোষ্টিং ব্রাক্ষণবাড়িয়া। ফলে সহজে সুযোগ মেলেনা পরিবারের সাথে দেখা হওয়ার। ছোট চাকুরি হওয়ায় পারেননি পরিবারকে সাথে রাখতে। পরবর্তীতে যোগ দেন সুগুনা ফিডসে। গাজীপুরে পোষ্টিং হওয়ায় কিছুটা সুবিধা পান। সেখানে দুই বছর চাকুরির পর চলে আসেন রাজশাহীতে। এখন চাকুরির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন ব্রয়লার মুরগীর খামার।

সানোয়ার জানালেন, রাজশাহীতে চাকুরির সুযোগ কম থাকায় সবাই ছুটছে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে। পরবর্তীতে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অনেকে ব্যবসা শুরু করছে আবার অনেকে রাজশাহীর বাইরে থেকে যাচ্ছে। রাজশাহীতে বারো থেকে পনের হাজার টাকা হলে জীবন চালানো যায়। কিন্তু এই টাকা দিয়ে অন্য শহরে থেকে যাওয়া আসা বাসা ভাড়া অন্যান্য খরচ চালানো খুব কঠিন। এখানে ছোট ছোট কৃষি ভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা উচিত। এতে কিছুটা কর্মসংস্থান ঘটবে, খরচ কমবে, পারিবারিক বন্ধন মজবুত থাকবে ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে। লাভবান হবে সামগ্রিকভাবে রাজশাহী ও এখানের জনগন।

রাজশাহীর কয়েকজন উদ্যেক্তা জানান, মূলত গ্যাসের সমস্যার সমাধান ও বাইরের দেশ থেকে সরাসরি নৌপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো রাজশাহীতে তাদের ব্যবসার হাত বাড়িয়ে দিতো। মংলা পোর্ট থাকায় খুলনা, যশোরে বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। আবার চট্টগ্রামে সমুদ্র বন্দর থাকায় সেখানে কাচামালের আমদানি করা সহজ। আবার রপ্তানিতেও সুবিধা বেশি। ফলে বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো সেসব অঞ্চল ও ঢাকা কেন্দ্রিক তাদের প্রতিষ্ঠান চালনা করছে।
তবে আশার কথা হলো, রাজশাহী শহরের পাশে জমি নেয়া হয়েছে বিসিক-২ এর জন্য। গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। সেটা বাস্তবায়ন হলে অনেক ডিগ্রিসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিজ শহরেই চাকুরির সুযোগ মিলবে।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান জানান, বর্তমান সময়ে নানানমুখি পদক্ষেপের কারণে রাজশাহীতে বেশকিছু কর্সসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। তবে সেটা খুব কম। আমাদের আরো বেশি এ উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

সানশাইন/২২ সেপ্টেম্বর/ এমওআর

 

সেপ্টেম্বর ২২
২১:২৩ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

আবু সাঈদ রনি: সোনাদীঘি মসজিদের কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বইয়ের দোকান। নিম্নবিত্ত ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল এই পুরাতন লাইব্রেরী। মধ্যবিত্তরা যে যায় না ঠিক তেমনটিও না। কি নেই এই লাইব্রেরীতে? একাডেমিক, এডমিশন, জব প্রিপারেশনসহ সব ধরনের বই রাখা আছে সারি সারি সাজানো। নতুন বইয়ের দোকানের সন্নিকটে

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সানশাইন ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। রাবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর পদ সংখ্যা: ০১ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ফিজিওখেরাপি) পদ সংখ্যা: ০২ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ডেন্টাল) পদ সংখ্যা:

বিস্তারিত