সর্বশেষ সংবাদ :

গেরহার্ড পিটারকে নিয়ে বাংলাদেশের ‘ইউরোপ স্বপ্ন’

স্পোর্টস ডেস্ক: জার্মানির কোচ গেরহার্ড পিটার এই দেশের হকিতে নতুন কোনও নাম নয়। ১৫ বছর আগে প্রথম বাংলাদেশ দলের কোচ হয়ে কাজ করেছিলেন। এরপর মোহামেডান ও মেরিনার ইয়াংসের কোচও ছিলেন। আবার পিটারের ওপর আস্থা রেখেছে হকি ফেডারেশন। তুলে দিচ্ছে বাংলাদেশ হকির দায়িত্ব। টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ছাড়াও জাতীয় দলের কোচের ভূমিকায় দেখা যাবে বর্ষীয়ান কোচকে। আজই সংবাদমাধ্যমের সামনে নতুন করে পরিচিত করা হয়েছে পিটারকে। সেই সঙ্গে তাকে ঘিরে দেশের হকি এগিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হলো।
বাংলাদেশে কাজের সূত্রে পিটার এখানকার প্রায় সবকিছু জানেন। তার অভিজ্ঞতাই এখানে নতুন করে কাজ পেতে সহায়তা করেছে। আপাতত হকি ফেডারেশন এক বছরের চুক্তি করতে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদ বলেছেন, ‘আমাদের একটা পরিকল্পনা হলো চার থেকে পাঁচ বছর পর ছেলেদের কোথায় দেখতে চাই, কীভাবে কাজ করলে দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে এশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবো, অলিম্পিকে পৌঁছাতে পারবো এবং বিশ্বকাপে নাম লেখাতে পারবো- এসব নিয়ে অনেক দিন ধরেই গেরহার্ডের সঙ্গে কথা হচ্ছে। তার পরিকল্পনার সঙ্গে আমাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনেকটাই মিলে যাওয়ায় আমরা তাকে নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।’
পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘পাঁচ মাস ইউরোপে আমাদের জাতীয় দলের ক্যাম্প হবে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলার পাশাপাশি সেখানকার বিভিন্ন লিগ যেমন জার্মান লিগ, হল্যান্ড লিগ, পোল্যান্ড লিগে আমাদের খেলোয়াড়দের বিভিন্ন ক্লাবে খেলানোর ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন খেলোয়াড় নিয়মিত হকি চর্চার মধ্যে থাকবে। যে চর্চাটা থাকাকালে প্রতি সপ্তাহে দল হিসেবে অনুশীলন করবো। আর বিভিন্ন দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবো। পাশাপাশি বয়সভিত্তিক দলগুলো নিয়ে কাজ হবে।’
পিটার বাংলাদেশে ফিরতে পেরে ভীষণ খুশি। আট বছর পর বাংলাদেশে এসে নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার পর জার্মান কোচের কথা, ‘এখানে অভিজ্ঞতা ও মানসিকতার চর্চা খুব বেশি হয় না। বাংলাদেশকে অনেক বেশি ম্যাচ খেলতে হবে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপক্ষের সঙ্গে। এবং প্রতিপক্ষ হতে হবে শক্তিশালী। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের সঙ্গে খেলতে হবে, কারণ তারা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক ওপরে। ওমানের সঙ্গে খেলা মানে সমমানের একটি দলের সঙ্গে খেলা। এরকম ম্যাচ খেলে কোনও লাভ নেই। কেবল সময়ের অপচায়। বাছাইপর্ব নয়, আমাদের চূড়ান্তপর্বে খেলার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। এটাই হতে হবে লক্ষ্য।’
ইউরোপে আবার অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার স্বপ্ন দেখিয়ে পিটার বলেছেন, ‘জার্মানিতে আলাদা আলাদা কোচের অধীনে খেলার সুযোগ পাবে। এই খেলোয়াড় যারা জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করবে, তারা পাঁচ মাস টানা জার্মানিতে লিগ খেলার সুযোগ পাবে। অন্য খেলোয়াড়দের বেলায় যেটা হবে, জার্মান লিগ খেলে ফেরা খেলোয়াড়রা ওদের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ও জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলবে। তারা অন্যদের কাছে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবে। এভাবেই অন্যরাও উন্নতি করবে। এখানে বিকেএসপিতে হকি চর্চা হয়। তাছাড়া অনূর্ধ্ব-২১ দলও আছে। আমার দুজন সহকারী কোচ থাকবে। যারা আমার কোচিং দর্শন নিয়ে কাজ করবে। আমি কিছু অনুশীলনের পন্থা তাদের শিখিয়ে দিবো, যেটা কাজে লাগিয়ে তারা সঠিক উপায়ে খেলাটা শেখাবে খেলোয়াড়দের।’
হকি ফেডারেশন চাইছে, পিটারের কাছ থেকে সর্বোচ্চটা নিতে। এখানে আবাসনসহ অন্য সবকিছুর ব্যবস্থা করতে পারলে তখন সাত মাস বয়সভিত্তিক পর্যায়ে কাজ হবে। পিটারকে সারা দেশে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা। যেখানে ন্যুনতম হকি হয়, সেখানেই তিনি যাবেন, হকি উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবেন। তবে আপাতত পিটারের বেতন ফেডারেশনের কর্মকর্তারাই দিচ্ছেন।


প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২৪ | সময়: ৫:২০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ