সর্বশেষ সংবাদ :

নিজের অপকর্ম ঢাকতে সংবাদ সম্মেলন করে আলোচনায় রয়েল

স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা :
বাঘার সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা রয়েল । তার নামে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। এসব মামলা থেকে বাঁচতে এবং নিজের অপকর্ম ঢাকতে এবার পুলিশের বিরুদ্ধে রাজশাহীর একটি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আলোচিত হয়েছেন তিনি। রয়েল এর অভিযোগ, পুলিশকে উৎকোচ না দেওয়ায় তার বাড়ির সামনে থেকে দু’টি মোটর সাইকেল তুলে এনেছে। প্রক্ষান্তরে পুলিশের দাবি, রয়েল মোটর সাইকেল ফেলে মাদক নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ওই মোটর সাইকেল দু’টি থানায় এনে পরিত্যাক্ত হিসাবে জি.ডি করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হযেছে।

 

বাঘা থানা পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, গত (১৪ মে) সকাল সাড়ে ১১ টার সময় বাঘা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস,আই) নুরুল ইসলাম সীমান্ত এলাকায় ডিউটি করছিলেন। এই বিষয়টা বুঝতে পেরে অত্র এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রয়েল (২৬)ও তার সহযোগী, পাকুড়িয়া গ্রামের বেলালের মোড় এলাকার দক্ষিন পাশে নদীতে নামার রাস্তায় দু’টি মোটর সাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। অত:পর মোটর সাইকেল মালিকের সন্ধান না পাওয়া দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোটর সাইকেল দু’টিকে থানায় এনে ঐ রাতে একটি জি.ডি করে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন দেন এবং পরদিন আদালতে আরো একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

 

 

এদিকে রয়েলে কোন কিছু তোয়াক্কা না করে, উল্টো পুলিশের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে দুর্ণীতির অভিযোগ করে এবং রাজশাহীর একটি প্রেস ক্লাবে গত ৭ জুন সকাল ১০ টায় তিনি একাই উপস্থিত হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে আলোচিত হন। এ সময় সাংবাদিকদের অনেক প্রশ্নের উত্তর তিনি দিতে পারেন নি বলেও সূত্র নিশ্চিত করেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘা থানার উপ-পরিদর্শক(এস.আই) নুরুল ইসলাম বলেন, রয়েল বাঘা থানার একজন চিহৃত মাদক ব্যবসায়ী। তার পিতার নাম মজিবর রহমান,বাড়ি সীমান্ত এলাকার জোত কাদিরপুর গ্রামে। সে দু’জন অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ তুলে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার কোন ভিত্তি কিংবা (সত্যতা)নেই। ঐদিন সীমান্ত এলাকায় আমি সহ সঙ্গীয় ফোস ডিউটি করেছি। অথচ তিনি অপর একজন পুলিশ কর্মকর্তা (এস.আই)শাহ নেওয়াজ কেউ অভিযুক্ত করে সংবাদ সম্মেলনে অনেক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। এতে এটায় প্রমানিত হয় যে,তার অভিযোগের কোন সত্যতা নেই।

 

 

সার্বিক বিষয়ে বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, মিথ্যে অভিযোগ করে কাওকে ফাঁসানো যায় না। রয়েল বাঘা থানার একজন তালিকা ভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। ঘটনার দিন সে ভারত থেকে দেশের অভ্যান্তরে ফেন্সিডিল প্রাচার করছিলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের অফিসার সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নিলে সে এবং তার সহযোগী দু’টি মোটরসাইকের ফেলে ,মাদক নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

ওসি আরো জানান, রয়েলের নামে-সর্বশেষ গত ১৭ মার্চ একশ বোতল ফেন্সিডিল ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে বাঘা থানায় একটি মামলা হয়েছে। আর এসব মামলা থেকে বাঁচতে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে (একাই)সংবাদ সম্মেলন সহ নানা কুৎসা রটাচ্ছেন। এসব বিষয়েও তার বিরুদ্ধে যথা-যথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেন ওসি ।

 

সানশাইন/সোহরাব


প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৪ | সময়: ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ | Daily Sunshine