সর্বশেষ সংবাদ :

পবায় প্রশাসনের অভিযানে অবৈধ পুকুরখনন বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার: অবৈধভাবে পুকুর খনন করে আবাদি জমি ধ্বংসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পবা উপজেলা প্রশাসন। শনিবার পবা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গা ঢাকা দিয়েছে পুকুর খনন কাজের সাথে জড়িতরা।
জানা গেছে, সম্প্রতি পবা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে অবৈধভাবে পুকুর খনন করা হচ্ছে স্কেবেটার দিয়ে। এই এলাকায় ইটভাটাগুলোতে বিপুল পরিমাণে মাটির চাহিদা থাকায় পুকুর খনন লাভজনক খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে অনেকের কাছে। পুকুর খননের মাটি এবং তিন ফসলী জমির উপরি অংশের মাটি কেটে ইটভাটাগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। ইটভাটা মালিকদের প্রলোভনে পড়ে খনন সিন্ডিকেটের সদস্যসহ সাধারণ চাষীরাও মাটি কাটার মত আইন বিরোধী কাজে লিপ্ত হচ্ছেন।
সরোজমিন দেখা গেছে, উপজেলার বড়গাছী ও পারিলা ইউনিয়নের বেশকিছু গ্রামের পাশের মাঠে প্রায় ১৫টি স্পটে একে অপরের নাম ভাঙিয়ে পুকুরখননের মহোৎসব চালাচ্ছে। দিনের বেলায় খনন কাজ বন্ধ থাকলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে সারারাত চলে খনন কাজ। ফলে সারা রাত ধরে মাটি বহন করে নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন ইটভাটায়। এতে তিন ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি রাতব্যাপি ট্রাক্টর টলিতে মাটি বহন করায় এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, এই এলাকায় পুকুরখনন ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। ভাসুরের নাম অনেকেই জানলেও কেহ বলেন না। তেমনি অনেকেই জানেন কার শক্তিতে এবং কিভাবে ম্যানেজ করে এসব খনন হচ্ছে। কিন্তু মান-সম্মানের ভয়ে কেহ মুখ খুলবে না। আবার বলেও কোন লাভ হয় না। যেভাবেই হোক পুকুরখননকারিরাই জিতে যায়। যেকারণে পরবর্তীতে এই নিয়ে অনেক কটুকথা শুনতে হয় এবং বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
ওই এলাকার এক শিক্ষক বলেন, পুকুরখনন নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এবং খননকারিদের মাঝে চোর-পুলিশের খেলা চলে। এই খেলায় অজানা কারণে খননকারিরা বিজয়ী হয় এবং প্রশাসন হেরে যান। পাশাপাশি চিরস্থায়ী দুর্ভোগে পড়েন জনগণ। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের বাড়ি-ঘর এই এলাকায় না হওয়ায় দুর্যোগ-দুর্ভোগটা বুঝতেই চান না তারা। বর্তমানে সবচেয়ে বড় উপকারভোগি মানুষই এসব কর্মকর্তা। তবে পুকুরখননবন্ধে তিনি জনগণের সচেতনতা ও প্রতিরোধের বিষয়টিও বলেছেন।
জানা গেছে, রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদের নির্দেশে পবার বিভিন্ন স্থানে পুকুরখননবন্ধে অভিযান চালান পবা সহকারি কমিশনার ভুমি অভিজিত সরকার। এসময় তার সাথে ছিলেন সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সদস্য। বেশ কয়েকদিন থেকে চলছে প্রশাসনের অভিযান। গতকাল শনিবার বড়গাছী ইউনিয়নের বেতকুড়িতে পুকুর সংস্কারের নামে তিন ভাই খলিল, জলিল ও ওলিলের পুকুরে এবং একই ইউনিয়নের মতিয়াবিলে মাড়িয়ার মিজানের পুকুরে অভিযান চালানো হয়। সেখানে থাকা এস্তভেটর নষ্টসহ ব্যাটারী ভাংচুর করা হয়। তবে খননকারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভভ হয়নি। এছাড়াও একই দিনে ভালামের রাজুর পুকুরখনন বন্ধসহ মেশিন বিকল করা হয়। এরআগে ভালামে স্বপন, বড়গাছীতে মামুন, হাটগোদাগাড়িতে তুহিন ও আবুল কালামের পুকুরে অভিযান চালিয়ে খনন কাজ বন্ধ করা হয়েছে।
এদিকে অবৈধভাবে পুকুর খনন বন্ধের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর অবস্থানে এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ অভিযান চলমান থাকলে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এলাকার অনেকে।


প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৪ | সময়: ৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ