Daily Sunshine

অরুণ পালের মূর্তি সাম্রাজ্য

Share

রোজিনা সুলতানা রোজি : বৃহষ্পতিবার শীতের বিকেলবেলা। রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার এলাকার গনকপাড়া মোড়। হঠাৎ দৃষ্টি যায় বৈষ্ণবসভা মন্দিরের ছাদের দিকে। সেখানে মাটির তৈরী একঝাঁক দেব-দেবী যেন এই শীতে রোদ পোহাতে বসেছে। তারা সূর্যের দিকে তাকিয়ে বিকেলের সোনারোদ গায়ে মাখছে। সাধারনত এরকম দৃশ্য সহজে চোখে পড়ে না। তাও আবার নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিরো পয়েন্ট এলাকায়। মৃৎশিল্প বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির পথে পা বাড়িয়েছে। কিন্তু কিছু সংখ্যক লোক এই শিল্পকে আঁকড়ে তাদের সংগ্রামী জীবনের জীবিকার চাকা সচল রেখেছেন। জীবিকার তাগিদে কখনো শিব, দুর্গা, স্বরসতী, কালী, আবার কখনো লক্ষীসহ বিভিন্ন দেবদেবী তৈরী এবং বিক্রি করেই জীবিকা চলে এদের।

কৌতুহল নিয়ে খোঁজ নিতেই দেখা মেলে এই দেব-দেবীর মূল মালিকের। এসব মূর্তি এবং তার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানালেন, তার নাম শ্রী অরুন পাল (৪০)। তিনি রাজবাড়ি জেলার কালোখালী থানার দামোকদিয়া গ্রামের মৃত নিতাই পালের ছেলে। পরিবারের সাত ভাইয়ের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ।
তিনি জানান, জীবিকার তাগিদে প্রায় ২০ বছর আগে সুদূর রাজবাড়ি থেকে ছুটে আসেন রাজশাহী শহরে। বর্তমানে তিনি নগরীর রেশমপট্টি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। পরিবারের সদস্য বলতে স্ত্রীসহ একমাত্র মেয়ে অনুশ্রীকে নিয়েই তার সংসার।

তার সাথে কথা বলতে বলতে মন্দিরে প্রবেশ করতেই মনে হলো মন্দিরের আঙিনা জুড়ে দেব-দেবীর আঁতুড়ঘর। কোথাও কাদা মাটি, কোথাও খড়, কাঠ, মূর্তি বানানোর কাঠের ও বাঁশের ফ্রেম। আবার ফ্রেমে বন্দি কারো হাত আছে মাথা নেই, কারো মাথা আছে তো হাত নেই। কেউ অর্ধেক আবার কেউ মাত্র শুকিয়েছে। কারো বা আবার সদ্য জন্ম হয়েছে। আবার কোথাও পড়ে আছে তাদের হাত, পা, হাতের আঙ্গুল, মাথাসহ ক্ষুদ্র ক্ষদ্র অঙ্গ-প্রতঙ্গ। আবার কেউ নিজের শরীরকে শক্তিশালী ভাবে পূর্ণতা দিতে মন্দিরের ছাদে বসে সুর্যের তাপ নিচ্ছে শরীরে।

অরুন পাল তার মূর্তির সাম্রাজ্য ঘুরে দেখাতে দেখাতে জানালেন, এই বৈষ্ণব সভা মন্দিরের প্রাঙ্গন জুড়েই তার এই মৃৎশিল্প বাণিজ্য। এর জন্য তার আলাদা করে ভাড়া দিতে হয়না কিন্তু দুর্গা পূজা ছাড়া বছরের প্রায় সকল পূজা উৎসবের সকল খরচ তিনিই করেন। মন্দিরের দেখভালসহ মেরামতের কাজ তিনি তার খরচেই করেন। এ ছাড়াও বাৎসরিক বড় উৎসব দুর্গা পূজাতেও তিনি সহায়তা করেন।

তিনি জানান, এই শিল্প বাণিজ্যের জন্য মাটি, খড়, কাঠ, বাঁশসহ সব উপকরনই তার বাইরে থেকে কিনতে হয়। এছাড়া প্রতিদিন প্রায় চার-পাঁচজন কারিগর রয়েছেন যারা এই মূর্তিগুলো তৈরী করেন। তাদের পারিশ্রমিক দিতে হয়।

তিনি আরো জানান, দীর্ঘ ২০ বছরের এই মৃৎশিল্প বাণিজ্যে তার বেশ কদর রয়েছে। রাজশাহী ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন তার কাছে মূর্তি কিনতে আসেন। মন্দির এবং বাসায় পূজার জন্য কেউ কেউ আবার আগে থেকেই অর্ডার দিয়ে যান। তিনি জানান, এক একটি পরিপূর্ণ মূর্তির ডিজাইন এবং সাইজের উপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারণ করা হয়। তার মূর্তির দাম প্রায় ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সাত-আট হাজার পর্যন্ত হয়ে থাকে। দুর্গা, লক্ষী এবং কালী পূজার সময় তার বেচাবিক্রি বেশি ভালো হয়ে থাকে।

তিনি জানান, একমাত্র এই মূর্তির ব্যবসাকে ঘিরেই তার জীবিকা। প্রতিদিন বেচাবিক্রি না হলেও সকল খরচ বাদে তার মাসিক আয় প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এ থেকে তার একমাত্র মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে সমাজে যেন প্রতিষ্ঠিত করতে পারে সে লক্ষেই নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও এ কাজ করেই জীবিকার চাকা সচল রাখবেন।এই মূর্তির ব্যবসা করে তার সংগ্রামী জীবন সংসার ভালোই চলছে বলে জানান অরুন পাল।

জানুয়ারি ০৩
২০:৫৪ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

কোয়ারেন্টিন ব্যর্থতায় আসতে পারে ভয়াবহ বিপদ

কোয়ারেন্টিন ব্যর্থতায় আসতে পারে ভয়াবহ বিপদ

সানশাইন ডেস্ক :  দেশে আশঙ্কাজনক হারে কোয়ারেন্টিনে থাকা মানুষের সংখ্যা কমছে। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, কোয়ারেন্টিন ব্যর্থতার কারণে আক্রান্ত বাড়ছে। আর পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মানুষকে কোয়ারেন্টিন না করতে পারার ব্যর্থতাকে ‘অ্যালার্মিং’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এমনিতেই সামনে শীতের মৌসুম। এ সময় রোগী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

প্রথম শ্রেণিতে নিয়োগ পাচ্ছেন ৫৪১ জন ননক্যাডার

প্রথম শ্রেণিতে নিয়োগ পাচ্ছেন ৫৪১ জন ননক্যাডার

|সানশাইন ডেস্ক: ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার নন-ক্যাডার থেকে প্রথম শ্রেণির বিভিন্ন পদে ৫৪১ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডার থেকে প্রথম শ্রেণির (৯ম গ্রেড) বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা

বিস্তারিত