সর্বশেষ সংবাদ :

রাজশাহীতে আমের দাম দ্বিগুণ

স্টাফ রিপোর্টার: গোপাল ভোগ শেষের দিকে। বাজারে উঠেছে ক্ষীরসাপাত। দুই এক দিনের মধ্যে আসবে ল্যাংড়া। বাজারে আম উঠলেও এবার আমের দাম বেশ চড়া। গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। ফলন কম হওয়ার কারণে এবার আমের দাম বেশি। এমন দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে হতাশা।
আমের ভরা মৌসুম। এরপরেও রাজশাহী বাজারে আমের সমাহার ঠিক জমে উঠেনি। আবার যে আম বাজারে উঠছে তার দাম চড়া। খুচরা বাজারে এক কেজি আম কিনতে খরচ হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত। পাইকারি বাজারেও উর্ধ্বমূখি আমের দাম।
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী, ১৫মে থেকে সব ধরনের গুটি আম বাজারে আসতে শুরু করে। এখন বাজারে গুটি আম নেই বললেই চলে। ২৫মে থেকে গোপালভোগ বা রানিপছন্দ আম বাজারে এসেছে। এখন তার শেষ সময়। ৩০মে থেকে লক্ষ্মণভোগ বা লখনা এবং হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি উঠেছে বাজারে। আমের এ ভরা মৌসুমেও কমছে না দাম।
রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের বাজার বানেশ্বর হাট। সেখানে দেখা গেছে, ছোট সাইজের গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। বড় সাইজের গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ। হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি বিক্রি হচ্ছে প্রণি মণ ৩ হাজার ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত।
গত বছরের সঙ্গে তুলনা করতে গেলে এবারে পাইকারি বাজারে আম দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর গোপালভোগ বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা মণ। ক্ষীরসাপাত আমের বাজার ছিল ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা।
খুচরা বাজারে গোপাল ভোগ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ক্ষীরসাপাত বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
রাজশাহীর বাজারে ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই থেকে বারি-৪ আম, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা, ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি ও ২০ আগস্ট থেকে ইলামতি আম উঠবে। এ ছাড়া কাটিমন ও বারি-১১ আম সারা বছর সংগ্রহ করা যাবে।
রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়া এলাকায় খুচরা বাজারে আম বিক্রি করছেন জুয়েল। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে আমের দাম বেশি। সে কারণে খুচরা বাজারে আমের দামও বেশি। দাম বেশি হওয়ার কারণে আম বিক্রিও কমে গেছে। নিত্য প্রয়োজনিয় দ্রব্যের দাম যেভাবে বেড়েছে তাতেই মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর উপরে বেশি দাম দিয়ে আম কিনে খাওয়া মানুষের বেশ কষ্ট হচ্ছে।
রাজশাহীর চারঘাটের আম চাষি সমশের জানান, তার ৪ বিঘার আমের বাগান আছে। কিন্তু গাছে আম নেই তেমন। তিনি ধারণা করছেন গত বছর যে পরিমাণ আম ধরেছিল তার চার ভাগের এক ভাগ আমও পাওয়া যায়নি এবার।
রাজশাহীতে এবার ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৩১৫ মেট্রিক টন।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক উম্মে ছালমা জানান, আবহাওয়াজনিত কারণেই এবার আমের মুকুল কম। মুকুলও দেরিতে এসেছে। লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।


প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৪ | সময়: ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর