Daily Sunshine

কার পাতা ফাঁদে পা দিলেন মন্ত্রী?

Share

কাজী শাহেদ : মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী বিদেশি বন্ধুদের জন্য তৈরি করা সম্মাননা স্মারকের সোনায় ভেজাল দিয়ে আলোচনায় এসেছিল এই মন্ত্রণালয়। তারপর সচিবদের সার্টিফিকেট জালিয়াতি। তদন্ত তো হলো, কিন্তু কিছু হয়েছে কি? জাতি আজো জানে না। হালে প্রকাশ করা হলো রাজাকারের তালিকা। এই তালিকা নিয়ে জাতি কি করবে? যখন স্বাধীনতাবিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা, মুক্তিযোদ্ধার তালিকা নিয়ে একের পর এক অপপ্রচার চালিয়ে জাতিকে বিভক্ত করছে, তখন এমন একটি তালিকা কোন্ উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশ করলো এটি খতিয়ে দেখা দরকার।

পেঁয়াজের দাম নিয়ে যে কারসাজি এখনো চলছে, তাতে যে সরকার অনেকটা বেকায়দায় তা স্পষ্ট। বিপুল সাজসজ্জা আর আভিজাত্যের মধ্যে থাকা আমাদের আইন-শৃংঙ্খলাবাহিনী সামান্য লবণ নিয়ে চালানো গুজব বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। লবণ নিয়েও এখন কথা বলতে হয় প্রধানমন্ত্রীকে। পেঁয়াজ-লবণের ধাক্কা সামলে ওঠার মতো সক্ষমতা তৈরি না হতেই রাজাকারের তালিকা প্রকাশ! সেই ধাক্কা যে আরো কঠিন হবে, তা অনুমেয় ছিল। কারণ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর এই গোষ্ঠীটি নানাভাবে, নানা পৃষ্ঠপোষকতায় শক্তিশালী হয়ে এখন এক মহীরূহ হয়ে উঠেছে। তাদের পাতা ফাঁদে কি পা দিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী?

২০০৭ সালে ১২ নভেম্বর, তখন সমকালে কাজ করি। সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি আর অপু ভাই (জাবীদ অপু) গেলাম দুর্গাপুরে। উদ্দেশ্য ছিল গণহত্যা নিয়ে কিছু কাজের। আমগাছী বাজারে চায়ের বিরতি। হঠাৎ করেই একজন বয়স্ক মানুষ আমার পিছু নিতে শুরু করলেন। কিছুটা ভয় পেয়ে অপু ভাইকে বললাম চলেন, এখান থেকে চলে যাই। দুর্গাপুর বাজারে গিয়েও ওই বয়স্ক মানুষটার দেখা। বাধ্য হয়ে তার কাছেই গিয়েই জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি আমাদের পিছু নিয়েছেন কেনো? কোনো উত্তর না দিয়েই পাল্টা প্রশ্ন, তুমি আলাউলের কেউ হউ। বললাম, আমার বাবা। এরপর মানুষটা জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, আমরা একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকায় অপারেশনও চালিয়েছি।’ পরে তার নামটা জানলাম, খলিলুর রহমান। আমগাছী এলাকার সবাই খলিল মুক্তিযোদ্ধা বলেই চেনেন তাকে। ওই এলাকায় যাওয়ার কারণ বলতেই তিনি নিয়ে গেলেন তখনকার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল করিম, বর্তমান কমান্ডার গণি বোখারির কাছে।

সদ্য বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতা ছেড়েছে। তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কম লোকেরই আছে। আর ওয়োহেদ মোল্লা তো টাকা, ক্ষমতা সবদিক থেকে ছিলেন ক্ষমতাশালী। এই রাজাকারের ক্ষমতার ভয় না পেয়েই ১৯৭১ সালের বিভিন্ন সময়ের অপকর্মের কথা জানালেন আমার বাবার সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধারা। ফিরে এসে মুক্তিযুদ্ধে আবদুল ওয়াহেদ মোল্লার কুর্কীতি তুলে ধরে প্রতিবেদন পাঠালাম সমকালে। আবেদ ভাই (আবেদ খান) তখন সম্পাদক। সিডরের পরের দিন ১৬ নভেম্বর অনেক খবরের ভিড়ে সেই প্রতিবেদন ছাপলেন ৬ কলাম শিরোনামে।

ঘটনাটি বলার কারণ হলো, এমন হাজারো মুক্তিযোদ্ধা আছেন, যারা রাজাকারদের চিহ্নিত করতে ভূমিকা রাখতে পারতেন। মুক্তিযোদ্ধারা ভয় পাননি, ক্ষমতার-টাকার। তাহলে মন্ত্রী কোন্ ভয়ে আপনি এমন তালিকা প্রকাশ করলেন-প্রশ্নই থাকছেই। রাজাকার রক্ষার চক্রান্ত, নাকি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র? রাজাকারের তালিকায় রাজাকার বাদ পড়ছে, মুক্তিযোদ্ধা ও বীর সংগঠকদের নাম আসছে! এ কোন গভীর ষড়যন্ত্র? কাদের কালো হাত নেপথ্যে? জাতির পিতার কন্যার দল ক্ষমতায়, স্বাধীনতা পদক নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী! তবু কেনো এমন তালিকা আসছে?

এখন বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় নেই, সামরিক শাসনের কবল থেকে কতো আগে মুক্ত স্বদেশ। টানা ১১ বছর মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বের দল ক্ষমতায়। এখন এই বিতর্কিত তালিকার দায় কাউকে দেয়া যাবে না। এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে আমাদের গৌরব ও রক্তমাখা আবেগ অনুভূতি ও জাতির ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণা যারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে। এটা রাজাকার রক্ষার ষড়যন্ত্র নাকি, শেখ হাসিনার সরকার বিরোধী চক্রান্ত? নাকি গোটা দেশ আওয়ামী লীগ হয়ে যাওয়ার পরিণতি? মন্ত্রী আজ যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসরদের এবং তাদের সন্তানদের মুখে উল্লাসের হাসি তুলে দিয়েছেন। এ অন্যায় যারাই করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। চেতনার বিশ^াস নিয়ে নয়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে দাবি করছি। লেখক : সভাপতি, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন

সানশাইন/১৮ ডিসেম্বর/ রোজি

ডিসেম্বর ১৮
২১:৫৯ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

আবু সাঈদ রনি: সোনাদীঘি মসজিদের কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বইয়ের দোকান। নিম্নবিত্ত ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল এই পুরাতন লাইব্রেরী। মধ্যবিত্তরা যে যায় না ঠিক তেমনটিও না। কি নেই এই লাইব্রেরীতে? একাডেমিক, এডমিশন, জব প্রিপারেশনসহ সব ধরনের বই রাখা আছে সারি সারি সাজানো। নতুন বইয়ের দোকানের সন্নিকটে

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সানশাইন ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। রাবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর পদ সংখ্যা: ০১ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ফিজিওখেরাপি) পদ সংখ্যা: ০২ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ডেন্টাল) পদ সংখ্যা:

বিস্তারিত