মহানগর জিআরও অফিসে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ

শেখ রহমত উল্লাহ: মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিচারিক কার্যক্রমের অন্যতম অংশ মহানগর আদালতের জিআরও অফিস। যেখানে মহানগর এলাকার বিভিন্ন থানার মামলার রেকর্ড সংরক্ষণ, আসামীদের সাময়ীক হাজতখানায় রাখা এবং জব্দকৃত মালামাল সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। আর এ সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় কোর্ট জিআরও অফিসের মাধ্যমে। প্রচলিত নিয়মে এমনটি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে রাজশাহী মহানগর জিআরও অফিসে সম্পূর্ণ বিপরিত চিত্র দেখা যায়। রাজশাহী মহানগরীর ১২টি থানার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জিআরও অফিস থাকলেও নেই নিজস্ব কোন বসার যায়গা। রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য রেকর্ড রুম নেই, আসামীদের জন্য হাজতখানা নেই এবং জব্দকৃত মালামাল সংরক্ষণের জন্য নেই কোন মালখানা। নেই এর বৃত্তে বন্দী দশা পার করছে মহানগর আদালতের জিআরও অফিস।
রাজশাহী মহানগর আদালতের জিআরও অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী জেলা প্রশাসকের বরাদ্দ দেয়া একটি কক্ষের দুই তৃতীয় অংশে গাদাগাদি করে মহানগর আদলতের অধিভূক্ত ১২টি থানার অফিসার ও সহকারীগণ মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন যুগের পর যুগ। বাকী ১ অংশে তৈরী করা হয়েছে আসামীদের জন্য অস্থায়ী হাজতখানা। আর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রবেশ পথের সিঁড়ি ঘরের নিচে ছোট্ট একটি রেকর্ড রুম আর বারান্দায় স্তুপাকারে রাখা হয়েছে জব্দকৃত আলামত। জেলা প্রশাসকের বরাদ্দ দেয়া এই ২টি কক্ষেরও লিখিত কোন দলীল রাজশাহী মহানগর কোর্ট ইন্সপেক্টরের কাছে নেই। বিভিন্ন কোর্টের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নারী-পুরুষ মিলে পুলিশের ১২২জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করে আসছেন এই জিআরও অফিসে। তাদের ব্যবহারের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত কোন সৌচাগারের ব্যবস্থা নেই অফিসটিতে। জরুরি প্রয়োজনে হড় হামেশাই বিপাকে পড়তে হয় এখানে কর্মরত: পুলিশ সদস্যদের।
রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন থানার মামলায় জব্দকৃত টাকা সংরক্ষণের জন্য সিন্ধুক বা অন্য কোন ব্যবস্থা না থাকায় যত্রতত্র টাকা রেখে দেয়া হয়। ফলে টাকার সঠিক সংরক্ষণের অভাবে প্রায় ১০ লাখ টাকা পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানা যায়। আবার আইনী জটিলতার কারণে এই টাকাগুলো রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ারও কোন ব্যবস্থা নেই। বিভিন্ন সময় আদালতের কাছে আবেদন করেও এ ব্যাপারে কোন সমাধান মেলেনি বলে জিআরও অফিস সূত্র জানায়। রাজশাহী মহানগর আদালতের বিচাররিক এলাকার মামলার তুলনায় যায়গার সংকুলান না হওয়ায় জিআরও অফিসে জব্দকৃত যানবাহন রাখা সম্ভব হয়না। মহানগরীর বিভিন্ন থানায় জব্দকৃত মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহন রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হতে দেখা যায়।
ভূক্তভোগী আবু বক্কর বলেন, রাজশাহী মহানগরীর একটি মামলায় আমার অটো রিকশাটি পুলিশ জব্দ করে। আইনি প্রক্রিয়া মেনে সেটি নিজ জিম্মায় নিতে প্রায় ৩ মাস সময় লেগে যায়। গাড়িটি বুঝে নেয়ার পর টায়ার টিউব নষ্ট অবস্থায় পাই। আমার নতুন অটো রিকশাটি রোদে পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। পরে সেটি ভাঙড়ির দোকানে বেচে দেয়ার মতো অবস্থা হয়।
রাজশাহী কোর্ট জিআরও অফিস সম্পর্কে এডভোকেট মামুন অর রশিদ জন বলেন, এই অফিসটির নিজস্ব কোন ঠিকানা না থাকায় আমাদের নানা জটিলতার সম্মুখিন হতে হয়। জায়গার অপ্রতুলতার কারণে মামলা শেষ হবার পূর্বেই জব্দকৃত আলামত কিছু অংশ রেখে বাকী অংশ ধ্বংস করা হয়। এতে করে ধ্বংসকৃত আলামত নিয়ে আইনজীবীদের মনে এক ধরনের ধোয়াশা থেকে যায়।
এ সম্পর্কে রাজশাহী মহানগর কোর্ট ইন্সপেক্টর আব্দুর রফিক বলেন, মেট্রোপলিটন এলাকার নিজস্ব কোন আদালত ভবন নেই। ডিসি অফিসের বরাদ্দ দেয়া ২টি কক্ষে নারী-পুরুষ মিলে পুলিশের ১২২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী গাদাগাদী করে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আমাদের এই দুরাবস্থার বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতি এবং মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত জানিয়েছি। এতেও কোন ব্যবস্থা হয়নি। ভবিষ্যতে কি হবে আমরা বলতে পারি না।


প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৪ | সময়: ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ