সর্বশেষ সংবাদ :

রাত পোয়ালেই পবা ও মোহনপুরে ভোট

স্টাফ রিপোর্টার: রাত পোয়ালেই রাজশাহীর পবা ও মোহনপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কয়েকদিন থেকেই ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে ভোটের আমেজ। প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকরা আদাজল খেয়ে কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলেছে সভা ও গণসংযোগ। তবে প্রচারণার শেষ দিনে প্রচারনায় বাগড়া দেয় ঘুর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব।
এই নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারনার শেষ দিন ছিলো সোমবার। রোববার দিবাগত ভোররাত থেকে সোমবার সারাদিন পুরোদেশের ন্যায় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ঝরতে থাকে। এতে প্রার্থীদের কাংখিত প্রচার-প্রচারনা ও গণসংযোগ বিঘ্ন হয়। এরপরও দেখা দেয় মোবাইল বিড়ম্বনা। প্রায় সারাদিনই মোবাইল নেটওয়ার্ক যন্ত্রণা দেয় যোগাযোগে।
এদিকে পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পওয়া গেছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২০ জন মনোনয়ন দাখিল করেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৮ জন মনোনয়ন দাখিল করেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে (পুরুষ) ৮ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান ৪ জন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। এছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাহার না কররেও ভোটের লড়াই থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন সাইফুল বারী ভুলু।
ভোটারের সাথে কথা বলে জানা গেছে ভোটের মাঠে চেয়ারম্যান পদে পাঁচ প্রর্থী থাকলেও মূল লড়াই হবে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ফারুক হোসেন ডাবলু (আনারস), জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদ আলী খান (মটরসাইকেল), পবা উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এমদাদুল হক এমদাদ (ঘোড়া) মধ্যে।
এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নাই। তাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা প্রার্থী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা নেতায় নেতায় বিভক্ত হয়ে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। প্রার্থীরাও যে যার মতো নিজ নিজ বলয়ে নেতা-কর্মীদের টেনে নিচ্ছেন। তাতে কর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ছেন।
নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত কিংবা অন্য দলের কোন নেতা প্রার্থী হননি। ফলে এবারের উপজেলা নির্বাচন হবে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা প্রার্থী হলেও মূলত লড়াই হবে ত্রিমুখী। এরা হলেন ফারুক হোসেন ডাবলু (আনারস), ওয়াজেদ আলী খান (মটরসাইকেল) ও এমদাদুল হক এমদাদ (ঘোড়া)-এমনটাই মনে করছেন ভোটাররা।
পবা উপজেলা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের চারিদিকে বেষ্টিত ৩৩৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৫৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ এক লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৬ জন এবং মহিলা এক লাখ ৮২ হাজার ৪৬১ জন। গত ২ মে বৃহস্পতিবার অনলাইনে মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল। ৫ মে রবিবার মনোনয়ন পত্র বাছাইয়ের তারিখ। ০৬-০৮ মে সোমবার-বুধবার আপিল। আগামী ২৯ মে বুধবার সকাল ৮ টা হতে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ব্যালট এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলায় ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৪টি, ভোট কক্ষের সংখা ৬২৬টি, মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৬০ হাজার ৮৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৩০ হাজার ৯০১ জন ও মহিলা এক লাখ ২৯ হাজার ৯৩৪ জন এবং হিজড়া ৩ জন।
অপরদিকে মোহনপুর উপজেলাতেই চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থীর লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এখানেও পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মুল লড়াইয়ে উঠে এসেছেন এনামুল হক (ঘোড়া) আল-মোমিন শাহ গাবরু (কাপ-পিরিচ) ও আফজাল হোসেন বকুল পেয়েছেন (আনারস)। ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে এই উপজেলা পরিষদ গঠিত। ভোটার সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৪৫ হাজার। ৪৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৪ | সময়: ৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ