Daily Sunshine

দীর্ঘ ১০ বছর পর ফুরফুরে শেয়ারবাজার

Share

সানশাইন ডেস্ক : দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে সুদিন ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজারে। দুই মাসের বেশি সময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে শেয়ারবাজার। তলানিতে নেমে যাওয়া লেনদেনেও গতি বেড়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গড়ে হাজার কোটি টাকার ওপর লেনদেন হচ্ছে। পুঁজি হারানোর আতঙ্ক ভুলে মুনাফা তুলে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। নতুন স্বপ্ন নিয়ে বাজারে ছুটে আসছেন তারা। সূচক, লেনদেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা— সবকিছু মিলে ফুরফুরে অবস্থায় রয়েছে শেয়ারবাজার। ২০১০ সালের মহাধসের পর এত ভালো অবস্থা আগে কখনও দেখা যায়নি।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বে বর্তমান কমিশন শেয়ারবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে এসেছে। এরই সুফল শেয়ারবাজারে দেখা যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের এই আস্থা ধরে রাখাই এখন শেয়ারবাজারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তারা বলছেন, ২০১০ সালের ধসের পর শেয়ারবাজার বেশ কয়েকবার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল নেতৃত্ব এবং একের পর এক দুর্বল কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আসায় বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিলেও তা স্থায়ী হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভিন্ন। নতুন কমিশন বেশকিছু দুর্বল কোম্পানির আইপিও বাতিল করে দিয়েছে। অনিয়মের কারণে বেশকিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে। ফলে বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই ভূমিকা ধরে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে দুর্বল কোম্পানি বাদ দিয়ে বাজারে ভালো ভালো কোম্পানি আনতে হবে। তাহলে বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা ধরে রাখা যাবে।

 

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকতে থাকা শেয়ারবাজারে মহামারি করোনাভাইরাস আতঙ্কে গত মার্চে বড় ধরনের ধস নামে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারায় টানা ৬৬ দিন বন্ধ রাখা হয় শেয়ারবাজারের লেনদেন। এর মধ্যেই বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। তার সঙ্গে কমিশনার হিসেবে যোগ দেন আরও তিনজন। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর শেয়ারবাজারে লেনদেন চালুর উদ্যোগ নেন। ফলে টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর ৩১ মে থেকে শেয়ারবাজারে আবার লেনদেন শুরু হয়।

নতুন নেতৃত্বের অধীনে শেয়ারবাজার চালু হলেও অব্যাহত থাকে লেনদেন খরা। তবে জুলাই মাসে এসে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেয় নতুন কমিশন। অনিয়মে জড়িত থাকায় একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়। সতর্ক করা হয় সরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজকে জরিমানার পাশাপাশি সতর্ক করা হয়। পরবর্তীতে আইসিবিকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। বাতিল করা হয় এক ডজন দুর্বল কোম্পানির আইপিও। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ ধরনের একের পর এক পদক্ষেপের ফলে ঘুরে দাঁড়ায় শেয়ারবাজার। ৫০ কোটি টাকার নিচে নেমে যাওয়া লেনদেন এখন হাজার কোটি টাকার ওপরে দাঁড়িয়েছে। অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে এই লেনদেন।

অবশ্য লেনদেনের পরিমাণ আরও বেশি হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। এ বিষয়ে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই বাজারে এক হাজার কোটি টাকা লেনদেন কিছুই না। দৈনিক গড় লেনদেন তিন থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।

এ সময় পুঁজিবাজার থেকে অনিয়ম করে কেউ অর্থ লুটের সুযোগ পাবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আমাদের এখান থেকে কেউ যাতে কাউকে ঠকিয়ে, লুট করে, জালিয়াতি করে, চালাকি করে টাকা-পয়সা নিয়ে যেতে না পারে এজন্য আমাদের সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে। আমরা প্রত্যেক কমিশন মিটিংয়ে এ ধরনের কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমরা যতদিন আছি কেউ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার সুযোগ পাবে না।

ংঃড়পশ সধৎশবঃ

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শেয়ারবাজার সবচেয়ে ভালো সময় পার করেছে ২০০৯ ও ২০১০ সাল। এই দুই বছরে রমরমা ছিল বাজার। সে সময় শেয়ারবাজার সাধারণ মানুষের কাছে এতটাই আকর্ষণীয় ছিল যে, দলে দলে বিনিয়োগকারীরা ছুটে আসেন। সাধারণ মানুষ থেকে শিক্ষার্থী, সবাই দেদারছে বিনিয়োগ করেন শেয়ারবাজারে। ফুলেফেঁপে ওঠে বাজার। ফলস্বরূপ ২০১০ সালের শেষদিকে এসে মহাধসে পড়ে শেয়ারবাজারে। পুঁজি হারান কয়েক লাখ বিনিয়োগকারী। পুঁজি হারিয়ে দিনের পর দিন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন তারা। এমনকি পুঁজি হারিয়ে আত্মহত্যার ঘটাও ঘটে।

ওই মহাধসের পর শেয়ারবাজার ঠিক করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী প্রচেষ্টা চালানো হয়। ২০১৪-১৫ এবং ২০১৭ সালে বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরে। কিন্তু সেসব ঊর্ধ্বমুখী ধারা ছিল সাময়িক। বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হতেই একধরনের বিক্রির চাপ বেড়ে যেত। সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বেশকিছু দুর্বল কোম্পানির আইপিও প্রবেশ করত। ফলে সামগ্রিকভাবে বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস স্থায়ী হতো না। ২০১০ সালের পর থেকে মূলত শেয়ারবাজার ধসের মধ্য দিয়েই গেছে। এর মধ্যে ২০১৯ সাল এবং চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের কাছে অনেকটাই গলার কাটায় পরিণত হয়। লোকসানে শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে অনেকে শেয়ারবাজার ছাড়েন। তবে এখন শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরায় বাজারে আবার নতুন নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন।

শেয়ারবাজারের বর্তমান চিত্র প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্চের পরিচালক মো. শাকিল রিজভী জাগো নিউজকে বলেন, শেয়ারবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিএসইসি সম্প্রতি বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানার পাশাপাশি বেশকিছু কোম্পানির আইপিও বাতিল করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন সাহসী ভূমিকা আগে দেখা যায়নি। এ কারণে বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। যার সুফল এখন দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজার যে পরিস্থিতিতে রয়েছে, ২০১০ সালের ধসের পর এত ভালো আবস্থা আর দেখা যায়নি। ২০১০ সালের পর বাজার কয়েকবার ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো সময় ছিল ২০১৪-১৫ সাল। কিন্তু সে সময় বাজারে বেশকিছু দুর্বল কোম্পানি আসে। যে কারণে বাজার ধরে রাখা যায়নি। সুতরাং বর্তমানে শেয়ারবাজার যে ফুরফুরে অবস্থায় রয়েছে, এটা ধরে রাখতে বিএসইসির সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ধরে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে বাজারে যাতে দুর্বল কোম্পানি আসতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং ভালো ভালো কোম্পানির আইপিও আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে বাজারের বর্তমান চিত্র দীর্ঘস্থায়ী হবে।

ডিএসই’র অপর পরিচালক রকিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বিএসইসির কার্যকর পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে পুঁজিবাজার খুব ভালো আবস্থানে রয়েছে। তবে এরপরও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীদের শিক্ষিত হতে হবে। তাদের অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে এবং অধিকার আদায়ে সচেতন হতে হবে। গুজবের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা উচিত হবে না। বিনিয়োগকারীরা শিক্ষিত হলেই বাজারের ভিত শক্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, গত ১০ বছরে শেয়ারবাজারে কোনো সুশাসন ছিল না। একের পর এক বাজে কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে। বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নিয়ে শেয়ারবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। যেসব নিরীক্ষক মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়ে শেয়ারবাজারে বাজে কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হতে সহায়তা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের শেয়ারবাজারে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে।

সানশাইন/২০ সেপ্টেম্বর/এমওআর

সেপ্টেম্বর ২০
১৩:৪৫ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

আবু সাঈদ রনি: সোনাদীঘি মসজিদের কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বইয়ের দোকান। নিম্নবিত্ত ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল এই পুরাতন লাইব্রেরী। মধ্যবিত্তরা যে যায় না ঠিক তেমনটিও না। কি নেই এই লাইব্রেরীতে? একাডেমিক, এডমিশন, জব প্রিপারেশনসহ সব ধরনের বই রাখা আছে সারি সারি সাজানো। নতুন বইয়ের দোকানের সন্নিকটে

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সানশাইন ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। রাবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর পদ সংখ্যা: ০১ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ফিজিওখেরাপি) পদ সংখ্যা: ০২ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ডেন্টাল) পদ সংখ্যা:

বিস্তারিত