Daily Sunshine

ইস্রাফিলের আসনে নৌকা চান ৩৪ নেতা

Share

নওগাঁ প্রতিনিধি: উপ-নির্বাচন হতে যাচ্ছে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনে। রাণীনগর ও আত্রাই এ দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ৫১, নওগাঁ-৬। প্রায় ১যুগ শাসন করার পর গত ২৭ জুলাই সাংসদ ইসরাফিল আলম মারা যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। এর আগে বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ওই এলাকার এমপি ছিলেন।

ইতোমধ্যে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের কয়েক জনের নাম শোনা যাচ্ছে এবং তারা দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। অনেকেই শুরু করেছেন আগাম নির্বাচনী গণসংযোগ, পথসভা, মিটিং ও সিটিং। তবে কে পাচ্ছেন নৌকা প্রতীক তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

এক সময়ের আতংকিত জনপদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলো জেলার রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা। সেই সময় এ জনপদে সর্বহারারা দিনে-দুপুরে মানুষকে জবাই করে হত্যা করতো। সর্বহারার অধ্যায় শেষ করতেই উত্থান হয় জেএমবি নামক বাংলা ভাই ও শায়খ আব্দুর রহমানের দলের। এখন অবসান হয়েছে চাদাবাজি, জবাই, হানাহানি ও রাহাজানি অধ্যায়ের।

জানা গেছে, ১৯৯১ ও ৯৬ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর। আওয়ামী তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা ওহিদুর রহমান। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ইসরাফিল আলমকে পরাজিত করে আলমগীর কবীর বিজয়ী হন। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষের দিকে আলমগীর কবির এলডিপিতে যোগ দেন। একই বছরে এলডিপি থেকে পদত্যাগ করেন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন ইসরাফিল আলম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির নেতা মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলু। এরপর ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীরকে পরাজিত করে বিজয়ী হন ইসরাফিল আলম। মূলত এ আসনটি চারবার বিএনপির অধীনে থাকলেও ২০০৮ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে।
এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে ইতেমধ্যেই দলীয় মনোনয়নপত্র তুলেছেন, তারা হলেন প্রয়াত সংসদ ইসরাফিল আলমের স্ত্রী পারভীন সুলতানা বিউটি, সাবেক সংরক্ষিত আসনের পরপর দুবারের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহীন মনোয়ারা হক, রানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও রানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হেলাল, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. পিযুষ কুমার সরকার, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, আত্রাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবাদুর রহমান, গোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জিপি অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান ফিরোজ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাসিম আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি ওহিদুর রহমানের পুত্র উদিয়মান নেতা অ্যাড. ওমর ফারুক সুমন, আত্রাই উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সিদ্দিকুর রহমান রাজার ছোট ভাই নাহিদ ইসলাম বিপ্লব, জেলা যুবলীগের সভাপতি খোদাদাদ খাঁন পিটু, সাধারণ সম্পাদক বিমান কুমার রায়, রেজাউল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান নুরুল, তোফাজ্জল হোসেন তোফা, দুলাল হোসেনসহ মোট ৩৪ জন।
প্রয়াত সাংসদ ইসরাফিল আলমের স্ত্রী পারভীন সুলতানা বিউটি বলেন এ আসনে আমি মানুষের কাছে পরিচিত মুখ। স্বামীর সাথে আমিও বিভিন্ন সময় এ দুই উপজেলার মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছি। যদি প্রধানমন্ত্রী আমাকে সুযোগ দেন তাহলে আমি আমার প্রয়াত স্বামীর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করবো ইনশাল্লাহ।

সাবেক সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহীন মনোয়ারা হক বলেন, আমি এ এলাকার সন্তান। ছোট বেলা থেকেই এ এলাকায় বড় হয়েছি। আমার নাড়ীর টান আছে। ১৯৯৬ সালে সংরক্ষিত আসনে প্রথম এমপি হওয়ার পরপর ২য় বার এমপি হওয়ার পর থেকে রাণীনগর ও আত্রাইবাসীর জন্য সাধ্যমত অনেক উন্নয়ন করেছি। এখনও করে যাচ্ছি। তাই প্রধানমন্ত্রী আমার সবকিছু বিবেচনা করে যদি আমার এলাকার মানুষদের সেবা করার সুযোগ দেন তাহলে আমি নির্বাচনে অংশ্রগ্রহণ করবো এবং বিপুল ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হবো। এ এলাকা রক্তাক্ত জনপদের এলাকা থেকে, আরও শান্তির এলাকা হিসাবে দেশের কাছে পরিচিত করব ইনশাল্লাহ।

রানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও রানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন, আমি এ এলাকার মানুষের পাশে অতীতে ছিলাম, এখনও আছি, ভবিষতেও থাকবো। আমি পরপর দুবার এ এলাকার মানুষের ভোটের মাধ্যমে উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। জনগণের সুখে দুখে তাদের সাথে আছি। কোন প্রকার দুর্নীতির ছোয়া শরীরে লাগায় নি। গত সংসদ নির্বাচনেও আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে নির্বাচন করার সুযোগ দেন তাহলে বিপুল ভোটের মাধ্যমে জয়ী হয়ে এ আসন উপহার দিব।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী বলেন আমি রাণীনগরের সন্তান। কর্ম আর রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমাকে রাজশাহীতে বসবাস করতে হলেও আমার সব কিছুই আমার এলাকার মানুষের জন্য। তাই দল যদি আমাকে মনোয়ন দেয় তাহলে আমি নির্বাচন করবো এবং শতভাগ বিজয়ী হবো বলে আশাবাদি।

জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. পিযুষ কুমার সরকার বলেন, আমি দীর্ঘদিন রানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলাম। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হবো।
গোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জিপি অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান ফিরোজ বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। ছাত্র অবস্থা থেকে আজ পর্যন্ত তার আদর্শে রাজনীতি করে আসছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব এবং বিপুল ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হবো।

নওগাঁ জেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা অ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশানের সভাপতি অ্যাড. খোদাদাদ খাঁন পিটু বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত জেলা যুবলীগের আহবায়ক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে বিপুল ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হবো।

জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বিমান কুমার রায় বলেন, আমি দীর্ঘদিন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে এবং বর্তমানে সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে জেলা যুবলীগের দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি যারা মনোনয়ন তুলেছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রার্থী। দল মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে রাণীনগর আত্রাই এলাকার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করব।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক উদিয়মান নেতা অ্যাড. ওমর ফারুক সুমন বলেন, দীর্ঘদিন যাবত রাণীনগর আত্রাই এলাকার মানুষের সুখে দুখে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষতেও থাকব। ভোট আসলে আওয়ামী লীগের অতিথি নেতারা এলাকায় আসে। আবার চলে যায়। তারা এলাকার কোন কাজ করে না।

এবারের বন্যায় কোন নেতায় বানভাসী মানুষের কাছে আসে নাই। এমনকি প্রয়াত এমপিও তাদের কাছে যায় নাই। আমি আমার সাধ্যমত যতটুকু পেরেছি তাই নিয়ে বানভাসী মানুষের পাশে থেকে বন্যা মোকাবেলা করেছি। মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি বিপুল ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ।

আত্রাই উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নাহিদ ইসলাম বিপ্লব বলেন, আমি রানীনগর আত্রাই এলাকার জনগণের পাশে থেকে রাজনীতি করে আসছি। দল টিকিট দিলে অবশ্যই বিজয়ী হবো, তাতে কোন সন্দেহ নেই।

রানীনগর আত্রাই এ দুই উপজেলা নিয়ে নওগাঁ ৬ আসন। ৩৪ জন যারা মনোনয়ন তুলেছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী রানীনগর উপজেলার ২৮ জন। আর আত্রাই উপজেলার ৬ জন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের লেবাস পরিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবি নেতা ও পূর্ব বাংলার কমিউনিষ্ট পার্টি লাল পতাকার কমান্ডারও রয়েছেন বলে এলাকার একাধিক সুত্রে জানা গেছে।

রাণীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন বলেন যদি প্রধানমন্ত্রী চান তাহলে আমরা তালিকা পাঠাবো। আমি আশাবাদি প্রধানমন্ত্রী এ অঞ্চলের জন্য স্বাধীনতার পক্ষের একজন সৎ, শিক্ষিত ও নির্ভিক মানুষকেই নৌকা প্রতীক দিবেন। প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দিবেন আমরা তার হয়েই কাজ করবো।

গত ২৭ জুলাই এ আসনের এমপি ইসরাফিল আলম মারা যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। আগামী ১৭ অক্টোবর এ আসনে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন।

সানশাইন/২৭ আগস্ট/এমওআর

আগস্ট ২৭
১৪:০৭ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নতুন রূপ পাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি

নতুন রূপ পাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের উদ্যোগে মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি নতুন রূপ পেতে যাচ্ছে। একই সাথে সোনাদীঘি ফিরে পাচ্ছে তার হারানোর ঐতিহ্য। সোনাদীঘিকে এখন অন্তত তিন দিক থেকে দেখা যাবে। দিঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে পায়ে হাঁটার পথসহ মসজিদ, এমফি থিয়েটার (উন্মুক্ত মঞ্চ) ও তথ্যপ্রযুক্তি

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সানশাইন ডেস্ক : করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে স্থগিত ছিল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ কয়েক মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পায়নি দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী। অংশ নিতে পারেনি কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেও। অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরির আবেদনে সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। তবে এ দুর্যোগকালীন

বিস্তারিত