সর্বশেষ সংবাদ :

স্বজনের হাত ধরে ভোট দিতে এলেন শতবর্ষী নারী ও প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: সখিনা বেওয়া (১০২)। বয়সের ভারে শরীর যেন নুয়ে পড়েছে, আগের মতো আর চলতেও পারেন না। চোখেও তেমন ভালো দেখতে পান না। তবুও ভাতিজা বউয়ের সঙ্গে ভোট দিতে কেন্দ্রে এসেছেন তিনি। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার মানইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন এ বৃদ্ধা। সখিনা বেওয়া বড়াইগ্রামের জোনাইল ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের মৃত জুরান প্রামাণিকের স্ত্রী।
অপরদিকে, দুপুর দেড়টার দিকে চান্দাই ইউনিয়নের গাড়ফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ডান হাত ভাঙ্গা চলন প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক জহুরা বেওয়ার (৭৫) সঙ্গে। তিনি মেয়ে কবিতা খাতুনের সঙ্গে লাঠিতে ভর দিয়ে ভোট দিতে এসেছেন। ডান হাত ভাঙ্গা হওয়ায় তিনি নিজের ভোট নিজে দিতে পারেননি। তার পক্ষে তার মেয়ে ভোট দিয়ে দিয়েছেন। তিনি গাড়ফা গ্রামের মৃত সবের আলীর স্ত্রী।
জানা যায়, সখিনার বেওয়ার স্বামী জুরান প্রামাণিক ৬ বছর আগে মারা যান। এরপর থেকে বৃদ্ধা সখিনা তার বড় ছেলের সঙ্গে থাকেন। জীবনে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে কতবার যে ভোট দিয়েছেন, তার হিসেব মনে নেই। সামনে নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না তা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি এ বৃদ্ধা।
তার ভাতিজা বৌ শায়না বেগম বলেন, আমার জেঠি শাশুড়ির তিন ছেলে। তিনি কোন রকমে চলাফেরা করতে পারেন। চোখেও দেখতে পান কম। বাড়ির বাইরে গেলে অন্যের সাহায্য নিয়ে চলাচল করেন। জেঠি শ্বাশুড়ি ভোট দেবেন। তাই তার ইচ্ছায় তাকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছি। তিনি নিজ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে খুশিও হয়েছেন।
ভিক্ষুক জহুরা বেওয়ার মেয়ে কবিতা খাতুন জানান, তিন বছর আগে ট্রাকের ধাক্কায় তার মায়ের ডান পা ভেঙ্গে যায়। এরপর থেকে তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে চলাচল করেন। কিছুদিন আগে আবার বারান্দা থেকে নামতে গিয়ে পড়ে গিয়ে ডান হাত ভেঙ্গে যায় তার। চার ছেলে ও তিন মেয়ে তার। তবে কেউই তাকে না দেখায় বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে জীবনযাপন করেন তিনি। নির্বাচনে তিনি ভোট দিতে চাওয়ায় সাথে করে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন তিনি। কেন্দ্রে তার পছন্দের প্রার্থীর নাম বললে মেয়ে কবিতা খাতুন সিল দিয়ে দিয়েছেন।
প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক জহুরা বেওয়া বলেন, টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় আমি এখন প্রতিবন্ধী, লাঠিতে ভর দিয়ে চলাচল করি। তার উপর আবার হাতটা ভেঙ্গে গেছে। তারপরও কেন্দ্রে এসেছি, কারণ ভোটটা আমার অধিকার। জীবনে আর ভোট দিতে পারবো কি না জানি না। তাই মেয়ের সাহায্যে কেন্দ্রে এসে ভোট দিলাম। ভোট দিয়ে অনেক ভালো লাগছে।


প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২৪ | সময়: ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ