সর্বশেষ সংবাদ :

নওগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীর উপর হামলা, অপর প্রার্থীর ছেলে আটক

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে (কৈ মাছ) প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী এবাদুর রহমান। ওই হামলায় এবাদুর রহমানের ভাই-ভাতিজাসহ ৪ জন আহত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলাা সাহেবগঞ্জ নির্বাচনী প্রচার অফিসে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি। এর আগে শুক্রবার রাতে উপজেলার জয়সারা আব্বাসের মোড় নামকস্থানে এই ঘটনা ঘটে।
এদিকে রাতেই থানায় মামলা দায়ের করা হলে প্রতিদ্বন্দ্বী কাপ পিরিচের প্রার্থী মমতাজ বেগমের মমতাজ বেগমের ছেলেসহ ৮জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে এবাদুর রহমানের মুখপাত্র শহিদুল ইসলাম বাবু বলেন- শুক্রবার রাতে উপজেলার জয়সারা আব্বাসের মোড়ে কৈ মাছ মার্কার প্রার্থীর ভাই, ভাতিজাসহ তার কর্মী সমর্থকরা নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।
এসময় প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী মমতাজ বেগমের (কাপ-পিরিচ প্রতিক) ছেলে রাব্বীর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন সন্ত্রাসীর একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে বধরক মারপিট করতে থাকে। এসময় জয়সারা গ্রামের লোকজন ছুটে আসলে তারা হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
হামলায় প্রার্থী এবাদ প্রামানিকের ভাই শহিদুল ইসলাম, ভাতিজা মনিরুজ্জামান রনি, কর্মী জিহাদ হোসেন, শাহাদাত হোসেন আহত হয়। পরে আহতদের স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। এর মধ্যে শহিদুল ইসলাম ও রনির অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন- কৈ মাছ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী এবাদুর রহমান একটানা তিন তিনবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষানিত্ব হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মমতাজ বেগমের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিচারের দাবি জানানো।
এ বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী মমতাজ বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান- প্রার্থী এবাদের লোকজন টাকা নিয়ে গেছে এমন খবরে তার লোকজন জয়সারা যায়। সেখানে তার কর্মীকে এবাদের ভাতিজা রনি মারপিট করে। এরপর রনিকেও কয়েকটা বারি দিয়েছে। এ ঘটনার জের ধরে তার ছেলে রাব্বী এবং সমর্থকদের মারপিট করে এবং একটি মোটরসাইকেল ভেঙ্গেছে। এতে তার পক্ষের আহাদ, আপু ও আশিক আহত হয়।
আহতদের আত্রাই হাসপাতালে ভর্তি করালে সেখানে রাতে দেখতে গেলে ছেলের বউ কামনা বিবিকে প্রার্থী এবাদুর রহমান মারপিট করেছেন এবং নানা অশ্লীল কথা বলেছেন। এছাড়া হাসপাতাল গেটে তিনি নিজেও হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মমতাজ বেগম। তবে তার পক্ষের লোকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
থানা পুলিশ জানায়, হামলার ঘটনায় রাতেই প্রার্থী এবাদুর রহমানের ভাই সাজেদুর রহমান বাদী হয়ে ১৭জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৫ থেকে ৬জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় প্রার্থী মমতাজ বেগমের ছেলে শফিকুজ্জামান রাব্বীসহ উপজেলার গুড়নই গ্রামের তহিদুল ওরফে ইমান আলী ও হাফিজ উদ্দীন, সাহেবগঞ্জ মোল্লাপাড়ার আশিক রহমান, জগদাস গ্রামের আশরাফুল ইসলাম ও শহিদুল সরদার, চকবিষ্টপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও মোজাফ্ফর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃতদের শনিবার আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। এছাড়া মমতাজ বেগমের এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে অবশ্যই ক্ষতিয়ে দেখা হবে।


প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৪ | সময়: ৪:২৮ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ